Wednesday, 1 July 2015

মিড ডে মিলেও ধর্ম?



মিড ডে মিল নিয়ে ধর্মের রাজনীতি কেন?

অভিজিৎ রায়

শিশুদের পুষ্টি নিয়ে কোনো ট্র্যাজেডি না ঘটলে সেটি প্রাইম টাইম নিউজ হয় না। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান মহাশয়ের মিড ডে মিলে সম্প্রতি সেদ্ধ ডিম দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞ‍া জারি করেছেন। অঙ্গনওয়াড়ীর অন্তর্ভুক্ত ইন্টিগ্রেটেড  চাইল্ড  ডেভেলপমেন্ট (আইসিডিএস) কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে শিশুদের পুষ্টিবৃদ্ধির যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তাতে পুষ্টি বৃদ্ধিতে মধ্যাহ্ন ভোজনে সেদ্ধ ডিমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন পদক্ষেপ তার ব্যক্তিগত রাষ্ট্রনীতি বলেই বোধ করি। অবশ্য এই পদক্ষেপের কোনও ব্যাখাই তিনি নিজে দেননি তার মুখ্য সচিবের ব্যাখানুযায়ী, ‘নিরামিষভোজন মুখ্যমন্ত্রীর একটি অনুভূতির বিষয়’; শুধু তাই নয় মুখ্যসচিবের ব্যখানুযায়ী, আমিষ ভোজনে নাকি শিশুদের ‘সেনসিটিভিটি’ বা ‘সহজে অনুভবনশীল ক্ষমতা নষ্ট হয়’ বলেও মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী অথচ তারই রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক ৩-৬ বছরের শিশুদের পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য প্রাতরাশে সেদ্ধ ডিম দেওয়ার প্রস্তাব রাখে - বিশেষত মান্ডলা, আলিরাজপুর ও হোসাঙ্গাবাদের মতো উপজাতি এলাকাগুলিতে পুষ্টির হার বৃদ্ধির জন্য এই প্রস্তাব খুবই কার্যকরী। আইসিডিএস ও মিড ডে মিল কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্যই হল অন্ত্বঃসত্তা মহিলা ও শিশুদের পুষ্টি বৃদ্ধি করা।

ভারতে ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় পরিবার সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে শিশুরা মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত তাদের শারীরিক গঠন অত্যন্ত দুর্বল এবং গোটা দেশে মাত্র ১০ শতাংশ শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় একটি টিভি চ্যানেলে বিতর্কানুষ্ঠানে বিজেপি মুখপাত্র দুধের মহিমা কীর্তন করে এটিকে প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু যে পরিমাণ ক্যালোরি, প্রোটিন ডিম থেকে মেলে দুধ থেকে তা মেলে না বলেই মনে করেন নিউট্রিশ্যানিষ্টরা। আসলে যতই ডিম অথবা দুধ দেওয়ার কথা বলা হোক, সরকারি খাতায় মিড ডে মিলের মাধ্যমে একটি শিশুর পুষ্টি বৃদ্ধির জন্য প্রত্যহ মাত্র ৭ টাকা বরাদ্দ - এই খরচে পুষ্টি সত্যিই কতটা বাড়ানো সম্ভব তা জানা নেই

ভারতীয় সংবিধানের ২১ ধারানুসারে জীবনের অধিকারের মধ্য দিয়ে খাদ্যর অধিকার প্রতিষ্ঠিত। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়েও খাদ্যের অধিকারকে স্বীকৃতি জানানো হয়েছে। আসলে গলদটা গোড়া থেকেই ছিল। ২০০১ সালে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলিকে মিড ডে মিল চালু করার যে নির্দেশ দেয় এবং সেটির মেয়াদ ফুরোনোর আগে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্য সেই নির্দেশ কার্যকর করে। ডিম নিয়ে অনীহাটা শুরু থেকেই চলে এসেছে, মূলত ২০০৭ সাল থেকে বিজেপি মিড ডে মিলে ডিম দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে। মধ্যপ্রদেশে ডিমের নিষিদ্ধকরণের পক্ষে সওয়াল করে রাজ্যের একটি সম্প্রদায়ের দাবি ‘ডিম তো গাছে ফলে না তাই এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে শিশুদের বাঁচানো দরকার, তাছাড়া ঘোড়া বা হাতির মতো শক্তিধর প্রাণীও শাকাহারি’।কথাগুলি হাস্যকর শোনালেও এগুলিই তাদের কাছে প্রত্যয় শিশুদের স্বাস্থ্যের আগে ধর্মীয় আবেগকে স্থান দিয়ে এনারা প্রকৃত কর্তব্য পালন থেকে শুধু বিরতই হন না, মানবাধিকারও লঙ্ঘন করেন।

এইসব যুক্তি দেখে বলা যায়, আমিষ ভোজনে শিশুদের খুব একটা বেশি বুদ্ধিহীনতা ঘটবে না কারণ অবস্থাটা আগে থেকেই খারাপ। দেশের শিশুরা ইস্কুলের বেঞ্চির উপর দু'খানি শীর্ণ খর্ব চরণে দোদুল্যমান, সেই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎও দুলছে। ইস্কুলে মাস্টারের বেত হজম করতে করতে, অনাহারে দিন কাটাতে কাটাতে তাদের হজম শক্তি দুর্বল, মানসিক পাকযন্ত্রটাও পরিণত হয় না, অতএব সেখানে আমিষ ভোজনে তাদের ‘সেনসিটিভিটি’ কমে যাওয়ার বিশেষ ভয়না নেই

ভারতে সংস্কৃতিগত পার্থক্যের জন্য মানুষের রুচি, খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেএে ভিন্নতা আছে আর এই ফারাকটাই কোথাও সমস্যার সৃষ্টি করে। এই ধরনের নিষিদ্ধকরণে উচ্চ শ্রেণির নিরামিষ ভোজন মানসিকতা যেমন গুরুত্ব পায় সরকারি নীতির বদলে, তেমনি বাস্তবকে উপেক্ষা করে আপন চিন্তাধারা চালানো আর সেখানেই প্রকাশ পায় শ্রেণি-জাতপাত ভেদাভেদের রাজনীতি। আমাদের দেশে ‘খাদ্যের জাতপাতকরণ’ ব্যাপারটাও অস্বাভাবিক নয়, তাতে শিশুদের পুষ্টি বৃদ্ধি কমে গেলেও শাসকের নিরামিষ বিধি প্রয়োগ করা ছাড়া গতি নেই ইউনাইটেড নেশন’এর খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, অপুষ্টির শিকারে প্রতি চারজনের একজন ভারতীয়; যেখানে অপুষ্টির হার তীব্র সেখানে পুষ্টির বৃদ্ধি প্রাধান্য পাওয়া দরকার নয় কী?।

কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং ছওিশগড়ের শিক্ষা ও সাহিত্য মন্ত্রকের যৌথ সমীক্ষাতে উঠে এসেছে, মিড ডে মিলে প্রোটিনের জন্য অন্য রাজ্যগুলির তুলনায় ওড়িশায় সবচেয়ে বেশি ডিমের ব্যবহার হয়, বিশেষত উপজাতি বসতি এলাকাগুলিতে পুষ্টির হার বৃদ্ধিতে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। ওড়িশা সরকার একটি অভিনব পন্থা নিয়েছে - তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মিল বাড়িতে রেশন করে দেওয়া হয়। মিড ডে মিলের মধ্যেও বহুজাতিক সংস্থাগুলি তাদের মুনাফা পেতে চায়। তারা প্রভাব খাটিয়ে রান্না করা মিলের পরিবর্তে ড্রাই মিলের প্যাকেটের ব্যবস্থা করে যার মেনুতে নিরামিষ খাবারই থাকে এতে খাবারের মান নিয়ে সন্দেহ থাকে পশ্চিমবঙ্গেও মিড ডে মিলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু এই বঙ্গ কেন, সম্প্রতি মহারাষ্ট্রেও অঙ্গনওয়াড়ীর খাদ্য কেনার ক্ষেএে কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে এবং খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মিড ডে মিলের মাধ্যমে কেবল পুষ্টি নয় ইস্কুলের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ বৃদ্ধিও করা হয়। তথ্যানুযায়ী, ২০১৩-১৪ সালে প্রায় ১০.৪৫ কোটি শিশুকে স্কুলমুখি করা গেছে মিড মিলের মাধ্যমে

ছওিশগড়ে ২০০৫ সাল থেকে ‘ফুলওয়ারির’ মাধ্যমে উপজাতি এলাকাগুলিতে শিশুদের পুষ্টি বৃদ্ধির প্রক্রিয়াতে ডিম প্রচলিত হলেও ২০১৩ সাল থেকে তা নিষিদ্ধ হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রামন সিং কিছুদিন আগে সুরগুজাতে প্রকাশ্য জনসভায় বলেন, উপজাতি এলাকার শিশুদের পুষ্টির জন্য ডিম প্রয়োজন। কিন্ত তিনি এটিকে সরকারি নীতির আওতাভুক্ত করেননি। কারণটা বোধহয় হিন্দুত্ববাদী বস’দের চোখে অপ্রিয় পাত্র হয়ে পড়বেন। ‘ফুলওয়ারি’ কোনও সরকারি প্রকল্প নয়, এটি প্রতিটি গ্রামের মায়েদের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রকল্প যার অর্থ আসত জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে।

মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক বা ছওিশগড়ে ডিম নিষিদ্ধকরণ শিশুদের স্বাস্থ্যর পরিপন্থী - এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ অবৈজ্ঞানিক পর্যায়ে পড়ে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ‘বেটি বাঁচাও’র মতো কর্মসূচিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন সেখানে শিশুদের পুষ্টির সঙ্গে আপস মেনে নেওয়া হবে কেন? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আইসিডিএস এবং মিড ডে মিল কর্মসূচিতে মেয়েদের স্বাস্থ্যের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। ‘মিশন ইন্দ্রধনুশ’ কর্মসূচির সাফল্য পুষ্টির হার বৃদ্ধির উপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি বৃদ্ধিটাই প্রাধান্য পাওয়া দরকার। দেশের স্বাস্থ্যের হাল নিয়ে বড়াই করা যায় না তবু এই সব সিদ্ধান্ত যারা নেন তাদের উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় তো নয়ই বরং সমাজের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকারক। কোনওরকম রাজনৈতিক জটিলতা, জাতপাতের ভেদাভেদ ও ধর্মীয়তাকে দূরে রেখে শিশুদের পুষ্টি বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।

মিড ডে মিলের কর্মসূচির নির্ধারণে মুনাফাখোরেরা নাক গলাতে পারে না তাই মন্ত্রীকে হাত করে কোটি টাকার টেন্ডার আদায় করে ন্যূনমানের খাবার কিনে দেয়। আখেরে ক্ষতিটা হয় শিশুদেরই। সহজ কথাটা হল, ‘শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ’ - কিন্তু এখানে তারাই তো দুর্নীতির শিকার এখানে শিশুদের স্বাস্থ্য মায় দেশের ভবিষ্যৎ, অপুষ্টি-হিন্দুত্ববাদী-সংকীর্ণ মানসিকতার মাঝে পথ হারিয়েছে। মিড ডে মিল নিয়ে রাজনীতির আকচাআকচি বন্ধ হোক এই কামনা করি। শাসক কখনও অন্যের নিষেধ মানবে না, তার নিষেধ সবাইকে মানতে হবে, এটাই দস্তুর আমাদের সমাজে।
সব শেষে একটা কথাই বলা যায়, শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া দরকার। মিড ডে মিলে আমিষ বন্ধ করে নিরামিষ খাবার দেওয়ার মধ্যে দিয়ে সমাজের কোনও কল্যাণ করা যায় না ধর্ম-জাতপাতের দোহাই দিয়ে শিশুদের খাদ্যের উপর নিষেধাজ্ঞ‍া আরোপে কোনও বীরত্ব নেই।
                       
                         

Friday, 26 June 2015

'একক মাত্রা' জুলাই ২০১৫

প্রকাশ পেল 'একক মাত্রা' ২০১৫ জুলাই সংখ্যা 
প্রচ্ছদ ছবি এঁকেছেন প্রদীপ মৈত্র 




সূচিপত্র
একটু জানাই, কিছু কিছু বিক্রেতা ও বইয়ের দোকান আমাদের কপিগুলো নিয়ে আর দাম দিচ্ছেন না, কিছু ক্ষেত্রে অবিক্রিত কপিগুলোও ফেরত দিচ্ছেন না। আমাদের পক্ষে এ খুব বিপদের কারণ। তাই, আগামী সংখ্যা থেকে আমরা শুধুমাত্র কতিপয় ভদ্রস্থ স্টলগুলোতেই আমাদের কপি দেব।
যারা 'একক মাত্রা' সংগ্রহ করতে চান তাঁরা দয়া করে ওই নির্দিষ্ট দোকানগুলো থেকে নেবেন, নচেৎ আমাদের গ্রাহক হয়ে ডাকযোগে নিতে পারেন অথবা প্রতি মাসের দ্বিতীয় শনিবার কলকাতার একাদেমি অফ ফাইন আর্টস'এর সামনে লিটল ম্যাগাজিন মেলা থেকে; একান্তই না পেলে ব্যক্তিগত যোগাযোগে।
যে দোকানগুলোতে পাবেনঃ পাতিরাম, বুক মার্ক, বইচিত্র, ধ্যানবিন্দু (এগুলো সব কলেজ স্ট্রিট অঞ্চলে), কোলের স্টল(বিবাদি বাগ), সুনীলের দোকান(উলটোডাঙ্গা), কল্যাণের দোকান(রাসবিহারী), বেলঘরিয়া, সোদপুর ও নৈহাটি স্টেশন।
মফঃস্বলের পাঠকেরা তাঁদের এলাকার দোকানগুলোতে বলবেন তাঁরা যাতে কলকাতার উক্ত স্টলগুলো বা আমাদের থেকে সরাসরি পত্রিকা সংগ্রহ করে নেন।

Thursday, 25 June 2015

প্রসঙ্গ টিম হান্ট



টিম হান্ট ও একটি রসিকতার কাহিনি
সায়ন্তনী অধিকারী
 
টিম হান্টের নাম আমি আগে শুনিনি। যেমন আরও অনেক নোবেল জয়ীর নামও শুনিনি। কিন্তু স্যার টিমের খ্যাতি সম্প্রতি কিছু বাড়ায় শুনতে বাধ্য হলাম আরও অনেকেরই মতো।

স্যার টিম ইউসিএল’এর সাম্মানিক অধ্যাপক ছিলেন এই কিছুদিন আগে অবধি। ৯ই জুন তিনি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাংবাদিকতা বিষয়ক সম্মেলনে কথা বলার সময় বলে বসেন যে ল্যাবরেটরিগুলিতে মহিলাদের উপস্থিতি সমস্যাজনক, কারণ, মহিলাদের উপস্থিতিতে প্রেমের সম্ভাবনা বেশি, আর মহিলারা সামান্যতম বকুনি দিলেও কান্নাকাটি বেশি করেন। এর পরেই অবশ্য হান্ট যোগ করেন যে তিনি নিছকই মজা করছিলেন, কিন্তু এই স্বীকারোক্তি খুব একটা গ্রাহ্য হয়নি প্রথমদিকে। মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে এবং টিম হান্ট পদত্যাগ করেন। আর এরপরই শুরু হয় আরেক প্রস্থ আলোড়ন। টিমের কিছু সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রী লিখিত ভাবে জানান যে টিম মোটেই সেক্সিস্ট নন এবং মিডিয়া ও কিছু অতি তৎপর ফেমিনিস্ট অকারণে তাঁর উপর এই লেবেল লাগিয়ে দিচ্ছে। অপরদিকে কেউ কেউ এও বলেন যে একটি সাধারণ রসিকতাকে নিয়ে বেরসিকরা একজন বিজ্ঞানসাধকের জীবিকা কেড়ে নিল। এ প্রসঙ্গে একটু দেখে নেওয়া যাক আসলে সমস্যাটা কোথায় হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় করা টিম হান্টের মন্তব্য নিয়ে আলোড়ন হওয়া খুব অস্বাভাবিক নয়। একজন নোবেল জয়ী বিজ্ঞানীর কথা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে এটা কি খুবই অপ্রত্যাশিত? আর রসিকতার মধ্যে দিয়েই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট ধ্যান-ধারণার বীজ রোপণ ও লালন করা হয় সে বিষয়েও সন্দেহের বিশেষ অবকাশ থাকে না। তাহলে, ‘শুধুমাত্র রসিকতা’ বলে বিষয়টিকে কতটা লঘু করে দেখানো যায়? এবং একজন নোবেল প্রাপ্ত বিজ্ঞানী এ বিষয়টা বোঝেন না ভাবা হলে সম্ভবত তাঁর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সংশয় পোষণ করা হয়, যা বেশ আপত্তিকর।

আসা যাক সোশ্যাল মিডিয়া সহ অন্য মিডিয়া সমূহতে প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত প্রশ্নে। কনি সেন্ট লুইস বলে যে সাংবাদিক এই খবরটি ‘ব্রেক’ করেন, তার উপর পরবর্তীকালে টিম হান্টের ‘ছাঁটাই’এর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একজন সাংবাদিক তাঁর কাজ করেছেন, তারপর যদি হান্ট চাকরি ছাড়েন, সে দায় কি সম্পূর্ণ রূপে উক্ত সাংবাদিক বা তাঁর লেখার? প্রসঙ্গত অন্যান্য সাংবাদিকরাও অনেকেই এই খবরটি পরিবেশন করেছেন, সর্বোপরি টিম নিজে স্বীকার করেছেন যে তিনি এই মন্তব্য করেছেন এবং তিনি এ নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থী; যদিও সঙ্গে জুড়ে দিতে ভোলেননি যে তিনি সত্যিই মজা করছিলেন ও লঘু পাপে গুরু দণ্ড হল তাঁর, যদিও দণ্ডের দায় কারুর হলে সেটি কিন্তু ইউসিএল’এর, সাংবাদিক বা অন্যান্য মানুষ যারা বিরক্ত হয়েছেন এ ধরনের মন্তব্যে, তাদের নয়।

এবার আসা যাক বিশ্ব ব্যাপী ফেমিনিস্টদের এর প্রতিক্রিয়াজনিত সমস্যায়। ফেমিনিজম সম্ভবত এ সময়ের অন্যতম বহু বিকৃত ভাবধারা। অনেক মানুষই ফেমিনিস্ট বলতে খুব রাগী, পুরুষবিদ্বেষী একদল মহিলার কথা ভাবেন। বাস্তবে কিন্তু এমনটা নয়। ফেমিনিস্ট নিশ্চিত ভাবে একটি বহুধা বিভক্ত আন্দোলন, কিন্তু ফেমিনিস্ট মানেই পুংবিদ্বেষ এটি শুধু অতিসরলীকরণই নয়, বরং সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এবং শুধু নারী নয় পুরুষ ফেমিনিস্ট দেশে বিদেশে সুলভ। এ বিষয়ে অনেক আলোচনার অবকাশ থাকে, তবে তার যথাযথ স্থান এই লেখাটি নয়। শুধু এটুকুই বলা প্রয়োজন যে টিম সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবাদে টুইটারে যে হ্যাশট্যাগ নির্মিত হয় – ‘ডিসট্রাক্টিংলি সেক্সি’ - তার রসগ্রহণ করতে রসিক মানুষ টিম ও তাঁর সহযোগীরা ব্যর্থ হলেন কেন, এই নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। সম্ভবত টিম চাকরি খুইয়ে রসবোধজনিত সমস্যায় পড়েছেন। তাকে বিনম্রভাবে বলি, ক্ষমা করবেন স্যার টিম, আপনার রসবোধ বুঝতে ঠিক একইভাবে আমাদেরও সমস্যা হয়েছিল। আসলে আপনার রসিকতার কারণে মহিলাদের জন্য কাজের সুযোগ একটু হলেও হ্রাস পাবে এটাই আশঙ্কার কারণ। আর ঠিক তাই আপনার চাকরি যাওয়া নিয়ে আনন্দ করতে পারছি না!

Tuesday, 23 June 2015

'একক মাত্রা' ১০০ - আরও কিছু মুহূর্ত

'একক মাত্রা' ১০০ - আরও কিছু মুহূর্ত ও প্রতুলদার গান 



প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গান
নিচে ক্লিক করুন 

Monday, 22 June 2015

'একক মাত্রা' ১০০




একশো 'একক মাত্রা'
পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায়

লিটল ম্যাগাজিনের কাজ হল একটা গোষ্ঠী তৈরি করা এমন এক গোষ্ঠী যেখানে একদল স্বঘোষিত লেখক জড়ো হয়ে একে অপরের পিঠ চাপড়ায় তাঁরা নিজেরাই নিজেদের লেখা পড়েন, নিজেরাই সেগুলোর সমালোচনা করেন ইত্যাদি এমন অভিযোগ শোনা যায় বড় কাগজের মুখে প্রায়শই তাই বড় কাগজের মুখ রাখতে, আজ ভাবছি একটু নিজেদের পিঠ চাপড়াব সেই উদ্দেশ্যেই লিখতে বসা
‘একক মাত্রা’ নামক ছোট দ্বিমাসিক কাগজখানা পিঠ চাপড়ানোয় এমন ব্যুৎপত্তি লাভ করেছে, মে মাসে ১০০তম সংখ্যাটি প্রকাশ করতে পেরেছে সেই আনন্দে আটখানা হয়ে, একটা ছোটখাট আড্ডার আয়োজন করা হয় নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী, এমন আড্ডার পরিকল্পনা হচ্ছে শোনামাত্র সল্ট লেক করুণাময়ীর কাছে 'অন্য থিয়েটার' দলের যে বাড়িটা আছে, তার একখানা ঘর সাগ্রহে আমাদের ব্যবহার করতে দেবেন বলেন বিভাসবাবু দীর্ঘদিন ‘একক মাত্রা’ পড়ছেন, লিখেছেনও বেশ কয়েকবার আড্ডার দিন ঠিক হয় ২০ জুন বিভাসবাবু ছাড়াও সেদিনের আড্ডায় ছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়, একক মাত্রার সম্পাদক অনিন্দ্য ভট্টাচার্য, সম্পাদকমণ্ডলীর বাকি সদস্যেরা আর একক মাত্রার অন্যান্য বন্ধুরা স্তুতি, ব্যজস্তুতি, তর্ক, বিতর্ক, সমালোচনা, প্রস্তাবনা, স্মৃতিচারণ, চা, শিঙাড়া, গান, কবিতায় জমে গেল সন্ধ্যের আসর  প্রতুলদার কথা ধার করে বলতে হলে, 'মাথায় বরফ পড়া' লোকের ভিড় সেদিন যেমন ছিল, তেমনই আমার মতো অকালপক্ক মাতব্বরেরাও বাদ পড়েনি আমাদের এক লাইফ মেম্বার বললেন তাঁর উনিশ বছরের ছেলে একক মাত্রা পড়ার আগ্রহ পায় না তর্ক চলল, উনিশ বছরের কাছে নিজেদের পৌঁছতে হলে উনিশ বছরকে আমাদের মতো করে তৈরি করার প্রয়োজন, না আমাদেরই তাদের পছন্দের সঙ্গে তাল মেলাতে শিখতে হবে? প্রশ্ন উঠল কাগজের ফর্ম কন্টেন্ট নিয়েও  -ম্যাগ, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়াও বাদ পড়ল না নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছনোর তাগিদে নতুন মাধ্যমগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়াও সাব্যস্ত হল সব শেষে কিছু কবিতা পাঠ, সংহিতা আর প্রতুলদার গান দিয়ে শেষ হল আসর যে ঘরে আড্ডা হচ্ছিল তার ঠিক বাইরেই ডিসপ্লে করা হয়েছিল একক মাত্রার প্রচুর পুরনো সংখ্যা আর প্রতিশ্রুতি মতো উপস্থিত বন্ধুদের সেগুলোর মধ্যে থেকে তাঁদের পছন্দের যে কোনও একটি করে সংখ্যা উপহারও দেওয়া হল

পিঠ চাপড়ানোর পালা শেষ এবারে বন্ধুরা, অনুরোধের পালায় আসি এই ব্লগের জন্য প্রতিনিয়ত ভালো লেখার খোঁজে থাকি আমরা বর্তমান যে কোনও প্রাসঙ্গিক বিষয় যা আপনাকে অনুপ্রাণিত, ব্যথিত, আলোড়িত করে, তার ওপর ৪০০-৫০০ শব্দের লেখা ekakmatra@yahoo.com এ পাঠিয়ে দিন ব্লগে আমরা ইংরেজি লেখাও ছাপি

Friday, 5 June 2015

'একক মাত্রা'র আড্ডা ..




প্রথম প্রকাশ অক্টোবর ১৯৯৮। তারপর নিরন্তর চলা। ২০১৫’এর মে’তে এসে শততম সংখ্যার প্রকাশ। অগুন্তি মানুষের সমর্থন ও আশকারা ছাড়া এই পথ চলা সম্ভব ছিল না।

তাই একটু বসা, কথা বলা সকলের সঙ্গে। জেনে নেওয়া, জানানো। আড্ডা আলোচনা পাঠ, চাইলে গান, ও এই সময়ের জরুরি কথা। এইসব নিয়েই ২০ জুন শনিবার আমরা সকলে বসছি বিকেল ৫টা থেকে ‘অন্য থিয়েটার’এর সভাঘরে (সল্ট লেক করুণাময়ীর কাছে, CK-43, Sector-II)

আপনিও আসুন। পরে জানাচ্ছি আরও বিশদে।

সম্পাদকমণ্ডলী
একক মাত্রা