Tuesday, 21 April 2026

ইতিহাসে চোখ রাখুন

যখন স্বৈরাচারীর পতন আসন্ন

মালবিকা মিত্র



নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পতন সম্পর্কে ঐতিহাসিক মার্খহ্যামের দুটি মন্তব্য বিশেষ প্রণিধানযোগ্য-- Hitherto Napoleon Bonaparte fought the kings, but after 1806 he faced the nations.। নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ, ইউরোপের রাজশক্তিগুলি যে বিপুল পরিমাণে জাতিসত্তাগুলিকে দমন করে রেখেছিল তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ। নেপোলিয়ন এই জাতিসত্তাগুলির সামনে মুক্তিদাতা ও ত্রাতা হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাঁরা আশা করেছিলেন, নেপোলিয়ন তাঁদের মুক্ত করে রাজশক্তির পীড়নের নাগপাশ ছিন্ন করবেন। ফলে, নেপোলিয়ন গণ সমর্থন লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। নেপোলিয়ন যখন এক একজন রাজার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাচ্ছেন, সেখানকার প্রজারা নেপোলিয়নকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষে স্বাগত জানিয়েছেন। এটাই ছিল নেপোলিয়নের সাফল্যের চাবিকাঠি। 

কিন্তু নেপোলিয়ান যখন স্পেন অভিযানে গেলেন, স্পেনের জনগণের বিপুল সমর্থন অর্জন করলেন, তারপর তাঁরা হতবাক হয়ে দেখলেন, নেপোলিয়ন তাঁর ভাই জোসেফ'কে স্পেনের শূন্য সিংহাসনে বসালেন। স্পেনের জনগণের আশা ছিল, তাদের পছন্দের ফার্ডিন্যান্ড'কে নেপোলিয়ন ক্ষমতায় বসাবেন। এরপরে স্পেনের মাটিতে শুরু হয়েছিল জাতীয় প্রতিরোধ, যা নেপোলিয়নের ভাষায় 'স্প্যানিশ আলসার'। এই ক্ষত আর নিরাময় হয়নি। বরং ইউরোপের দেশে দেশে জাতিগুলি নেপোলিয়নকে ত্রাতার আসন থেকে অপসৃত করে। সর্বত্র নেপোলিয়ান বিরোধী প্রতিরোধ শুরু হয়ে যায়। এই জাতীয় প্রতিরোধের সামনে নেপোলিয়নকে পরাজয় মেনে নিতে হয়। সেই কারণেই ঐতিহাসিক মার্খহ্যাম অমন উক্তি করেছেন। 

ইতিহাসকে স্মরণে রেখে আসুন, আমরা একটু সাম্প্রতিক রাজনীতির দিকে তাকাই। এর আগেও ভারতীয় রাজনীতিতে বিহারের নালন্দা জেলার চাকুরির পরীক্ষার্থী মহারাষ্ট্রে গিয়ে অত্যাচারিত ও নিহত হয়েছে। তার জন্য বিহারে ট্রেন পুড়েছিল। অসমে বাঙালিরা অত্যাচারিত হয়েছে। কিন্তু খোলামেলা ভাবে কোনও কেন্দ্রীয় সরকার ও তাদের ভাষায় 'ডাবল ইঞ্জিন' রাজ্যে বাঙালিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা এর আগে দেখা যায়নি। বিজেপির শীর্ষ নেতা মোদী থেকে শুরু করে মাঝারি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গী, সকলেই চিঁড়ে খাওয়া, বাংলায় কথা বলা, লুঙ্গি-পাজামা পরিধান দেখে চিহ্নিতকরণ, এসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের একটা আখ্যান নির্মাণ শুরু করেছিলেন। সেই আখ্যান পল্লবিত হয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে শারীরিক পীড়ণ, বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ, হত্যা, এমনকি জবরদস্তি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া সহ সমস্ত রকম অত্যাচার শুরু হল। এক কথায়, বাংলা মানে বাংলাদেশ, অর্থাৎ বিদেশি। এর মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বিজেপি ও আরএসএস। 

এই প্রয়াসের বর্ধিত সংস্করণ হিসেবে বাংলায় একটি বিশেষ ধরনের নির্বাচনী তালিকায় নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হল (এসআইআর)। যেখানে নিবন্ধনের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভাবে বাঙালি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রকাশ্য জেহাদ ঘোষিত হল। দেড় কোটি বাঙালির নাম বাদ দেওয়া হবে এমন আস্ফালনও শোনা গেল। বাস্তবে সেই আস্ফালনের মর্যাদা রক্ষার্থেই নানা ছলচাতুরির সঙ্গে প্রায় এক কোটি ঊনপঞ্চাশ লক্ষ নামকে চিহ্নিত করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত মানুষের গণ অসন্তোষ রাজপথকে মুখরিত করে। মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত উপস্থিত হয়ে দেড় কোটি সংখ্যাটাকে কমিয়ে এনে পঁয়ত্রিশ লক্ষের কাছাকাছি দাঁড় করান। আশা করা যায়, আরও বেশ কিছু মানুষকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। 

এসবের মধ্য দিয়ে বাঙালি চেতনায় ও মননে কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি ও তাদের আঞ্চলিক রাজাকার বাহিনী এবং পদলেহী নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে একটা অপর পক্ষের ধারণা জন্ম নিল। এই ঘটনা হিন্দি বলয়ের নেতাদের গ্রহণযোগ্যতাকে বাংলায় আরও তলানিতে নিয়ে গেল। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের মানুষের একাংশ রাজ্য সরকার ও ক্ষমতাসীন তৃণমূল দলের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিজেপিকে পরিত্রাতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ১৪-১৫ শতাংশ ভোট থেকে বিজেপির ভোট রাতারাতি ৩৮ শতাংশে পৌঁছে যায়। কিন্তু বর্তমানে বিজেপির বাংলা ও বাঙালি বিরোধী জেহাদ সেই সমর্থনকে নিশ্চিতভাবে তলানিতে পৌঁছে দিয়েছে। বাংলায় এবারের লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপি নয়, এবারের লড়াই বাঙালি জাতি বনাম বিজেপি। এবারের নির্বাচনে বিজেপি যদি ২০ শতাংশ বা তার আশপাশ জনসমর্থন লাভ করে, আমি অবাক হব না। অন্যদিকে বাম জোট ও অন্যান্য শক্তিগুলি যদি ২৫-৩০ শতাংশ ভোট পায় তাহলেও আমি বিস্মিত হব না। আমি মনে প্রাণে চাই বাঙালির কাছে তৃণমূলের বিকল্প হয়ে উঠুক বাম শক্তি। এটা ইতিহাসের শিক্ষা। 

ইতিহাসের শিক্ষা কতটা নির্ভুল তার জলজ্যান্ত দ্বিতীয় প্রমাণ দেখান ঐতিহাসিক মার্খহ্যাম। তাঁর ওই রচনাতেই নেপোলিয়নের পতন সম্পর্কে লেখেন: Napoleon Bonaparte only succeeded because the major European powers were not united, but after 1806 the fourth coalition was in reality.। ইতিপূর্বে ফ্রান্সের উত্থানের বিরুদ্ধে ইউরোপের রাজশক্তিগুলি তিন তিনবার জোটবদ্ধ হয়েও পারস্পরিক অন্তর্দ্বন্দ্বে সেই জোট ভেঙে যায়। অস্ট্রিয়ার হাবসবার্গ সাম্রাজ্য, রাশিয়ায় জার সাম্রাজ্য, প্রাশিয়া সাম্রাজ্য ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্য-- এই চার সাম্রাজ্য ছাড়াও ছিল আরও কিছু ছোট রাজশক্তি; সার্ডিনিয়া পিয়েডমন্ট, স্পেন, পর্তুগাল, পোপের সাম্রাজ্য, ডেনমার্ক, কিছু স্বাধীন জার্মান রাজ্য, নেপলস সিসিলি ইত্যাদি। এরা পারস্পরিক দ্বন্দ্বে ছত্রভঙ্গ ছিল। কখনই জোটবদ্ধ দৃঢ় ভিত্তি হয়নি। 

কিন্তু ১৮০৬ সালে স্পেনের প্রতিরোধ সংগ্রাম এবং সেই সঙ্গে নেপোলিয়নের আটলান্টিক মহাসাগরে ইংল্যান্ডকে মহাদেশীয় অবরোধ ঘোষণা, এই অবরোধে ইউরোপের রাজশক্তিগুলিকে যোগদান করতে বাধ্য করা, এইসব মিলিয়ে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ইউরোপের ছোট বড় রাজশক্তিগুলি ঐক্যবদ্ধ হয়। এই সময়েই চতুর্থ কোয়ালিশন জন্ম নেয়। এই চতুর্থ শক্তি জোটের হাতেই নেপোলিয়নের অন্তিম পরাজয় সূচিত হয়। একটির পর একটি যুদ্ধে নেপোলিয়নের পরাজয় এবং নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অপরাজেয় কল্পকাহিনী ভাঙতে শুরু করে। স্পেনের ভিত্তোরিয়া ও ভিমিয়ারের যুদ্ধ থেকেই এই পতনের শুরু। 

INDIA ছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA জোটকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে গঠিত ভারতীয় বিরোধী দলগুলোর একটি বড় বহুদলীয় জোট। কংগ্রেসের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটে তৃণমূল কংগ্রেস, আপ, ডিএমকে, জেডিইউ, আরজেডি সহ প্রধান বিরোধী দলগুলো অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ক্ষমতাসীন এনডিএ বিরোধী এই জোটের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব ও আঞ্চলিক স্তরে পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, এইসব বহুমাত্রিক দ্বন্দ্বের ফলে জোট কিছুতেই সুদৃঢ় হচ্ছিল না। কথায় বলে, ম্যান প্রোপোজেস অ্যানড গড ডিসপোজেস। ২০২৩ সালে পাশ হয়েছিল একটি মহিলা সংরক্ষণ বিল; যে বিলে সংসদে সমস্ত দল সমর্থন জানিয়েছিল, কেবলমাত্র আসাউদ্দিন ওয়াইসির দুজন সাংসদ ছাড়া। ওই বিলে সংসদে মোট সদস্যদের ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু সরকার সেই বিল তখন কার্যকর করেনি। কারণ, পুরুষ প্রধান আরএসএস ও বিজেপি দল কখনই সংসদের নিজেদের আসন স্বেচ্ছায় মহিলাদের ছেড়ে দিতে চাইবে না। উল্লেখযোগ্য যে, কংগ্রেস তৃণমূল ডিএমকে এই সমস্ত দলে মহিলা সাংসদদের যে শতকরা হার তার তুলনায় বিজেপি সাংসদদের মধ্যে মহিলা সংসদের শতকরা হার সর্বনিম্ন। স্পষ্টই বোঝা যায়, মনুবাদী পুরুষতান্ত্রিক বিজেপি, সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ আইন পাস হলেও তা প্রচলন করতে চায় না। কারণ, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বর্তমান সাংসদকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে মহিলাদের জন্য। 

আজ তিন বছর বাদে তাই নতুন করে ওই মহিলা সংরক্ষণ বিলে সংশোধনী আনা হল। এমন ভাবে এটি পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, এই সংরক্ষণ বিল ২০৩৪ সালের আগে কোনওভাবে চালু করা সম্ভব নয়। ঠিক এমন একটা সময়ে এই বিলের প্রয়োজনীয়তা ও তড়িঘড়ি সংসদের বিশেষ অধিবেশন কেন, একটু বুঝে নিই:

১) সকলের স্মরণে থাকবে, ২০২৪ সালে সরকার ব্যাপক দুর্নীতির সাথে যুক্ত নীট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছিল লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন। অনেকটা বিবাহ অনুষ্ঠানের সঙ্গে উপনয়নটা সেরে ফেলা, যাতে একটা খরচ বেঁচে যায়। আজ ঠিক সেই ছকেই নির্বাচনে বিরোধী দলগুলি ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিয়ে লোকসভায় বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিল তড়িঘড়ি আনা হল যা কার্যকর হবে ২০৩৪ সালে। উদ্দেশ্য ছিল, বিরোধীহীন লোকসভায় বিলটি পাস করে আসন্ন নির্বাচনগুলিতে মহিলা সংরক্ষণের ঢক্কানিনাদে সস্তায় বাজিমাত করা। 

২) কিন্তু হাজারও ব্যস্ততা সত্ত্বেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ম্যান্ডেট দিয়ে, হুইপ জারি করে, সাংসদদের সংসদের অধিবেশনে হাজির করে। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রথম একটি বিলের সার্বিক বিরোধিতা করে। দাবি করে, ইতিপূর্বে পাশ হওয়া সংরক্ষণ বিলটি হয় এখনই চালু করতে হবে যা আগামী ২০২৯'এর লোকসভা নির্বাচনে কার্যকর হবে। অন্যথায়, সংশোধনীকে তারা সমর্থন করবে না। অবশেষে বিলটির সংশোধনী আটকে যায়। 

৩) লক্ষ্য করুন, বিলটি পার্লামেন্টে পাশ হলে একদিকে নরেন্দ্র মোদি বুক ফুলিয়ে মহিলা সংরক্ষণের অন্যতম প্রাণপুরুষ হিসেবে নিজেকে প্রজেক্ট করতেন। আটকে যাওয়ার পরেও একই ভঙ্গিতে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন -- তিনি মহিলাদের জন্য কত চিন্তাগ্রস্ত এবং বিরোধীরা কীভাবে মহিলা ক্ষমতায়ন চায় না! সংশোধনী পাস হলেও লাভ, না হলেও লাভ। অসম্ভব সুন্দর সুপরিকল্পিত টাইমিং। 

৪) সাম্প্রতিক এপস্টিন ফাইলে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার সদস্যের নাম যুক্ত আছে, এমনকি মোদীর দিকেও আঙ্গুল উঠেছে। তদুপরি বোঝার ওপর শাকের আঁটি সুব্রহ্মণ্যম স্বামী ও মধু কিশওয়ার খোদ মোদিজীর বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। এই পরিস্থিতিতে মহিলা সংরক্ষণ বিল এনে নিজেকে দেশের সর্বোচ্চ নারীবাদী হিসেবে  প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা ছিল এই সংশোধনীর উদ্দেশ্য। 

বিরোধীদের এই সাফল্য মোদি বিরোধী লড়াইয়ের পালে বাড়তি হাওয়া জোগাবেই। পরিস্থিতি অনুধাবন করে মোদীজি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ হিসেবে জাতীয় পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ একটা দলীয় নির্বাচনী প্রচারের বক্তব্য রাখলেন। জাতির উদ্দেশ্যে সরকারি ভাষণে তিনি ৫৮ বার জাতীয় কংগ্রেসকে এবং দশবার তৃণমূল আর বহুবার তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলকে সরাসরি গালমন্দ করলেন। দাসানুদাস নির্বাচন কমিশন এই বক্তব্যে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনবে না জানা কথা। কিন্তু মোদী নির্লজ্জের মতো নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করলেন, এটা দেশবাসী দেখল।

কেমন যেন নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ইতিহাসের একটা পুনরাবৃত্তির গন্ধ পাচ্ছি মনে হয়।  আমি ইতিহাসের ছাত্র, ইতিহাসে প্রবলভাবে আস্থাবান। সদা স্মরণে রাখি, কিছু মানুষকে কিছুকালের জন্য বোকা বানানো যায়, সব মানুষকে চিরকালের জন্য বোকা বানানো যায় না। ঘটনার গতিপ্রকৃতি যেন তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপনি কী বলেন?


No comments:

Post a Comment