Friday, 2 October 2026

রাস্তাই একমাত্র রাস্তা

ভরসা আরশোলারাই  

প্রশান্ত ভট্টাচার্য



ধর্মেন্দ্রর ক্ষেত্রে পেরেছে, জ্ঞানেশে কি পারবে? এই সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে জাগ্রত নাগরিক চেতনার মাথায় এই প্রশ্নটাই ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরশোলাদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামে হেলেনি নির্বাচন কমিশন বা মোদী সরকার। এবার পথে নামল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। জ্ঞানেশ কুমারকে হটাবার সংকল্পে ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বই থেকে পথে নেমেছেন অভিজিৎ দীপকে'রা। ককরোচদের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সবচেয় বড় দেশদ্রোহী। তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক। দেশের ১৪০ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অন্যদিকে, বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেস, তৃণমূল (মমতা তৃণমূল), সিপিআই (এম)-সহ ১৯টি দল। বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুমকি দেন, জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে বিক্ষোভ তীব্র হবে। আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন দফতরে অভিযানও করবে ইন্ডিয়া' জোট। অক্টোবর ও নভেম্বরে দেশে পাঁচটি সভা করবে বিরোধী জোট। বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, বৈঠকে অনেক পরামর্শ রাহুল গান্ধী দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দিয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা। 

প্রথম কর্মসূচি: আগামী ২ অক্টোবর দেশের প্রতিটি জেলায় 'গণতন্ত্র বাঁচাও' ব্যানারে যৌথ মিছিল। এই কর্মসূচি চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। জেলাশাসকের দফতরে বিক্ষোভ জানানো হবে। 

দ্বিতীয় কর্মসূচি: ৬ অক্টোবর লোকসভা ও রাজ্যসভার সব বিরোধী সাংসদদের নির্বাচন কমিশন দফতরে অভিযান।

তৃতীয় কর্মসূচি: সংসদে বিরোধী দলগুলির নেতারা একযোগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবি পেশ করবেন। 

চতুর্থ কর্মসূচি: দেশের পাঁচটি বড় শহরে ভোট চুরি ইস্যুতে বড় জনসভা হবে। 

পঞ্চম কর্মসূচি: নভেম্বরের শুরুতে দিল্লিতে মেগা জনসভা। তাতে একসঙ্গে অংশ নেবেন রাহুল গান্ধী-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। 

যষ্ঠ কর্মসূচি: আমজনতার কাছে গিয়ে মানুষকে বোঝানো।

ভোট চুরির প্রতিবাদে ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সুর আরও চড়িয়েছে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'। যৌথ প্রেস মিটে মমতা তাঁর স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারকে নিশানা করেন। নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ ও প্রযুক্তিগত কারচুপির ব্যাপারে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি সীমা খান্না নামে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, 'কেন ইভিএম মেশিন জ্বালানো হল। ওই সীমা খান্না কে? সফটওয়্যার কোথা থেকে নিয়ে এল?' মমতার দাবি, একটি বিশেষ সফটওয়্যার বানিয়ে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ডেডলক বা পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শুধু বাংলাতেই প্রায় ৯২ লাখ ভোট বা নাম লুঠ করা হয়েছে আর সারা ভারতে এই লুঠের পরিমাণ ১৩ কোটির বেশি। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের পদে জ্ঞানেশ কুমারের এক মুহূর্তও থাকার অধিকার নেই বলে তোপ দাগেন তিনি। মমতার হুঙ্কার, 'জ্ঞানেশ কুমার যদি না সরেন, তবে এই আন্দোলন বহু দূর পর্যন্ত যাবে। মাটি থেকে আকাশ পর্যন্ত, চাঁদ-সূর্য পর্যন্ত যাবে। এটা আমাদের একসঙ্গে লড়তে হবে।'

লোকসভার বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, 'যাঁরা ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তাঁদের শাস্তির বিষয়টি আমরা সুনিশ্চিত করবই। তাঁরা কত বড় পদে রয়েছেন সেটা মুখ্য বিষয় নয়। কোনও একজন ব্যক্তির চেয়ে দেশের গণতন্ত্র অনেক বড়।' রাহুল গান্ধী আর মমতা যে বারবার ভোট চুরির কথা বলেছিলেন, এখন তা সবাই স্বীকার করছেন।

তবে বিরোধীরা যতই আস্ফালন করুক, সাধারণ মানুষের এখনও তাদের ওপর তেমন ভরসা নেই। অধিকাংশ মানুষের ধারণা, ভারতের বিরোধীরা অকম্মার ঢেঁকি। এদের দিয়ে কিছু হবে না। এরা পরস্পরে কাজিয়া করে-- এ আধ ছটাক ফ্যাসিবাদ বিরোধী, ও এক ছটাক স্বৈরাচার বিরোধী, ওই দল তলায় তলায় বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে চলে, এইসব। বামেরা নিজেরা নন-প্রোডাক্টিভ হয়েও গুমরে বাঁচে না। ফলে, এরা কোথাও শক্তপোক্ত জোট বাঁধতে পারছে না। ভোট লুঠের মতো এত মারাত্মক ফ্যাসিস্ট একটা কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও বড়সড় আন্দোলন এখনও সংঘটিত করা গেল না। ভারতবর্ষের বিরোধীদের এই ব্যর্থতার কথা ইতিহাসে লেখা থাকবে। লেখা থাকবে কীভাবে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির জন্য এরা জোটবদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। 

তাই সাধারণের বিশ্বাস, কিছু যদি পারে তবে এই আরশোলারাই করে দেখাতে পারবে। মনে রাখতে হবে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই যে সংঘবদ্ধ হচ্ছে, আরশোলারাই সেই সুযোগটা তৈরি করেছে এবং করছে। অথচ এই সিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে নামতে পারছেন না রাহুল-বেবি-মমতা-দীপঙ্কররা। এখানেই এঁদের দুর্বলতা আর এখানেই মোদী-শাহর শক্তি। তবু মন্দের ভাল, পালে হাওয়া নেই বলে মমতা বলেছেন, রাহুলের প্রধানমন্ত্রিত্ব মানতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে সবই কাঁচা অবস্থায়, ফল পাকলে যে কী হবে, তা নিয়ে কোনও ভবিষ্যৎ মন্তব্য না করাই শ্রেয়। 

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, দেশের মঙ্গল চাইলে, ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে ভারতের গণতন্ত্রপ্রিয় রাজনৈতিক নেতারা যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, আজ রাহুল-বেবি-মমতা-স্ট্যালিন-অখিলেশ-উদ্ধব-ওমর-দীপঙ্করদের সেই ভূমিকা নিতে হবে। প্রধান সহযোগী করতে হবে ককরোচদের। কেননা, ওরা স্থিতাবস্থা ভাঙার বিরুদ্ধে একটা নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করতে চাইছে। সেটা বুঝতে হবে। আমাদের সামাজিক-রাজনৈতিক ভাষার খোঁজে মাঠে নামতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রতিবাদ এক মানবিক শিল্পকলা। ইতিহাস জোরালোভাবেই তা প্রমাণ করে থাকে। তাই প্রতিবাদের ভাষাও শিল্পের সুরকে বহন করে চলে। মানবিক ক্ষোভ, হতাশা, অভিমান, রাগ বঞ্চিত বা প্রবঞ্চিত হৃদয়ের ভাষা কোনওভাবেই 'পাতাল অন্ধকার' ম্যানহোলের ঢাকনা নয়, যা খুললে শুধু দুর্গন্ধই ছড়ায়। শিল্পকলা প্রতিবাদের ভাষা চর্চা করে, তাই প্রতিবাদী মানুষ শিল্পের আশ্রয়ে যায়। যে শিল্প বোঝে না, সে জীবন চেনে না, মানবিকতার ছোঁয়া সে পায় না, সে প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। কারণ, পরিবর্তনের অসীম আহ্বান তার কাছে পৌঁছয় না।

এই আবহে আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিবাদের নানা ধরন। তার সবটাই গ্রহণযোগ্য না হলেও, কোথাও অর্বাচীনের ভাষা হলেও তার অনিবার্যতা অস্বীকার করা যাবে না। মনে রাখতে হবে, ভারতের সংবিধানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যেভাবে ইমপিচমেন্ট'এর মাধ্যমে সরানো হয়, একমাত্র সেই একই পদ্ধতিতে সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাশ করিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি তাকে অপসারণ করতে পারেন। কোনও রাজনৈতিক দল আলটিমেটাম বা আন্দোলন দিয়ে সরাসরি তাঁকে পদচ্যুত করতে পারে না। সেটা এখন হওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। এই অবস্থায় একটা পথের কথা কিন্তু বলে ফেলেছেন সিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। যা দেশের সব বিরোধী দলের কাছেই একটা চ্যালেঞ্জ। দীপকে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ভোট চুরির অভিযোগ এনেও বিরোধী দলগুলো কেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে? তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ভোট চুরি ও জালিয়াতির অভিযোগ তোলা আর ভোটে অংশ নেওয়া পরস্পর বিরোধী আচরণ। তিনি মনে করেন, বিরোধীদের এই দ্বিচারিতার ফলে কারচুপির নির্বাচন রাজনৈতিক বৈধতা পেয়ে যাচ্ছে। দেশের ভোট প্রক্রিয়া যে অবাধ ও নিরপেক্ষ, সেই ভ্রান্ত ধারণা মানুষের মনে গেঁথে যাচ্ছে। দীপকে'র ভাষায়, ‘আপনি বারবার বলবেন খেলায় চুরি হচ্ছে, ম্যাচ ফিক্সড; অথচ সেই খেলায় অংশও নেবেন, এটা হয় না। এতে কারচুপির নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হয়। একে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা বলে না। এই ব্যবস্থা আপনাদের দুর্বল করছে। যখন–তখন দল ভেঙে দিচ্ছে।’

দেশের চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দীপকে একটা ‘ফিক্সড’ ক্রিকেট ম্যাচের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফিক্সড ম্যাচকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানো হয়। দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ক্যাচ ফসকানো হয়। শেষ ওভার পর্যন্ত খেলাটাকে টেনে নিয়ে যাওয়ার নাটক করা হয়। জালিয়াতির নির্বাচনকেও তেমন বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিরোধীদের কোথাও কোথাও জেতানো হয়। মেকি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আসল ও নিরপেক্ষ দেখানোর চেষ্টা চালানো হয়। এ ক্ষেত্রে তেমনই হচ্ছে। সিজেপি নেতা বিরোধীদের পরোক্ষে ভোট বয়কটের পরামর্শ দিয়েছেন। বিরোধীদের প্রতি তাঁর প্রশ্ন, যখন ভোট চুরি হচ্ছে, সাংসদ-বিধায়কদের ভাঙিয়ে নেওয়া হচ্ছে, দল ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, তখন কোন ধরনের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন? এভাবে কত দিন টিকে থাকা সম্ভব? বিরোধী অনৈক্যের প্রতিও তিনি ইঙ্গিত করেছেন। দীপকে বলেছেন, ‘কেবল আপনাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে সরব হবেন আর অন্যত্র নীরব থাকবেন, এমন হতে পারে না। ভোটে কারচুপি হলে তা যে কোনও রাজ্যে হতে পারে।’

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীরা খড়্গহস্ত হলেও শাসক দল বিজেপি শুরু থেকেই কমিশনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির বিভিন্ন নেতা কমিশনের হয়ে টানা সাফাই গাইছেন। শুভেন্দু অধিকারীর মতো লোকেরা হাত ধুয়ে নেমে পড়েছেন জ্ঞানেশ কুমারদের বাঁচাতে। এই পরিস্থিতিতে একটু হলেও বেসুরো শুনিয়েছে বিহারে বিজেপির শরিক লোকজনশক্তি পার্টির নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের বক্তব্য।গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম সম্পর্কে দেশের মানুষের মনে যাতে বিরূপ ধারণা, সংশয় বা সন্দেহের সৃষ্টি না হয়, তা দেখার ও নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই। 

আমরা যদি ধরে নিই, ককরোচদের আন্দোলন 'যন্তর মন্তর ২.০' হয়ে উঠবে, তবে মোদী-শাহ নিজেরাই জ্ঞানেশকে ধর্মেন্দ্রর মতো বলি দিতে এগিয়ে আসবেন। তাতে কী আদৌ কোনও সুরাহা হবে? না। কেননা, তখন এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই মোদী-শাহরা তাঁদের আরেক পোষ্য কোনও রূপেশ বা ধনেশকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার করে বসাবেন। তিনিও ওঁদের মনের মতো করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিজয়কে সুগম করবেন। জ্ঞানেশ কুমারের মাধ্যমে এসআইআর প্রক্রিয়ায় রক্তপাতহীন গণহত্যা চালিয়ে যেভাবে অসংখ্য মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে প্রকৃতপক্ষে 'জীবিত-মৃত' এক অদ্ভুত জীব সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদের রাস্তা চূড়ান্ত করা হয়েছে, ওঁদের 'নবনিযুক্ত' মুখ্য নির্বাচন কমিশনারও তাই করবেন। অতএব, এই অবস্থায় চাই এমন একটি আন্দোলন যাতে চলমান ব্যবস্থাটাই অচল হয়ে যায়। 

গান্ধী জয়ন্তীর দিন সেই আন্দোলনের নান্দীমুখ, এবার তা টেনে নিয়ে যেতে হবে চূড়ান্ত পর্যায়ে। 

কেউ কেউ মনে করছেন, আদালতে গেলে সুরাহা পাওয়া যাবে। আমার মনে হয় ঘেঁচু পাওয়া যাবে। কেননা, কোনও স্তরের আদালতই নিপাট নিরপেক্ষ মেকানিকাল ফাংশনাল বডি নয়, ওগুলো চলে বিচারপতির মাথা দিয়ে। কোন বিচারপতি তাঁরা? যাঁদের সম্পর্কে কয়েকদিন আগেই প্রবীণ আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে প্রকাশ্যে বলেছেন, 'সুপ্রিম কোর্টে প্রচুর দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতি আছেন যাঁরা ন্যায়বিচারের ক্ষতি করেছেন।' Live Law.in লিখেছে, দুষ্মন্ত দাভে বলেছেন, 'There've been so many corrupt judges in Supreme Court who've damaged justice.'। আমাদের অভিজ্ঞতাও তাই বলে না কি? 

সিজেপির সৌরভ দাস এক সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে। যার বাংলা করলে দাঁড়ায়, 'মুখ্য  নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এখন হাইকোর্ট আর সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন দাখিল করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, শেষবার যখন নাগরিকরা বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তখন কী ঘটেছিল। নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে সুপ্রিম কোর্টই নিশ্চিত করেছিল যে বাংলায় এসআইআর যেভাবেই হোক করা হবে। যখন গণহারে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিণতি উপেক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, তখন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এক অসাধারণ মন্তব্য করেছিলেন যে, যারা ‘এবার’ ভোট দিতে পারেননি, তারা ‘পরেরবার’ ভোট দিতে পারবেন! তাঁকে কে বলবে যে, একটি সম্ভাব্য চুরি হওয়া নির্বাচনের জন্য কোনও ‘পরেরবার’ নেই? সুতরাং, যেহেতু আদালত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাই জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে এই নতুন আবেদনগুলো তারা যতবার খুশি শুনুক। তারা যা খুশি আদেশ দিক। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহিতার জন্য আমাদের গণতান্ত্রিক দাবি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কারণ চূড়ান্ত ভাবে, ভারতীয় গণতন্ত্রের মালিক কোনও নির্বাচন কমিশনার বা বিচারপতি নন। এর মালিক আমরা, জনগণ।' 

এখানেই আমার মনে হয়েছে, মাসতুতো ভাইদের কাছে কমিশনের বিচার চেয়ে লাভ হবে না। কেননা, এদের মদতেই জ্ঞানেশের এত বাড়বাড়ন্ত। এরাই বঞ্চিত ভোটারদের সম্পর্কে মন্তব্য করে, 'উপনির্বাচন তো'! তাই এই আদালতের দিকে তীর্থের কাকের মতো না-চেয়ে রাস্তায় থেকেই এই নির্বাচন কমিশনের গণতন্ত্র বিরোধী পদক্ষেপের জবাব দিতে হবে। সেই পথচলা শুরু হয়েছে, ঠিক মতো চলতে পারলে, ককরোচ আর টিম ইন্ডিয়া যদি রাস্তার দখল না ছাড়ে, যদি রাস্তা কামড়ে পড়ে থাকে, তবে মোদী-জ্ঞানেশ-শাহ চক্রের অনিবার্য পতন নিশ্চিত। আর তা হলে আমাদের  আদালতের গণ্ডারদেরও চামড়া ভেদ করা যাবে।