প্রতিষেধক ও ছবির ওড়না
ঊষসী ভট্টাচার্য
স্যানিটাইজার স্যানিটাইজার তোমার বাড়ি যাবো
স্যানিটাইজার, তুমি কি আর হাতের কথা ভাবো?
স্যানিটাইজার, অ্যালকোহলে শত অংশ মেপে
স্যানিটাইজার, চুমুক মেরে দেখেছিলুম চেখে ...
এমন বহু মিম, মাইম, প্যারোডি, কমেডি'তে সোশ্যাল নেট ভরে গেছে। লকডাউন থাকতে থাকতে আমরা অনেকেই রান্না করেছি, সেগুলো ঘটা করে ছবি ও ভিডিও বানিয়ে শেফ্ হয়ে, সেফগেম খেলেছি। সত্যিই তো, কাঁহাতক আর বাড়ি বসে থাকা যায়। এই তো সেদিন, একটা বড় ঝড় এল। নেটে সেট হয়ে থাকা আমাদের ভার্চুয়াল জীবন মুখ থুবড়ে পড়ল। আহারে! সত্যিই বড় দুঃখের কথা। তারপর এর থেকে ওর থেকে ভাগ্যাকাশে ধার পাওয়া ওয়াইফাই জুটলে এসি, পাখা না চলায় ঘেমে নেয়ে সোশ্যাল নেটে গিয়ে মার্ক করেছি - Safe at Umphan... সত্যিই আমরা কত্ত লড়াকু। মাইরি, ভাবলেই চোখে কেমন ঘাম আর জিভে নুন আসে না??
আমিও বহু কষ্ট-যাপন করেছি এ ক'দিনে। আমি ও আমরা বলাই শ্রেয়। দিনরাত ভেবেছি রেনে মাগারিট্টের সেই ছবিটির কথা। ওড়না ঢাকা মুখে চুমু। কীভাবে সেটা সম্ভব করে এই ধূসর দিনের পান্ডুলিপিটা স্টেয়ারি নাইট করা যায়, সেটা ভেবে ভেবেই ভারী কাহিল হয়েছি। ওই অত ভাবনার মধ্যে আজকাল নিজেকেই হাত পুড়িয়ে, জল গড়িয়ে, তেল মশলায় রান্না করতে হয়, মিশে যায় অনুতাপের এলাচ, কষ্টের চিনি। সে বড় বিস্বাদ!
লকডাউনের শক্ কাটাতে মাঝে মাঝেই পাড়ায় খোলা হল চপের দোকান, বসল কচুরির পসরা। কাজ বাঁচাতে মাঝে মাঝেই রান্নার দিদি উঁকিঝুঁকি দিয়ে গেলেন। ওনারা করোনাপন্ন নন, বিপন্ন। খুব জ্ঞান ফলিয়ে বললাম একদিন,
- এভাবে বেরোচ্ছ, জানো কত বিপদ হতে পারে!
দিদি বললেন,
- না বেরোলে বিপদ যে বাড়বে দিদি। ছেলেটার-জামাইটার কাজ নেই। নাতিটা ছোট, ওকে তো খেয়ে পড়ে বাঁচতে হবে।
আম্ফানে দিদির ঘরে টালি উড়ে গিয়েছিল, শুনেছি ঘরে গাছ পড়ে আহত হয়েছে ওনার বাচ্চা নাতি। ওনাদের বস্তিতেই কাজ হারিয়ে দু'জন আত্মহত্যা করেছে।
সে যাক গে, তা কী যেন বলছিলাম, প্রতিষেধকটা বেরলেই বুঝলেন, জাস্ট ওটা বেরলেই, জমিয়ে আমরা ফের রেনে মাগারিট্টের ছবির ওড়না সরাতে পারব। উফ, ভাবলেই কী থ্রিল হচ্ছে না?
No comments:
Post a Comment