পল্লবী ব্যানার্জি
পাঞ্জাব কিম্বা পিপীলিকা, ডানা যারই গজাক, তা ছেঁটে দেওয়াই বড়কর্তাদের অবশ্য কর্তব্য। আর তাই, উড়তা পাঞ্জাবের পেছনে আদা ছোলা খেয়ে পড়ে গেছেন সেন্সর বোর্ডের কর্তা, মোদীকাকার কর্তাভজা ভাইপো শ্রী পহলাজ নিহালনি। সেন্সর বোর্ড একখানা লম্বা চিঠিতে উড়তা পাঞ্জাব-এর সিনেমাওয়ালাদের কাছে ১৩টা সম্পাদনা চেয়েছে যা গুণে গেঁথে দেখলে প্রায় ৯০খানা কাট। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিনেমার সংলাপ এবং দৃশ্যের মধ্যে থেকে পাঞ্জাব এবং ওই রাজ্যের আরও কয়েকটা জেলার নাম তুলে নিতে হবে। কেন? কারণ সামনে পাঞ্জাবের বিধানসভা ভোট এবং সেখানে বিজেপির বন্ধুদল অকালি দল কে সমানে সমানে টক্কর দিতে উঠেপড়ে লেগেছে আপ এবং কংগ্রেস। আর এই গরম বাজারে আচমকা পাঞ্জাবের ওড়াউড়ি নিয়ে সিনেমা বানিয়ে বাজারে ছাড়লে ব্যালট বাক্সে মানে ইভিএম-এ তার খারাপ প্রভাব পড়তেই পারে।
পাঞ্জাব কেন উড়ছে?
রেড বুল নামক ক্যাফেন পানীয় তাদের বিজ্ঞাপনে দাবী করে থাকে, যে ওটা পান করলে আপনার ডানা গজাবে। পাঞ্জাব অবশ্য রেড বুল খেয়ে ওড়েনি। মূলত বর্ডারের ওপারের পাকিস্তান থেকে আসা কোকেন, হেরোইন চরস, আফিম, গাঁজার হাওয়ায় ভর দিয়েই পাঞ্জাব উড়ে চলেছে। সরকারি বেসরকারি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তথ্য বলছে পাঞ্জাবের যুবসমাজের মোটামুটি সত্তর শতাংশের বেশি ড্রাগের কবলে পড়ে গেছে। গত দু বছরে ড্রাগের সমস্যার আপাত মোকাবিলায় ব্যপক ধরপাকড়ও করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। কিন্তু সেইসব এফআইআর-এর তালিকা ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে যারা ধরা পড়েছে তাদের অধিকাংশই ড্রাগ সেবক কিম্বা ছোট মাপের দালাল। আসল বড় বড় মাছ যারা ড্রাগের পয়সা বাড়ি গাড়ি হাঁকিয়ে ফেলছে তাদের টিকি ছোঁয়ার কোনও ইচ্ছে এবং হয়তো ক্ষমতাও পুলিশের নেই।
এ কথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না, এই তথ্য ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে খুবই লজ্জাজনক। আর তাই সরকারে ক্ষমতায় থাকা দল উঠেপড়ে লেগেছে যাতে বিশ্ব সংসারের কাছে পাঞ্জাবের এ হেন লজ্জাজনক ছবি না পৌঁছয়।
একই প্যাটার্ন ফিরে ফিরে আসে
সত্য গোপন করে অথবা বলা ভালো সত্য কেটেছেঁটে তাতে নানারকম পুলটিস লাগিয়ে বিশ্বের দরবারে পরিবেশন করায় নিহালনির মোদীকাকা বেশ দঢ়। কীরকম, সেটা একটা ছোট উদাহরণ না দিলে বোঝাতে পারব না। ২০১১ সালে নরেন্দ্র মোদীর ব্রেনচাইল্ড, বঁড়শিতে শিল্পপতি গাঁথার মহামেলা 'ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সামিট'-এ অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। এই সামিট প্রতি বছর গান্ধীনগরে অনুষ্ঠিত হয়। সামিট শুরু হবার কিছুদিন আগে থেকেই আমাকে মেলাপ্রাঙ্গণে যাতায়াত করতে হচ্ছিল। সেই সময়ে লক্ষ করেছিলাম রাস্তার দুপাশে সার সার ঝুপড়ি। প্লাস্টিক, তেরপল, প্যাকিং বাক্স, পাতার ছাউনিতে সংসার। সামিট শুরু হবার ঠিক আগের দিন সকালে ঐ রাস্তা দিয়ে যাবার সময় হঠাত খেয়াল করলাম একটাও ঝুপড়ি নেই। দু সেকেন্ড লেগেছিল বুঝতে, যে রাস্তার দু পাশে ঠিক ফুটপাথ যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে প্রায় আট ফুট উঁচু প্যান্ডেলের দেওয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে। আর এই এক ফর্মুলায় প্রতিটা রাস্তা মুড়ে ফেলা হয়েছে। সত্যিই তো, দেশ বিদেশের শিল্পপতি, নেতা নেত্রীদের তো আর গুজরাটের রাস্তায় থাকা গরীব লোকের মুখ দেখতে দেওয়া যায় না! আর পহলাজ নিহালনি যেহেতু মোদীকাকার সুযোগ্য এবং আশীর্বাদধন্য ছাত্র, তিনি এই পথে চলবেন এতে আর আশ্চর্য্য কী?
The most popular blog of our bi-monthly magazine (একক মাত্রা) in Bangla on contemporary socio-economic and cultural issues.. মগজে দিন শান/ নয়তো মিলিয়ে যান... Also visit our online version: https://www.ekakmatra.in
Friday, 10 June 2016
Saturday, 28 May 2016
বিষয় পশ্চিমবঙ্গ
নতুন সরকার নতুন পর্ব
অনিন্দ্য ভট্টাচার্য
এখন দু-তিনটি বিষয় মনে হচ্ছে। যে কণ্টকহীন গুরুদায়িত্ব মমতার সরকারের ওপর অর্পণ করলেন এ রাজ্যের মানুষ তার ফলাফল কী দাঁড়াবে। কারণ, এবারে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে এবং বিরোধীরা কার্যত নিধিরাম সর্দার’এ পরিণত হয়েছেন। তাহলে কি শাসককুল এখন এই খোলা মাঠ পেয়ে যা খুশি তাই করবেন? আবারও বলি, বাস্তবতার নিরিখে এমনতর ভাবার কোনও কারণ নেই; এটা একটা অতিকথা যে তৃণমূল ধান্দাবাজ ও সিন্ডিকেট-নির্ভর একটি পার্টি যার কোনও নিয়মনীতি বা আদর্শ নেই। বরং এটা অনুধাবন করতে হবে, তৃণমূল ও মমতা এক নির্দিষ্ট সময়ের প্রেক্ষিতে স্বতঃস্ফূর্ত জনজোয়ারের ফসল, একটি স্টেটমেন্ট এবং প্রান্তিক মানুষের অন্তর্নিহিত আকাঙ্ক্ষা। একে অতিক্রম করার সাধ্য তৃণমূল দলেরও নেই। যেদিন তা ঘটবে সেদিন ইতিহাসের অন্য এক বয়ানের সূত্রপাত হবে। মানুষের স্বতঃসারিত আবেগ, স্বপ্ন ও সম্মিলিত চৈতন্যে তৃণমূলের বিস্তার; যে কারণে অন্য দল ভেঙ্গে আসা নেতা-কর্মীরা, নবাগত পেশাদার বা ব্যক্তিরা, সাধারণ ভাবে কাজেকম্মে পারদর্শী ও সামাজিক মানুষেরা তৃণমূলে প্রবেশাধিকার পান এবং অবস্থা বিশেষে তাঁদের কেউ কেউ লাইমলাইটে চলে আসেন, নির্বাচনে দাঁড়ানোর টিকিটও পান বা বিশেষ গুরুত্বের কোনও কাজ। এটাই একটা গণ পার্টির বৈশিষ্ট্য এবং প্রকারান্তরে তলা থেকেই জনমতের চাপে এর গঠন, বিস্তার ও লয়। তা বলে এমনটা ভাবার কারণ নেই যে দলটি ও এদের নেতারা একেবারে ধোয়া তুলসিপাতা। বরং সমাজের ক্লেদ, হিংসা, সঙ্কীর্ণতাও প্রতিফলিত হয় এদের কার্যকলাপে, সমাজের সুদিকগুলির সঙ্গেই।
এবার প্রশ্ন, আগামী পাঁচ বছরের যাত্রাপথটি কী ও কেমন? আপাতত এটুকুই বলা যায়, নির্মম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার ফলে খুব যে বিপদে পড়ে গেল মানুষ, তেমন ভাবনাটা অমূলক বলেই মনে হচ্ছে। জনকল্যাণের মধ্য দিয়ে অগ্রগতি ও বৃদ্ধির হার বাড়ানোর যে পথ মমতা নিয়েছেন, বিপুল জনাদেশ সেই পথেই এগোতে তাঁকে নিদান দিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রশ্নটা কীভাবে মোকাবিলা করবে এই সরকার তা দেখার কৌতূহল রইল। শুধুমাত্র বিরোধীদের মোকাবিলা করার প্রশ্ন নয়, সাধারণ মানুষও অনেক প্রশ্ন তুলতে পারেন, জবাব চাইতে পারেন- সেইগুলোকে কীভাবে এই সরকার সামাল দেবে তা দেখতে হবে। কারণ, এই প্রশ্নে গতবার এঁদের ভূমিকা খুব একটা ভাল ছিল না। তবে নিঃসন্দেহে বলতেই হয়, উন্নয়নের প্রশ্নে মমতা এক নতুন দিশা দেখিয়েছেন যা তথাকথিত বাম্পন্থীদের যথেষ্ট লজ্জা দেবে।
অনিন্দ্য ভট্টাচার্য
ভোট পর্ব মিটল, ফলাফল
বেরল, শপথ নিয়ে সরকারে আসীনও হলেন শাসকেরা। গত পাঁচ বছরে সদর্থক কিছু কাজ করার ফল
হাতেনাতে পেয়েছেন মমতার সরকার। সে নিয়ে আমরা ‘একক মাত্রা’র মে সংখ্যায় (‘পশ্চিমবঙ্গের
হাল হকিকত') কিছু আলোচনাও করেছি। আমাদের এই সংখ্যাটি প্রকাশ পেয়েছিল এপ্রিলের তৃতীয়
সপ্তাহে, তখনও বোদ্ধারা খুব সংশয়ে ছিলেন ভোটের ফলাফল নিয়ে। মিডিয়া, বিশেষত আনন্দবাজার
গোষ্ঠীর হলুদ সাংবাদিকতায় তখন অনেকেরই মনে হচ্ছে এবার মমতা আর ক্ষমতায় ফিরছেন না।
নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, প্রচ্ছন্ন হুমকি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে- এবার ২০১১’র ‘পরিবর্তনপন্থী’দের
দেখে নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনও খুব কড়া হাতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী নির্বাচনের
নির্ঘণ্ট পরিচালনা করছেন। এমতাবস্থায় আমাদের সংখ্যাটি যখন বেরল, অনেকেই আমাদের
বিশ্লেষণগুলিকে খোলা মনে নিতে পারেননি, কারও কারও মনে হয়েছে আমরা একটু হেলে আছি
দিদির দিকে। কেউ কেউ, যারা আমাদের ওপর আস্থা রাখেন, তাঁরাও ভাবছেন আমরা বোধহয় সময়
ও বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। নিকটজনেরা যখন জিগেস করেছেন ভোটের ফলাফল কী হবে,
নির্দ্বিধায় উত্তর দিয়েছি, তৃণমূল ২০০’র কিছুটা এপাশ ওপাশে থাকবে। বাস্তবিক দেখা গেল, তাই
ঘটল। আমরা সময়কে প্রতিনিধিত্ব করেছি মাত্র।
এখন দু-তিনটি বিষয় মনে হচ্ছে। যে কণ্টকহীন গুরুদায়িত্ব মমতার সরকারের ওপর অর্পণ করলেন এ রাজ্যের মানুষ তার ফলাফল কী দাঁড়াবে। কারণ, এবারে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছে এবং বিরোধীরা কার্যত নিধিরাম সর্দার’এ পরিণত হয়েছেন। তাহলে কি শাসককুল এখন এই খোলা মাঠ পেয়ে যা খুশি তাই করবেন? আবারও বলি, বাস্তবতার নিরিখে এমনতর ভাবার কোনও কারণ নেই; এটা একটা অতিকথা যে তৃণমূল ধান্দাবাজ ও সিন্ডিকেট-নির্ভর একটি পার্টি যার কোনও নিয়মনীতি বা আদর্শ নেই। বরং এটা অনুধাবন করতে হবে, তৃণমূল ও মমতা এক নির্দিষ্ট সময়ের প্রেক্ষিতে স্বতঃস্ফূর্ত জনজোয়ারের ফসল, একটি স্টেটমেন্ট এবং প্রান্তিক মানুষের অন্তর্নিহিত আকাঙ্ক্ষা। একে অতিক্রম করার সাধ্য তৃণমূল দলেরও নেই। যেদিন তা ঘটবে সেদিন ইতিহাসের অন্য এক বয়ানের সূত্রপাত হবে। মানুষের স্বতঃসারিত আবেগ, স্বপ্ন ও সম্মিলিত চৈতন্যে তৃণমূলের বিস্তার; যে কারণে অন্য দল ভেঙ্গে আসা নেতা-কর্মীরা, নবাগত পেশাদার বা ব্যক্তিরা, সাধারণ ভাবে কাজেকম্মে পারদর্শী ও সামাজিক মানুষেরা তৃণমূলে প্রবেশাধিকার পান এবং অবস্থা বিশেষে তাঁদের কেউ কেউ লাইমলাইটে চলে আসেন, নির্বাচনে দাঁড়ানোর টিকিটও পান বা বিশেষ গুরুত্বের কোনও কাজ। এটাই একটা গণ পার্টির বৈশিষ্ট্য এবং প্রকারান্তরে তলা থেকেই জনমতের চাপে এর গঠন, বিস্তার ও লয়। তা বলে এমনটা ভাবার কারণ নেই যে দলটি ও এদের নেতারা একেবারে ধোয়া তুলসিপাতা। বরং সমাজের ক্লেদ, হিংসা, সঙ্কীর্ণতাও প্রতিফলিত হয় এদের কার্যকলাপে, সমাজের সুদিকগুলির সঙ্গেই।
এবার প্রশ্ন, আগামী পাঁচ বছরের যাত্রাপথটি কী ও কেমন? আপাতত এটুকুই বলা যায়, নির্মম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার ফলে খুব যে বিপদে পড়ে গেল মানুষ, তেমন ভাবনাটা অমূলক বলেই মনে হচ্ছে। জনকল্যাণের মধ্য দিয়ে অগ্রগতি ও বৃদ্ধির হার বাড়ানোর যে পথ মমতা নিয়েছেন, বিপুল জনাদেশ সেই পথেই এগোতে তাঁকে নিদান দিয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রশ্নটা কীভাবে মোকাবিলা করবে এই সরকার তা দেখার কৌতূহল রইল। শুধুমাত্র বিরোধীদের মোকাবিলা করার প্রশ্ন নয়, সাধারণ মানুষও অনেক প্রশ্ন তুলতে পারেন, জবাব চাইতে পারেন- সেইগুলোকে কীভাবে এই সরকার সামাল দেবে তা দেখতে হবে। কারণ, এই প্রশ্নে গতবার এঁদের ভূমিকা খুব একটা ভাল ছিল না। তবে নিঃসন্দেহে বলতেই হয়, উন্নয়নের প্রশ্নে মমতা এক নতুন দিশা দেখিয়েছেন যা তথাকথিত বাম্পন্থীদের যথেষ্ট লজ্জা দেবে।
Monday, 16 May 2016
নগরায়নের তাণ্ডব
যদি উড়ালপুল না ভাঙত!
প্রবুদ্ধ বাগচী
চিত্র পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় অনেক
দিন আগে কলকাতা দূরদর্শনের জন্য একটা সিরিয়াল তৈরি করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘যদি এমন হত’। ওই সিরিয়ালের চিত্রনাট্যে প্রথম থেকে আস্তে আস্তে একটা
সম্ভাব্য সংকট তৈরি করা হত, তারপর ক্লাইম্যাক্সে এসে একজন এসে দাঁড়াতেন পর্দায়; বলতেন,
না এমনটা আসলে হয়নি। কিন্তু হলে কী হত? তারপর সেই সংকট মোচন করে মধুরেণ সমাপয়েৎ হয়ে
শেষ হত এপিসোড। সন্দেহ নেই, একটু ভিন্ন মেজাজের ট্রিটমেন্ট, দর্শকদের জন্য স্বাদ বদল।
কলকাতার জনবহুল রাজপথে নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের ভেঙে পড়ার পর, কেন জানি না, আমার ওই সিরিয়ালের
এপিসোডগুলো মনে পড়ে যাচ্ছিল ।
আকস্মিক ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা,
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বিপন্ন মানুষের আর্তনাদ, রক্ত, ছিন্ন প্রত্যঙ্গ, প্রশাসনের কিংকর্তব্যবিমূঢ়
অবস্থা আমাদের মনেও তৈরি করছিল এক বিপন্নতা। তারই মধ্যে সংবাদ চ্যানেলের লাইভ নিউজ
দেখানোর কাড়াকাড়ি, প্রশাসনের সর্বময়ী নেত্রীর নিলাজ বক্তব্য এবং ফুটপাথে চেয়ার পেতে
বসে লোক দেখানো মাতব্বরি অথচ সেনা জওয়ানদের সুসংহত নিষ্ঠ প্রয়াসে সাধারণের আস্থা, আস্তে
আস্তে যা স্বাভাবিকতার দিকে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি, সেতু নির্মাণের প্রকৌশলী দক্ষতা নিয়ে
চাপানউতোর যা ক্রমশ গড়িয়ে আসছে বরাত পাওয়া সংস্থার রাজনৈতিক ছাতা ও মাল সরবরাহকারী
সংস্থার অস্বচ্ছ অভিসন্ধির দিকেও, হয়তো বা। এই তদন্ত, অনুসন্ধান, চাপানউতোর ও আমাদের
স্বাভাবিক রাজনৈতিক রুচিমাফিক চাপা পড়া মানুষের মুখে ব্যালট পেপার খুঁজে বেড়ানোর নেতা
ও নেত্রীসুলভ ইতরামো পেরিয়ে আমরা যদি বিষয়টাকে একটি অন্যভাবে দেখতে চাই, কেমন হয়?
এই দেখতে চাওয়ার সঙ্গে
অবশ্যই জড়িয়ে থাকবে রাজধানী শহর কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকার নগরায়নের অভিমুখ, যার
সূত্রপাত ঘটেছে দেশের উন্মুক্ত অর্থনীতি উত্তর জমানায়। এর পরিণতি ঠিক কোথায় আমাদের
নিয়ে যাবে আমরা জানি না, তবে তা যে কোনও অমরাবতীর দ্বারপ্রান্ত নয়, এটা বোঝার জন্য
খুব বেশি মাথা ঘামাতে হয় না। যেমন ধরা যাক, এই যে জেএনইউআরএম প্রকল্প, যার আওতায় এই উড়ালপুল তৈরি হচ্ছিল। এই প্রকল্প ইউপিএ সরকারের
একটি নগরায়ন প্রকল্প যার মূল উদ্দেশ্য বড় বড় শহরের নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন।
কিন্তু অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পের আর্থিক দায় শুধুমাত্র কেন্দ্রের
সরকারের নয়, রাজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দায় আছে। কোনও রাজ্য সরকারই আর্থিক ভাবে সম্পূর্ণ
স্বয়ম্ভর এমন উদাহরণ এই দেশে নেই। ফলে, কেন্দ্রীয় সরকারের আংশিক অনুদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য
রাখতে বেশির ভাগ রাজ্য সরকারই অপারগ। অথচ কেন্দ্র রাজ্যের রাজস্ব বন্টনের অনুপাতে যে
ঘোর অসাম্য তা নিয়ে নতুন খোলাবাজারি অর্থনীতিতে তেমন দিকনির্দেশ নেই। এই অসাম্য নিয়ে
একদা এই রাজ্যের বামপন্থীরা জোরদার হইহই করেছিলেন, তাঁদের দাবি নিছক সারহীন ছিল না।
কিন্তু রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায়ের প্রধান উপাদান বাণিজ্য কর বিলোপ করে যখন দেশব্যপী
ভ্যাট(ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) চালু হল তার জন্য যে দেশজোড়া কমিটি হয়েছিল তার প্রধান
ছিলেন এই রাজ্যেরই তৎকালীন অর্থমন্ত্রী। ফলে রাজ্যগুলি এই ভ্যাটের প্রকোপে তাঁদের নিজস্ব
স্বাধীনতা নিজেরাই হারাল, এখনও যে জিএসটি বিল কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচনায় আছে তাতে
রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায়ে খুব একটা সুবিধে হবে এমন নয়, যদিও এই রাজ্যের বর্তমান সরকারি
দল সেই বিল আইনে পরিণত করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহযোগিতা করবে বলে আগাম প্রতিশ্রুত।
কিন্তু আর্থিক সংকটে দীর্ণ রাজ্য সরকারগুলি এই নগরায়ন প্রকল্পের পূর্ণ সুযোগ পাবে না
কারণ ম্যাচিং গ্র্যান্ট না দিলে নয়া দিল্লীর সরকারও অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেবে। তাহলে
নুন আনতে পান্তা ফুরোনো রাজ্যে এই জেএনইউআরএম প্রকল্পের অগ্রাধিকার ঠিক করা একটা বড়
ইস্যু। আমরা আমাদের সীমিত সাধ্যে কী করব? কাদের জন্য করব? কতটুকু করব?
গিরিশ পার্কে উড়ালপুল ভাঙার সঙ্গে এইসব
প্রশ্নের কী যোগ তার ব্যাখ্যা পাঠক চাইতেই পারেন। আশা করা যায়, ক্রমশ তিনি তাঁর জবাব
পাবেন। এই দিক বদলের হদিশ পাওয়া যাবে গত কয়েক বছরের নাগরিক উন্নয়ন ও পরিষেবার দিকে
চোখ রাখলে। সন্দেহ নেই, কলকাতার মতো ব্যস্ত ও জনবহুল শহরে, যেখানে রাস্তার আনুপাতিক
হার প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম সেখানে শহরের রাস্তায় যানবাহনের গতি বাড়াতে গেলে উড়ালপুল
করা প্রয়োজন। নয়া দিল্লি বা মুম্বাই শহরে যেখানে শহরতলির পরিসীমা আরও বড় সেখানেও নানা উড়ালপুল তৈরি হয়েছে, এখনও হচ্ছে। সে তুলনায় কলকাতায়
উড়ালপুলের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় এখনও বেশ কম। এর ফলে যানজট ও দূষণে কীভাবে
আমাদের অমূল্য সময় অনুৎপাদক হিসেবে অপব্যয় হচ্ছে অতি সম্প্রতি সেই বিষয়ে একটি
সমীক্ষার রিপোর্ট বেরিয়েছে যা যথেষ্ট হতাশা জাগায়।
প্রাক উদার অর্থনীতি
জমানায় কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থার সুবিধায় দুটো খুব দরকারি উড়ালপুল তৈরি হয়েছিল -
একটি শিয়ালদহে, অন্যটি হাওড়া ব্রিজ পেরিয়ে ব্র্যাবোর্ন রোডের ওপর। জায়গা হিসেবে এই
দুটিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিয়ালদহ এলাকায় একদিকে প্রান্তিক রেল স্টেশন, এখানেই
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র উত্তর দিক থেকে এসে হাত ধরছেন আচার্য জগদীশ চন্দ্রের,
অন্যদিকে মহাত্মা গান্ধী রোড পশ্চিমগামী হয়ে জুড়ে দিচ্ছে শিয়ালদহের সঙ্গে হাওড়া
স্টেশনকে। এখানে উড়ালপুলের প্রয়োজন ছিল। ঠিক যেমন ছিল, হাওড়া স্টেশন থেকে হাওড়া
সেতু পেরিয়ে শহরের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রের দিকে সহজতর যাতায়াত। কোন
সরকারের আমলে কবে এই উড়ালপুলের পরিকল্পনা হয়েছিল তা এখনি হাতের কাছে নেই। না
থাকলেও কিছু আসে যায় না। প্রয়োজনের নিরিখটাই বেশি জরুরি।
কিন্তু পরিবর্তন ঘটল
তারপরে। যখন খোলা অর্থনীতির নিয়ম রাজ্য সরকারগুলিকে কিছুটা স্বাধীনতা দিল যে কোনও
লগ্নি বা বিদেশি অনুদানের ক্ষেত্রে। বামফ্রন্ট আমলের শেষ দশ বছরে আমরা নতুন করে
কলকাতায় প্রচুর উড়ালপুলের কথা শুনলাম এবং তার বেশ কিছু তৈরিও হল নানা বিদেশি
অনুদানে অথবা ওই জেএনইউআরএম প্রকল্পে। যেমন, পার্ক স্ট্রিট উড়ালপুল, গড়িয়াহাট
উড়ালপুল, নাগের বাজার উড়ালপুল, কাশিপুরে লকগেট ফ্লাই ওভার, ওদিকে বাইপাস থেকে
রাজারহাটগামী উড়ালপুল, ভিআইপি রোড থেকে রাজারহাটগামী উড়ালপুল, ভিআইপি রোড থেকে
উল্টোডাঙ্গা মোড় এড়িয়ে সরাসরি বাইপাসে চলে যাওয়ার (এবং বিপরীতটাও) উড়ালপুল, পরমা
উড়ালপুল যা পার্ক সার্কাস সাত মাথার মোড় থেকে বাইপাস যাওয়া সহজ করবে, রবীন্দ্রসদন
উড়ালপুল, ডানলপ মোড়ের উড়ালপুল যা নাকি দক্ষিণেশ্বর থেকে বিটি রোডে আসার পথকে সুগম
করবে, প্রস্তাব হল ভিআইপি রোডে বাগুইহাটির কাছে আরেকটি উড়ালপুলের, আরেকটি উড়ালপুল
ভিআইপি রোড থেকে বিমানবন্দরে ঢুকে সোজা চলে যাবে
নতুন টারমিনালের সামনে। এগুলির কিছু কিছু বাম আমলেই চালু হয়ে গিয়েছিল, কিছুর কাজ শেষ
হয়েছে বর্তমান সরকারের জমানায়, কিছু উড়ালপুলের কাজ এখনো চলছে বাইপাসের ওপর, বেহালা
ও বন্দর এলাকার দিকেও চালু আছে কিছু উড়ালপুলের কাজ। এইসব উড়ালপুলের আর্থিক দায় কারা
বহন করেছেন বা করছেন তা সরকারি নথিতে পাওয়া যাবে। কিন্তু বলার কথা এটাই, এই উড়ালপুলগুলি
কলকাতা শহরের গণ পরিবহনে যে অসংখ্য সাধারণ মানুষ রোজ যাতায়াত করেন তাঁদের গতায়াতে বিন্দুমাত্র
সুরাহা করেনি। কারণ, এই প্রতিটি উড়ালপুল দিয়েই গণ পরিবহনের কোনও বাস/ মিনিবাস চলার
অনুমতি নেই, এগুলি শুধুমাত্র গাড়িচালক, বা বলা ভাল, গাড়ির মালিকদের
জন্য । পার্ক স্ট্রিট বা গড়িয়াহাট উড়ালপুল দিয়ে কদাচিত কয়েকটি বাস যায় বটে বা
দক্ষিণেশ্বর থেকে বিটি রোডে আসতে একটু বেনিয়ম করে মাঝে মধ্যে কিছু বাস সেতুতে উঠে
পড়ে তবে সেটা সাধারণ নিয়মের অনুবর্তী নয়, আসলে ওই সেতু পাবলিক বাস চলার জন্য অনুমোদিত
নয়। শহরের গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির ডানা মেলে এখনও বাইপাস বা অন্যত্র যে সব
উড়ালপুল মাথা তুলতে চাইছে সেখানেও এই একই নিয়ম অদূর ভবিষ্যতে লাগু হবে এটা স্পষ্ট।
পরমা উড়ালপুল সম্প্রতি নাম পালটে ‘মা’ হয়েছে, কিন্তু তিনি সকলের মা নন। শহরের
সম্পন্ন ধনী বা শাঁসালো উচ্চ মধ্যবিত্ত যাদের অন্তত একটি চার চাকার বাহন আছে
একমাত্র তাদেরই তিনি তাঁর কোল পেতে দিতে পারেন!
বিপরীত
পক্ষে একটু নজর করলেই দেখা যাবে পার্ক স্ট্রিট বা গড়িয়াহাটের মোড়ে উড়ালপুলের নীচে পাবলিক
বাস মিনিবাসের চেনা জ্যাম জট, এদিকে উলটোডাঙ্গার মোড় বা বিমানবন্দরের এক নম্বর গেট,
শ্যামবাজার পাঁচ মাথা মোড়ে সারি সারি গাড়ির সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা, এক্সাইড মোড় বা
মিন্টো পার্কে শ্লথ গতি যান চলাচল। অথচ অফিসের ব্যস্ত সময়েও বিদ্যাসাগর সেতু থেকে নেমে
রবীন্দ্র সদন উড়ালপুল ধরে আপনি মিনিট দশ/পনেরোয় পৌঁছে যেতে পারেন পার্ক সার্কাস সাত
মাথায়, সেখান থেকে বাইপাস যদি আপনি চার চাকার সওয়ার হন। এবং গাড়ির জানলা দিয়ে যদি আপনার
চোখ একটু বাইরে রাখেন দেখবেন নীচে এক্সাইড মোড় থেকে বেকবাগান অবধি গাড়ির গতি কী শিথিল,
পদে পদে সিগন্যাল, কোথাও তারই মধ্যে বাস মিনিবাসের কন্ডাক্টারের যেখানে সেখানে বাস
থামিয়ে লোক তোলার চির চেনা অভ্যাস। যে পথ আপনি পেরোলেন দশ পনের মিনিটে গণ পরিবহনের
যাত্রীদের সেই পথ পেরোতে সময় লাগবে কম পক্ষে আধ ঘণ্টা বা চল্লিশ মিনিট। একই ভাবে বালি
ব্রিজ পেরিয়ে ডানলপ ফ্লাইওভার ধরে ও লকগেটের জোড়া ফ্লাইওভারে চেপে আপনি যখন শোভাবাজার
মেট্রো স্টেশন পৌঁছে যাবেন মিনিট কুড়ি-পঁচিশে তখন গাড়িবিহীন এক নিত্যযাত্রী টালা ব্রিজের
একপ্রস্থ জ্যাম পেরিয়ে শ্যামবাজার পাঁচ মাথায় আসবেন এবং আবার একটা বড় সিগন্যাল পেরোতে
আরো বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করবেন। আপনার গাড়িতে চালানো এফএম রেডিও বড় জোর এই বার্তা আপনাকে
জানিয়ে দেবে শহরের রাস্তায় কোথায় কোথায় গাড়ির গতি শ্লথ, এই বার্তায় আপনার কী এমন যায়
আসে? আপনার সময়ের দাম অনেক বেশি কারণ আপনি গাড়ি চড়েন এবং সেই সুবাদে আপনি নতুন নতুন
সব উড়ালপুলে চাপতে পারেন। বাকিদের জন্য ব্যস্ত অফিস টাইমে নিত্যসঙ্গী যানজট, ঘন ঘন
হাতঘড়িতে টাইম দেখা – ঠিক সময় অফিসে ঢুকতে পারবেন তো? কারণ ওই উড়ালপথের মসৃণ হাতছানি
আপনার জন্য নয়, তার স্পষ্ট পক্ষপাত গাড়ি চাপিয়ে নাগরিকদের জন্য। আপনি বড় জোর কোনও ছুটির
দিনে একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে বউ বাচ্চা নিয়ে ওইসব না চাপা উড়ালপুলে উঠে একদিনের বাদশা
বনতে পারেন। কিন্তু নির্মিত ও নির্মীয়মাণ ওইসব উড়ালপুলের উন্নয়ন যজ্ঞে আসলে আপনার কোনও
আমন্ত্রণ নেই।
যে উড়ালপুল
ভেঙে পড়ে এত কথার জন্ম দিল তাও কিন্তু তৈরি হচ্ছিল ওই প্রথম শ্রেণির নাগরিকদের জন্যই।
ওটি যদি অচিরে পুনর্নির্মাণও হয় আপনার জন্য ভয়াল পোস্তা বাজারের জ্যাম একটুও কমে আসবে
এমন আশা বাতুলতা। আমাদের উন্নয়ন আসলে এইরকমই একচোখা। সাধারণ যাত্রীদের জন্য তার কোনও
দায় নেই। হয় তাঁরা ঘাড় উঁচু করে তাকিয়ে থাকবেন মস্ত এক সর্পিল উড়ালপুলের দিকে অথবা
তার তলায় চাপা পড়ে থাকবেন উন্নয়ন প্রভুদের ভাগ বাঁটোয়ারার বিবাদে। অনেকদিন আগে সুকান্ত
ভট্টাচার্য লিখেছিলেন: বলতে পারো, বড়লোকে মোটর কেন চড়বে?/ আর গরীব লোকে সেই মোটরের
তলায় চাপা পড়বে! সাম্যবাদের আদর্শে প্রাণিত কিশোর কবির প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিত হয়তো
পাল্টে গেছে, কিন্তু ওই প্রশ্নের জবাব আজও মেলেনি। তবে সমীকরণ কিন্তু মিলে গেছে। উড়ালপুলের
তলায় যাদের চাপা পড়ার কথা ছিল, তাঁরাই পড়েছেন। তাঁরা তো আর কোনোদিন ওই উড়ালপুলে এমনিতেও
চাপতে পারতেন না!
Monday, 18 April 2016
Revisiting 'The Other Face of Cancer'
Tumours of Thyroid no more cancers!!!
Abhijit Mukherjee
Abhijit Mukherjee
Times of India (Mumbai 16/04/2016) carried a report of NYT which says
“Docs reclassify a thyroid tumour, say it isn't cancer”. The report
refers to a study which got published in JAMA on 14/4/2016 and had its
conclusion that “Thyroid tumors currently diagnosed
as noninvasive EFVPTC [encapsulated follicular variant of papillary
thyroid carcinoma] have a very low risk of adverse outcome and should be
termed NIFTP
[noninvasive follicular thyroid neoplasm with
papillary like Nuclear features]. This reclassification will affect a
large population of patients worldwide and result in a significant
reduction in psychological and clinical consequences associated with the
diagnosis of cancer”. The report of NYT and TOI
also says “Patients Will Be Spared Surgery, Needless Treatment”.
Way back in 1973 Dr. Manu Kothari and Dr. Lopa Mehta in their book “The Nature of Cancer” while discussing on the various facets of cancer in general and thyroid cancer in particular pointed out the following:
1.Malignancy indicates "the tendency to go from bad to worse," or to cause death. Benignancy or malignancy should be strictly determined by what the lesion does to the patient rather than what it looks under the microscope, for these two qualities do not always correspond to each other.
2.“In a series of 1,000 necropsies, about 50 Per cent of the thyroids showed one or more nodules of which 21 per cent showed histological signs, of cancer. This is enormously higher than the standard death rate of 6 per million Per annum' from carcinoma thyroid”.[Reference from Nobel Laureate Sir Macfarlane Burnet]
3.Malignancy of parathyroid is rare; aII hyperplastic and/or adenomatous parathyroids are constituted by Jekyllian, benign cells which however, irresponsive to physiologic feedback mechanisms, keep on functioning autonomously thus almost begging for the designation of malignancy. Stanbury comments in a similar vein on thyroid cancers: "Since thyroid carcinomas may closely resemble normal thyroid tissue or benign adenomas, the pathologic diagnosis is often difficult and at times uncertain."
Way back in 1973 Dr. Manu Kothari and Dr. Lopa Mehta in their book “The Nature of Cancer” while discussing on the various facets of cancer in general and thyroid cancer in particular pointed out the following:
1.Malignancy indicates "the tendency to go from bad to worse," or to cause death. Benignancy or malignancy should be strictly determined by what the lesion does to the patient rather than what it looks under the microscope, for these two qualities do not always correspond to each other.
2.“In a series of 1,000 necropsies, about 50 Per cent of the thyroids showed one or more nodules of which 21 per cent showed histological signs, of cancer. This is enormously higher than the standard death rate of 6 per million Per annum' from carcinoma thyroid”.[Reference from Nobel Laureate Sir Macfarlane Burnet]
3.Malignancy of parathyroid is rare; aII hyperplastic and/or adenomatous parathyroids are constituted by Jekyllian, benign cells which however, irresponsive to physiologic feedback mechanisms, keep on functioning autonomously thus almost begging for the designation of malignancy. Stanbury comments in a similar vein on thyroid cancers: "Since thyroid carcinomas may closely resemble normal thyroid tissue or benign adenomas, the pathologic diagnosis is often difficult and at times uncertain."
[Note:
Time and again it has been coming to the fore the correctness of the
massive work on cancer of Dr. Kothari and Dr. Mehta. So it is high time
that practicing medicos seriously refer to
their work and spare the brunt of “needless treatment” and anxiety to
patients and their families. In "The Other Face of Cancer" they wrote "It may seem unbelievable but it is
India that is telling the world what cancer is, and what can be done about it, and what cannot be and should not be. Indeed
Dr. Kothari and Dr. Mehta were much ahead of their time.]
on behalf of www.cancerfundamentaltruth.com
Thursday, 14 April 2016
An Appeal
Condemn the Arrest of Dr Saibal Jana
We are inviting friends to a meeting at the Senate Hall,
Kolkata University on 8th May 2016 between 10am to 5pm to deliberate
on the deplorable arrest and jail custody of Dr Saibal Jana, a senior health
activist and the chief physician of the Sahid Hospital, Dalli-Rajhara, Chhattisgarh.
Dr Jana was arrested on 17th March in connection with a 24-year old
flimsy case and was hand-cuffed in contravention of all civilized norms. Dr
Jana has been granted an interim bail but the case is pending before the Court
of Law.
You will know that
the Sahid Hospital was established in 1982-83 by the donation and physical
labour of mine workers under the leadership of late Shankar Guha Neogi, the
founder of Chhattisgarh Mine Shramik Sangh (CMSS); Dr Jana has been working at
the hospital since its inception. This premier health institution has been
relentlessly engaged in improving the health conditions of predominantly tribal
people in and around Dalli-Rajhara and has successfully undertaken preventive
and promotive health activities like malaria prevention, anti-alcoholism (NASA
BANDI) and so on while the 100-bed hospital is providing diagnostic and
therapeutic services to patients from all social and economic background in and
around 100 km radius.
Against the
backdrop of egregious growth of profit-driven, ‘hi-tech’, city-centric medicare
institutions, Dr Saibal Jana and Sahid Hospital epitomize pro-people, rational
health care initiative. We view this incidence of arrest as a serious threat to
all such people-centric health care initiative and as an obnoxious encroachment
into the democratic space for searching alternatives.
We have felt that
sincere and creative persuasion of pro-people health care initiatives can be a
fitting reply to such atrocities and are inviting friends to this day-long
round-table deliberation to share their views and experiences regarding this. We
propose to raise our voice of PROTEST against deplorable arrest and
hand-cuffing of Dr Saibal Jana, to stand in SOLIDARITY with Sahid Hospital and
demand immediate STOP to all forms of harassment on such pro-people health
initiatives across India.
In Solidarity:
Dr Dipankar Sengupta (colleague of Dr Saibal Jana at
Saheed Hospital).
Dr Asish Kumar Kundu (former colleague of Dr Saibal Jana
at Saheed Hospital).
Dr Smarajit Jana (class fellow of Dr Saibal Jana and
working in the field of HIV/AIDS and related areas).
Dr Kunal Datta (class fellow of Dr Saibal Jana and
working at Sramajibi Hospital, Belur).
Phanigopal Bhattacharya (Sramajibi Hospital, well wisher
of Saheed Hospital).
Joya Mitra (Eminent writer, well wisher of Saheed
Hospital).
Subhendu Dasgupta (Eminent economist, well wisher of
Saheed Hospital).
Naba Datta (Nagarik Mancha, well wisher of Saheed
Hospital).
Prasanta Chattopadhyay (Editor, ‘Kaloddhvani’, well
wisher of Saheed Hospital).
Sanjoy Ganguli (Jana Sanskriti, well wisher of Saheed
Hospital).
Debasish Bhattacharya (Belur Sramajibi Swasthya Prakalpo
Samity, well wisher of Saheed Hospital).
Thursday, 24 March 2016
ক্রোনি কমিউনিজম
শিলিগুড়ি মডেল !
দেবব্রত চক্রবর্তী
আপনারা যারা বাস রাস্তায় শিলিগুড়ি গেছেন এই বছর দশেক আগে, তাঁরা নিশ্চয়ই 'চাঁদমনি’ চা বাগানের মধ্যে দিয়ে সবুজ পেরিয়ে শিলিগুড়ির ইট কাঠ এবং রিক্সার জঙ্গলে পৌঁছেছেন। আমি তখন শিলিগুড়ি থাকতাম, সেলসের কাজে প্রায়ই ঘুরে বেড়াতাম এদিক ওদিক। কলকাতা থেকে রকেট বাসে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে বাগডোগরা ছাড়ালেই মাঝে মাঝে খাপছাড়া সবুজ, বাড়ি ঘর, বিশাল এলাকা জুড়ে উত্তরবঙ্গ ইউনিভার্সিটি। নতুন গড়ে ওঠা মারুতি গাড়ির ওয়ার্কশপ পার করলেই বাঁদিক ডান দিক জুড়ে চাঁদমনি চা বাগান। ডুয়ার্স বা
অসমের মত খুব একটা বড়
বাগান নয়, তাও একেবারে হাইওয়ের ধারে ৭০০ একরের সরেস বাগান। শিলিগুড়ির মানুষের বিশুদ্ধ শ্বাস নেওয়ার ফুসফুস। ১৯৯২ সালে বছরে ১.৫ লাখ কেজি মেড টি এবং প্রায় ৬ লাখ কেজি গ্রিন টি তৈরি হত শিলিগুড়ি শহর ঘেঁষা এই বাগানটি'তে। তখনকার বাজারে ১.৩২ কোটি টাকার ব্যবসা এবং বাৎসরিক ৪০ লাখের মত খরচ । কর্মচারি এবং তাদের পরিবার মিলিয়ে প্রায় ১০০০০ লোকের উপার্জনের সূত্র।
শিলিগুড়ি তখন ধকধক করে বাড়ছে। বুদ্ধবাবু সবে মুখ্যমন্ত্রীর ইনিংস শুরু করেছেন। শিলিগুড়ির একচ্ছত্র
সম্রাট অশোক ভট্টাচাজ্জি মহাশয়। বাংলায় শিল্পের জোয়ার আনতে হবে। ‘ডু ইট নাউ’। 'চাঁদমনি’র চারিদিকে শহর বাড়ছে দ্রুত, জমির দাম আকাশছোঁয়া। মালিক চ্যাটার্জি বাবু সপ্তাহে একবার রাইটার্স পৌঁছচ্ছেন। চালু চা বাগান তুলে দিয়ে হাউসিং বানানো’র প্রচুর নিয়মকানুন। ঝক্কির একশেষ। রাজ্য এবং কেন্দ্রের অনুমতি লাল ফিতে ইত্যাদি। শিলিগুড়ি-আলিমুদ্দিন-রাইটার্স-দিল্লী ঘন ঘন মিটিং, আইনি পরামর্শ। মাপজোক, আর্কিটেক্ট সব ঘুরে ঘুরে যাচ্ছেন। তুমুল ব্যস্ততা।
কেবল হেলদোল নেই শুধু আদিবাসী শ্রমিকদের। সরল আদিবাসী শ্রমিক এতদিন ধরে লাল পতাকা, কাস্তে হাতুড়ি, কমরেডদের বিশ্বাস করে এসেছেন। পিএফ, রেশন, শ্রমিক লাইনে জল বা ইলেকট্রিকের ব্যবস্থা, বোনাস দু’
চার বছরে দু’
চার টাকা মজুরি
বৃদ্ধি কমরেডরাই তো করেছেন - তারা নিশ্চিন্ত ছিলেন - মালিক যতই চেষ্টা করুন কমরেডরা হতেই দেবেন না। শ্রমিক বিরোধী কোনও
কাজ লাল পতাকা বুকের রক্ত থাকতে হতে দেবে না।
১৯৯২ সালে চ্যাটার্জি বাবু মাত্র ২.৫ কোটি টাকা দিয়ে ৭০০ একরের চাঁদমনি কিনেছিলেন। ২০০০ সাল থেকে নিয়ম করে কর্মচারী ছাঁটাই, শ্রমিক সুবিধা ছাঁটাই, পিএফ বাকি রাখা, ইলেকট্রিক বিল না দেওয়া দিয়ে শুরু হল লস মেকিং’এর গল্প - কমরেডদের চোখের সামনে দিয়ে । ২০০৪ সালের মধ্যে নেওটিয়া সাহেবের সাথে ৪০০ একরে হাউসিং বানানোর চুক্তি সম্পাদিত হয়ে গেল। প্রকাশ্যে ২৫ কোটি, অপ্রকাশ্যে কত জানা নেই।
শিলিগুড়ি লাগোয়া, ন্যাশনাল হাইওয়ের ধারে এই জমির বাজার মূল্য তখন ছিল ১ কোটি টাকা /একর। এক লপ্তে অনেক জমি, সেই হিসাবে মূল্য অর্ধেক ধরলেও ২০০ কোটির কম নয়। চ্যাটার্জিবাবু প্রাপ্ত টাকায় বকেয়া মাইনে, পিএফ ইত্যাদি মেটাতে ৪ কোটি টাকা ব্যয় করলেন। শ্রমিক রাতারাতি বাটি
নিয়ে মাটিগাড়া বাজারে। নেওটিয়া সাহেব ততদিনে বাইপাসে অম্বুজা হাউসিং করেছেন,
সল্টলেকে সিটি সেন্টার ওয়ান বোধ হয় সমাপ্ত, রায়চক গঙ্গা নিবাস হবে হচ্ছে করছে - রাইটার্সের ব্লু আইড শিল্পপতি। পরিবেশ দূষণ সার্টিফিকেট, নকশা পাস এক লহমায় হয়ে গেল। অশোক ভট্টাচার্য
তখন পূর্ত
মন্ত্রী। কোনও
স্টিং আছে এমন প্রমাণ নেই। কমরেডরা তখনো শ্রমিক বস্তিতে স্তোক দিচ্ছেন- এক বিন্দু রক্ত থাকতে চা বাগান দখল হতে দেব না।
২০০৪ সালে পুলিশ পাহারায় ট্রাক্টর চলে এল
চা গাছ, রেন ট্রি ওপড়াতে। অসহায় আদিবাসী শ্রমিক, লাল পতাকায় ভরশা রাখা শ্রমিক হাঁ করে দেখতে থাকল। সেই কবে বাবা কাকাকে ব্রিটিশ রাঁচি থেকে ধরে এনে জঙ্গল সাফ করে, সাপখোপ ম্যালেরিয়া মাথায় নিয়ে চা বাগান বানিয়ে ছিল সেই বাগানের একটা একটা গাছের গোড়ায় শক্ত দড়ি লাগিয়ে ট্রাক্টর - হিঁচড়ে মাটি থেকে শিকড় সমেত তুলে আনছে। সাত দিন মাত্র লেগেছিল পুরো চারশ একরের বাগান গাছ শূন্য করতে।
চাঁদমনি বাগান উচ্ছেদ বিরোধী যৌথ সংগ্রাম কমিটি ইত্যাদি ইত্যাদি তৈরি হল। পথ অবরোধ, মিছিল, মিটিং, আবেদন-নিবেদন, পুনর্বাসন প্রতিশ্রুতি, মালিকপক্ষ, সরকার, শ্রমিক পক্ষ চুক্তি হল একটা বটে । গুলি চলল । শ্রমিক কৃষকের সরকার শ্রমিক প্রতিরোধ ভেঙ্গে দিতে গুলি চালাল
- দু জন মারা গেলেন। এই প্রথম গুলি চলল তা নয় অবশ্য সেই ৬৭ -৬৮ থেকে চলছে। অশোকবাবু নকশাল গন্ধ পেলেন । গলা কাঁপিয়ে গুলি চালানো সমর্থন করলেন। কলকাতায় তখন মোমবাতির আকাল তাই মিছিল সেরকম একটা হয়নি। শিল্পের খাতিরে একটা দুটো ছোটলোক মরে গেলে বিশেষ কিছু সমস্যা নয়। কালের নিয়ম। আমরা হিন্দমোটর নিয়ে রীতিমত অঙ্ক দেখেছি এ বিষয়ে।
আজকে দশ বছর পরে চাঁদমনি নামটাই আর নেই তার বদলে চলে এল
‘উত্তরায়ণ’। অবশেষে সেই উত্তরায়ণও ফিকে হতে শুরু করেছে - এখন মাল্টিপ্লেক্স, স্পেন্সার, কেএফসি, সাবওয়ে, নেওটিকা গেটওয়ে, সিমপ্লেক্স - ভালোই আছি আমরা। ইতিমধ্যে সাহসী নেত্রী সুজাতা ওঁরাও এখন ঠিকাদারের অধীনে অম্বুজার ফুলের বাগানে’র ঠিকা শ্রমিক। ভিনসেন্ট এর স্ট্রোক হয়ে পিএফের ২ লাখ টাকা সমাপ্ত। পরবর্তী প্রজন্ম কেউ মলে ঝাড়ু দেন। চালাকরা সিন্ডিকেট’এ ঢুকে পড়েছেন, বালি, পাথর সাপ্লাই দেন । কমরেডরা সাব-কনট্রাক্টর হয়ে গেছেন। দু’
পয়সা কামানোর দিন কমরেড। শ্রমিক বস্তির আদি বাসিন্দারা এখনও
পাট্টা পাননি, চুক্তিতে ছিল অবিশ্যি। বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বিপিএল কার্ড এমনকি কেউ কেউ ১০০ দিনের কাজ পর্যন্ত পান। সম্ভবত ২ টাকার চাল পাবেন আগামী মাস থেকে । ধন্যবাদ অশোকবাবু,
শিলিগুড়ির মত একটা হাফ মফস্বলকে কোথায় তুলে আনলেন !
কিন্তু তাও কেউ কেউ ট্র্যাক্টরে দড়ি লাগিয়ে বিশ্বাসের লাল পতাকার শিকড় শুদ্ধ হিঁচড়ে মাটি থেকে তুলে আনার দৃশ্য দেখতে দেখতে বোবা হয়ে যান! বিশ্বাস ভঙ্গ বড় পাপ হে বাবু। একবার হারালে ফেরাতে দশক ঘুরে যেতে পারে।
অশোকবাবুরা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সেই সময় থেকেই বিশেষজ্ঞ। ওনার সেই মডেলকে এখন 'শিলিগুড়ি’ মডেল বলে। দালালের আবার কাস্টমার বিচার কী?
জাত দেখলে তো আর পেট ভরেনা! ভোট এসে গেল ব্যস্ততা তুঙ্গে!
Subscribe to:
Posts (Atom)