Friday, 30 June 2017

পাহাড়ের কথা



পাহাড়ে ও সমতলে বাঙালি, গোর্খা, নেপালি, আদিবাসী ও বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে বিভেদ ও আগুন লাগানোর যে চেষ্টা চলছে তার বিরুদ্ধে সমস্ত জাতির মানুষেরা এক হয়ে আজ (৩০ জুন) শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে বিকেলে এক বিশাল নাগরিক মিছিল বের করবেন। এই পরিপ্রেক্ষিতেই এই মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তা সৌমেন নাগ শিলিগুড়ি থেকে এই লেখাটি পাঠিয়েছেন (লেখাটি ইংরেজিতে যাতে সমস্ত ভাষাভাষীর মানুষেরা বুঝতে পারেন):

United We Stand!
Soumen Nag

Darjeeling is not smiling. Those who saw the smile only, they did not take any pain to peep into the minds of the people of the hill where poverty, sorrow and a feeling of alienation were encompassing the entire population over the years. To understand the mind and get a true picture of the people, one should have stepped down from the authoritarian chariot unto the ground and make up their mind to feel the heart beat of the marginalised people.

The demand for Gorkhaland and their agitation is not an issue of law and order and this cannot be solved sitting on the throne of power by bullets and lathi. It cannot be solved by throwing them into a state of starvation as some began to think in that way. It cannot be solved by shouting 'Bengalees would give their blood but not allow dividing Bengal'. Such thoughts aggravate the situation towards worse. It is neither an Armageddon between hill and plain nor an issue between Bengalee and Nepali. It is a question of ethnic problem which needs a wide and sensitive mind to understand if one is really interested to reach at permanent solution. In order to fetch political gain, a nefarious attempt is being made to convert it into a communal division between Bengalees and Nepali. By doing this, one may get political dividend considering the Bengali sentiment due to their overwhelming demographic majority in terms of ballot paper but it will be at the cost of unity and fraternity between the communities which have developed through social process throughout the centuries.

The issue of self-respect and self identity along with their ethnic identity is not the lone issue of Darjeeling but it is a global issue. The immediate task is to restore the understanding between the majority and the minority communities and let them feel that the Bengalees were not there to dominate them .They live with them in brotherly relationship with equal status and respect. It should be kept in mind that our Constitution provides the provision to reconstruct a state. So to raise a a call for a separate state within the boundary of India cannot be termed as a separatist movement; but whether it is viable or not that may be an important question to discuss across the table.

Wednesday, 7 June 2017

বর্ধমানের আড্ডা

রাঢ়বঙ্গের লোকাচার ও সম্প্রীতির সংস্কৃতি
অরুণাভ বিশ্বাস

 উপস্থিত জনেরা

গত ৪ জুন 'একক মাত্রা'র পাঠকবন্ধু শর্মিষ্ঠা সেন, শামিমদা ও তাঁদের সহযোগী অহনাদি, নিবেদিতা, পারমিতা, অভী ও ভালোদা আন্তরিক আতিথেয়তা ও নিখুঁত আয়োজন সহকারে বর্ধমানের জাগরী ভবনে 'রাঢ়বঙ্গের লোকাচার ও সম্প্রীতির সংস্কৃতি' শীর্ষক একটি আলোচনাচক্রের আয়োজন করেছিলেন। আড্ডার সঞ্চালক ছিলেন রঙ্গনকান্তি জানা। 'একক মাত্রা'র আড্ডার ধারায় এ ছিল আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

শুরুতে রফিকুল ইসলামের থেকে শ্রোতারা জানতে পারেন folklore কথাটি সর্বপ্রথম William Thoms ১৮৪৬ সালে ব‍্যবহার করেন। বাংলা ভাষায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ‍্যায় এ প্রসঙ্গে 'লোকযান' এবং আশুতোষ ভট্টাচার্য 'লোকশ্রুতি' কথা দুটি ব‍্যবহার করেন। অর্থাৎ, এঁরা দুজনেই লোকসংস্কৃতির আবহমান মৌখিক প্রবহমানতাকেই গুরূত্ব দিয়েছেন। এই গতিময়তার কারণে লোকসাহিত‍্যকে রফিকুলবাবু দেশ-কালের গন্ডীতে আবদ্ধ রাখতে চান না। উদাহরণস্বরূপ তিনি জার্মানির গ্ৰীমভাইদের রূপকথার উল্লেখ করেন যে কাহিনিগুলির অনেকগুলি বণিক বা নাবিকদের মুখে মুখে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে নানারূপে সংযোজন ‌ও পরিবর্তন সহ। সব শেষে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শংসাপত্র নয়, লোকসংস্কৃতির উৎসাহী ছাত্র ও গবেষকদের লক্ষ‍্য হ‌ওয়া উচিত আন্তরিকতা ও আনন্দের সাথে লোকসংস্কৃতি চর্চার নতুন ধারা উন্মোচিত করা।
রফিকুল ইসলাম বলছেন

নীরদবরণ সরকার রাঢ়ের আঞ্চলিক স্বাভিমানকে বর্ধমান রাজবংশের ‌অবদান বলেন। রাজারা পাশাপাশি মন্দির ‌ও মসজিদ নির্মাণ করে, রাজবাড়িতে মুসলিম রাঁধুনি বহাল রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ‌এক বাতাবরণ গড়েছিলেন। নীরদবরণবাবু বলেন মহাভারতে বর্ধমানের নাম পাওয়া যায় এবং এ অঞ্চলের গৌরবময় ইতিহাস শুরু হয় ১৬৫৭ সালে বর্ধমান রাজবংশের পত্তন হ‌লে। কথাপ্রসঙ্গে নীরদবরণবাবু জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীরের নাম অনুসারে বর্ধমান নামকরণ হয় এই তথ‍্যটিকে ভিত্তিহীন মিথ বলে দাবি করেন। অবশ্য সঞ্চালক রঙ্গনকান্তি জানা The Sacred Book of East (vol.17)-এ ম‍্যাক্সমুলারকৃত পাদটীকার উল্লেখ করে জানান যে মহাবীর 'ladh' (লাঢ়)-দেশের কয়লাখনি অঞ্চলে এসেছিলেন তা প্রমাণিত।

অতীশচন্দ্র সাহা দক্ষিণবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গের লোকসংস্কৃতির তুলনায় দক্ষিণবঙ্গে সঙ্গীত ও রাঢ়বঙ্গে নৃত‍্যের প্রাধান‍্য রয়েছে তা বোঝান। লোকশিল্পীরা এই দু জায়গাতেই অবহেলিত হ‌ওয়া ও নানান ছোটখাট বিভেদ থাকা সত্ত্বেও এই দু জায়গাতেই লোকসংস্কৃতিকে ধর্মভাবনা অবদমিত করতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে তিনি উঃ চব্বিশ পরগণার বারাসতের পূর্ববঙ্গ উদ্বাস্তু সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষকতার উল্লেখ করে বলেন এ ধরনের সংহতিমূলক কর্মকাণ্ড যত আয়োজিত হবে বিভেদকামী শক্তি হিসাবে ধর্মের ভূমিকা তত কমবে। শেষে তিনি এই খেদ ব‍্যক্ত করেন যে বর্তমানে অত‍্যন্ত অনভিপ্রেত ভাবে অধিকাংশ ভারতীয়ের কোনও সংস্কৃতি নেই, আছে কেবল ধর্মচেতনা।

ঝর্ণা বর্মণ প্রথমে রাঢ় কথাটির ভৌগোলিক তাৎপর্য ব‍্যাখ‍্যা করেন। বাংলায় তুর্কি আক্রমণ ও সুলতানি শাসনের ইতিহাসকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পুনর্নির্মিত করা ও তার জন‍্য মধ‍্যযুগের বাংলায় আরাকানের মুসলিম কবি সৈয়দ আলাওল, দৌলত কাজী প্রমুখের পাশাপাশি রাঢ় অঞ্চলের মুসলিম কবি ও গীতিকারদের অবদানের কথাও স্মরণ করতে বলেন। আরাকানের কবিরা রাজানুগ্ৰহ লাভ করলেও রাঢ়ের মুসলিম কবিদের কিন্তু স্বজাতীয়দের থেকে আসা প্রতিকূলতাকে লড়তে হয়েছিল।

গৌরীশঙ্কর বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় 'Globlization and the Morbidity of the Age-old Folk Tradition' শীর্ষক দ্বিভাষিক বক্তৃতাতে লোকসংস্কৃতির বিপন্নতা প্রসঙ্গে বিশ্বায়নকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, লোকসংস্কৃতি এমন একটি সামাজিক পরিসর যেখানে বহু ভাষা বহু জাতির মানুষ একত্রিত হয়ে এক বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলে। বিপরীতে বিশ্বায়ন এমন একটি আগ্ৰাসী প্রক্রিয়া যা এক monolithic global culture এমন ভাবে সর্বত্র চাপিয়ে দেয় যে এক comprehensive cultural uniformity গড়ে ওঠে। গৌরীশঙ্করবাবুর মতে, ছোটো দেশগুলিতে আদিম জনজাতি, দেশজ ও লোকজ সংস্কৃতির বিপন্নতা বিশ্বায়ন পরবর্তী যুগে অভাবনীয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ মানবজাতির ইতিহাসে কোনও সময়েই এমন কোনও সংস্কৃতি ছিল না যার নিজস্ব ঐতিহ‍্যশালী লোক‌উপাদান ছিল না। ঐ উপাদানগুলির মধ‍্যে জনপ্রিয়তম ছিল লৌকিক দেবদেবী সমন্বিত লোকধর্ম যাকে বলা হয় 'never a religion of the past, but a phenomenon constantly happening'। কারণ, মানুষের এমন প্রাথমিক চাহিদাগুলি (যথা প্রজনন, কৃষি) থেকে ঐ দেবদেবীদের উৎপত্তি যা চিরন্তন। এজন‍্য‌ই Charles Porter'এর মতে folk-religion হল 'a protected repository of popular religious tradition' অথবা 'a lively fossil which refuses to die'। শেষে গৌরীশঙ্করবাবু রাষ্ট্রসংঘের Human Development Report পড়ে শোনান বিশ্বায়নের অবশ‍্যাম্ভাবী সক্রিয়তার বিরুদ্ধে লড়তে গেলে লোকশিল্পী ও গবেষকদের তিনটি করণীয় রয়েছে -- (i) to enhance reason and responsibilities; (ii) to build up an inherent respect and reciprocity; and (iii) to maintain cultural diversity। রাষ্ট্রসংঘের মতে 'Cultural diversity is as essential for mankind as biodiversity for nature'।

গিরিধারী সরকার বর্ধমানরাজ কীর্তিচাঁদের সময়ে (১৭০২-৪০) ৫০০০ বর্গমাইল ও বিজয়চাঁদের সময়ে (১৮৮৭-১৯৪১) ৪০৬১ বর্গমাইল রাজত্বের বিশালতা উল্লেখ করে আউল বাউল সুফি ও বৈষ্ণবদের সহাবস্থানের কথা বলেন। মোগলদুর্গ সংস্কার করে বানানো রাজবাড়ি থেকে পৃথক একটি পথ বানানো হয় সন্নিকটস্থ খক্কর শাহের দরগা পর্যন্ত যেখানে হিন্দু মহিলারাও মানত রাখতেন। কেষ্টপুর অঞ্চলে মহরমের তাঞ্জাম সোনায় মুড়ে দেওয়া হয়। ১৭৫৭ সালের পলাশি যুদ্ধে বর্ধমানরাজ তিলকচাঁদ বর্গী ভাস্কর বর্মনের হত‍্যাকারী হিন্দু সেনাপতি মানিকচাঁদকে প্রচুর ঘোড়স‌ওয়ার ও সৈনিক সহ সিরাজের পক্ষ নিতে পাঠান।

সর্বজিৎ যশের‌ও বিষয় ছিল বর্ধমানের সম্প্রীতির পরিবেশ গঠনে রাজপরিবারের ভূমিকা। বর্ধমান রাজারা বৈষ্ণব ছিলেন না, খাঁটি হিন্দু ছিলেন এবং দুই জায়গায় ১০৯টি করে মোট ২১৮টি শিবমন্দির স্থাপন করেন। তবুও মসজিদ ক‍্যাথলিক গির্জা পীরের দরগা ইত‍্যাদি স্থাপনে অকাতর দান করতেন রাজারা। ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রশ্নে বোম্বাই রায়টের সময় বড়বাজারের মসজিদের ২০০ হাত দুর পর্যন্ত কোনও হিন্দুধর্মীয় বাদ‍্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ হয়। আধুনিক ও উদারমনস্ক রাজা প্রতাপচাঁদ পরিস্থিতি অনুযায়ী হিন্দু ও মুসলিম টোটেমযুক্ত দুরকম মুকুট পরে রাজকার্য করতেন। রাজবংশের লোগোতেও দুই ধর্মের নানা চিহ্ন যেমন ঘোড়া ঢাল তলোয়ার চাঁদ ইত‍্যাদি ছিল। প্রসঙ্গান্তরে সর্বজিৎবাবু ত্রিবেণীতে মোগল বাদ্‌শাহ ফিরোজ শাহর সেনাপতি জাফর খান প্রতিষ্ঠিত মসজিদটিকে (১২৯৮) বাংলার প্রথম মসজিদ বলেন। গোহত‍্যা বন্ধে ত্রিবেণীর রাজা আদেশ দিলে জাফর খান যুদ্ধে তা‍ঁকে পরাজিত করে মন্দির লুণ্ঠন করে ঐ মসজিদ বানালেও পরে গাজী উপাধি নিয়ে ত্রিবেণীতেই বসবাস করেন। কথিত আছে তিনি ব‍্যাসকৃত গঙ্গাস্তব আবৃত্তি করতেন। মৃত‍্যুর পর ত্রিবেণীতে তাঁর সমাধিতে দরগা (১৩১৫) গড়ে ওঠে।

জাহির আব্বাস আলোচনার কালপর্ব মধ‍্যযুগ বা রাজ আমল থেকে বার করে সমসাময়িকের প্রেক্ষিতে রাঢ় অঞ্চলের সম্প্রীতির নানা ঘটনা ও অভিজ্ঞতা শোনান। এই অঞ্চলে পীরের থানে হিন্দুদের মানত, মহরমের সময় হিন্দুদের উপবাস থাকা, হনুমান জয়ন্তীর সময়ে মুসলিমদের সাথে লাঠিখেলা ইত‍্যাদি নানা ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

এরপর আরও ছড়িয়ে আড্ডা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলে শর্মিষ্ঠা সেন বর্ধমানের রাজ আমলে সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরির পিছনে কতখানি রাজবংশের কৌশলগত পদক্ষেপ আর কতখানি প্রজাগণের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ কাজ করেছিল সে সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে ঝর্ণাদেবী হিন্দু মুসলিম দুই সম্প্রদায়কে চাল ও জলের সাথে তুলনা করে রাজবংশের অবদানকে আগুন অর্থাৎ তৃতীয় শক্তি বলেন। এক্ষেত্রে সাদা ভাত আর সম্প্রীতির বাতাবরণ সমার্থক। এরপর শ্যামসুন্দর কলেজের জনৈক তরুণ শিক্ষক সোশাল মিডিয়াকে লোকসংস্কৃতির পক্ষে বিপজ্জনক আখ‍্যা দিয়ে কী করণীয় তা জানতে চাইলে এই প্রতিবেদক সোশাল মিডিয়াকে বিপদ হিসেবে না দেখে দূর-দূরান্তের লোকশিল্পীদের মধ‍্যে পারস্পরিক আদানপ্রদানের এমন মাধ‍্যম হিসেবে দেখেন যা বিশ্বায়নের বিরূদ্ধে তাঁদের সংগ্রামের হাতিয়ার হয়ে উঠবে।

গৌরীশঙ্করবাবু প্রতিবেদকের মত সমর্থন করেন। এরপর প্রতিবেদক লোকসংস্কৃতির 'আর্যাবর্তায়ণ' বা উত্তর-ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্ৰাসনকে বিশ্বায়নের মতোই বিপজ্জনক হিসেবে গণ‍্য করেন। জবাবে সঞ্চালক আর্যাবর্তায়ণ শব্দটিকে প্রত্নতত্ত্বের পরিভাষা হিসেবেই একমাত্র ব‍্যবহার করা উচিত এই মর্মে প্রবল আপত্তি ও উষ্মা প্রকাশ করলে বক্তাদের মধ‍্যে গৌরীশঙ্করবাবু ও শ্রোতাদের মধ‍্যে মোনালি পাল্টা আপত্তি জানিয়ে ঐ শব্দটিকে সমাজবিদ‍্যা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিভাষা হিসেবেও ব‍্যবহার করা যায় সেই মর্মে মতামত দেন যাকে ঝর্ণাদেবী সমর্থন জানান। এই প্রেক্ষিতে শ্রোতাদের মধ‍্যে নীরদবরণ মজুমদার মূল আলোচনা কেন শুধু মধ‍্যযুগ ও রাজ‌ আমলেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান ইতিহাস নির্মাণে কিভাবে ব‍্যবহৃত হয় সেই প্রসঙ্গে archeology of knowledge এবং knowledge of archeology-র তুলনা এনে একটি প্রতর্ক উথ্থাপন করেন যা সময়াভাবে অসমাপ্ত রয়ে যায়।

৪২°সে. গরম উপেক্ষা করে কলকাতা থেকে ১১ জন, দুর্গাপুর-আসানসোল থেকে ৫ জন সমেত মোট জনা পঞ্চাশ-ষাট মানুষের এই জমায়েত 'একক মাত্রা'র পক্ষে খুব‌ই শ্লাঘার বিষয়। আলোচনাও শ্রোতাদের ঋদ্ধ করে নানা ভাবে।  তবে আলোচনা মূলত সম্প্রীতির সংস্কৃতিতেই আবদ্ধ থাকে। লোকাচার কীভাবে এই সম্প্রীতির সংস্কৃতি নির্মাণে ভূমিকা নেয় তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়নি। যাবতীয় তথ‍্য ও ঘটনার উল্লেখ কিছুটা বর্ধমান কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে যেখানে বৃহত্তর রাঢ়বঙ্গ খানিক উপেক্ষিত হয়। বর্ধমানের ক্ষেত্রেও আলোচনা অনেকাংশে বর্ধমান রাজপরিবারের আবর্তেই সীমাবদ্ধ ছিল। সমাজবিজ্ঞানের আলোচনা মূলত ইতিহাসের আলোচনায় পর্যবসিত হয়। আবার ইতিহাসকে শুধুই জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতেই বিচার করা হয়। সাবঅল্টার্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নির্মাণে লোকাচারের ভূমিকা কার‌ও আলোচনাতেই স্থান পায়নি। সর্বোপরি, লোকশিল্প ও লোকাচারের নানা মাধ‍্যম বা প্রকাশভঙ্গিগুলি কিছু কিছু উল্লিখিত হলেও মূলত অনালোচিত থেকে গেছে।  খুব স্বাভাবিক যে, সময়ের অনুশাসনে কোনও আলোচনা বা আড্ডাতেই সবকিছুর আশাও করা যায় না। তাই এই আড্ডার পরম্পরা চলতেই থাকে।

কলকাতা থেকে দূরে শহর মফস্বল গ্ৰামে এরকম আর‌ও আলোচনা বা বিতর্ক সভা অথবা ঘরোয়া আড্ডা অনুষ্ঠিত হোক। 'একক মাত্রা'র পক্ষ থেকে উদ‍্যোক্তাদের অশেষ ধন‍্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা র‌ইল। এবার অপেক্ষা রামপুরহাটের আড্ডার জন‍্য।

Friday, 12 May 2017

ক্যানসার রোগের রাজনীতি

ডাক্তারের শঠতা
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

'স্তন কর্তন ধন অর্জন'এর পুরনো ধান্দা অবাধে চলছে উন্নত দেশগুলিতে। এ প্রসঙ্গে আসার আগে, ৭ মে 'আনন্দবাজার পত্রিকা'র সম্পাদকীয় 'শঠ চিকিৎসা'তে  বিস্তারিতভাবে উল্লিখিত ক্যানসার  চিকিৎসা  সাফল্যের বীভৎসতম কুকৃত্যের কথাটা বলে নেওয়া যাক। ইংল্যান্ডের এক শল্যবিদ (সার্জেন) ইয়ান প্যাটারসন এক হাজার মহিলার স্তন কেটে বাদ দিয়ে তাদের ক্যানসার 'মুক্ত' করার পর জানা গেছে যে উক্ত মহিলাদের কারুরই ক্যানসার  ছিল না। সার্জেন প্যাটারসন ওই মহিলাদের  প্রত্যেককে 'আপনার স্তনে ক্যানসার হয়েছে' এই ভয় দেখিয়ে 'ধর তক্তা মার পেরেক' কায়দায় নির্মমভাবে স্তন কেটে বাদ দিয়েছেন। প্রভূত ধনার্জনের উৎকট লালসায় প্যাটারসন এক হাজার মহিলার বৈবাহিক  এবং  যৌন জীবনকে বিপর্যস্ত  করার জন্য আইনি চক্রব্যূহের নজরে এবং  কঠোর  সাজা প্রাপ্তিই তার ভবিতব্য হলেও, উন্নততর  দেশগুলিতে ক্যানসারজনিত সমস্যা  'সমাধানের' এমনই ধ্যাষ্টামোর মধ্যে নতুনত্ব  কিছু নেই। আসুন, হাড় হিম করা সেই আমেরিকান ক্যানসার  চিকিৎসা সাফল্যের সর্বৈব মিথ্যাচারের মুখোমুখি  হওয়া যাক।

১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন  প্রেসিডেন্ট  নিক্সন  ঘোষণা  করলেন যে আমেরিকার দ্বিশততম  প্রতিষ্ঠা দিবস (৪ঠা জুলাই ১৯৭৬)'এর মধ্যেই আমেরিকা 'ক্যানসার মুক্ত' হয়ে উঠবে। তিনি দম্ভের সঙ্গে  বললেন, 'প্রতিভাধর  মার্কিন বিজ্ঞানীরা হেলায় চাঁদের বুকে পদচারণা যদি করতে পারেন, ক্যানসারের মতো তুচ্ছ সমস্যার সমাধান  তো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।' এই প্রকল্প রূপায়ণে নিক্সন কুবেরের খাজানা অনুদান হিসেবে দেওয়া  সত্ত্বেও  ১৯৭৫ সালের অন্তিম  পর্বে এসে যখন  এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে  ক্যানসার  প্রকোপ এবং  মৃত্যুহার কমার কোনও লক্ষণ  নেই, নিক্সনের 'প্রতিভাধর' বিজ্ঞানীরা একটা মোক্ষম চাল দিলেন। ২৬ জানুয়ারি ১৯৭৬ সালের 'দ্য ইকোনমিস্ট' পত্রিকায় হাড় হিম করা খবর ছাপা হল যে বিগত বছরকার তুলনায় আমেরিকায় চার গুণ বেশি ক্যানসার হতে চলেছে। অচিরেই অবশ্য এই মিথ্যাচারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট  হল। জানা গেল,  ৭৫ শতাংশ নিরোগ মানুষকে  ক্যানসার-আক্রান্ত শনাক্ত করে তাদের ক্যানসার মুক্ত করার পর তারস্বরে প্রচার চালানো হবে মহান নিক্সনের অকুণ্ঠিত  সার্বিক  সহযোগিতার ফলে এক লাফে আমেরিকান  ক্যানসার নিরাময় হার ৭৫ শতাংশ সাফল্য অর্জন করেছে। এর পর আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি (এসিএস) এবং ন্যাশনল ক্যানসার ইন্সটিটিউট (এনসিআই) তদন্তে নামতে বাধ্য হল। একটি ক্যানসার কেন্দ্রের সাফল্যের খতিয়ান খুঁটিয়ে দেখার পর ওই দুই সংস্থা জানাল যে 'স্তন ক্যানসার-মুক্ত ৮৮ জন মহিলাদের কারুরই ক্যানসার ছিল না।' এরপরই Breast Chopping for Dollar Making বক্রোক্তি  আমেরিকায় ভাইরাল হয়ে ওঠে।

বলার কথা এটুকুই যে, ইংল্যান্ডে আজ প্যাটারসন শঠতার যে নমুনা  পেশ করেছেন  বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে উন্নত দেশগুলিতে বহুবার  তা ঘটেছে। প্রশ্ন হল, বারবার  এমন ভয়ানক খবর উন্নত দেশের শক্তিশালী গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবার ফলে ব্যাপক হৈ-হল্লা হলেও ভারতীয় ক্যানসার  দুনিয়ার মহারথীরা নিশ্চুপ আশ্রয়  থাকাই কেন শ্রেয় মনে করেন!?

Monday, 24 April 2017

Wednesday, 12 April 2017

ক্যানসার কথা

ক্যানসারের সত্যি মিথ্যে


বিশিষ্ট  শিক্ষাবিদ  যতীন্দ্রনাথ গোস্বামী স্মরণে আয়োজিত এবারের স্মারক বক্তৃতার বিষয় ছিল 'ক্যানসার: বিজ্ঞান ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া'। বালি সাধারণ  গ্রন্থাগার আয়োজিত ৮ এপ্রিলের এই সভায় বিষয়টি সম্পর্কে ক্যানসার চিকিৎসক স্থবির দাশগুপ্ত এবং ক্যানসার অ্যাক্টিভিস্ট যদুনাথ মুখোপাধ্যায়কে বক্তব্য  রাখার জন্য আমন্ত্রণ  করা হয়েছিল। ঠিক  সন্ধ্যা ৬.৩০ মি. সভা সঞ্চালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন গ্রন্থাগারের সম্পাদক গৌতম  দত্ত। আমন্ত্রিত  দুই বক্তার সংগে শ্রোতাদের পরিচয় করানো, তাঁদের পুষ্পস্তবক, পুস্তক এবং বিশিষ্ট  শিল্পীর ছবি উপহার  দেওয়ার পর যতীন্দ্রনাথ সম্পর্কীয় স্মৃতিচারণ করেন গ্রন্থাগারের দুই সন্মাননীয় পদাধিকারী। এর পর মূলপর্ব শুরু হয় প্রয়াত ক্যানসার গবেষক ডাঃ মনু কোঠারির মাত্র চার মিনিটের অনবদ্য একটি বক্তৃতার রেকর্ড বাজিয়ে। রোগী-চিকিৎসক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষার তাৎপর্য বোঝানোর জন্য মনুভাই চিকিৎসকদের প্রায় প্রতিটি সভায় এই চার মিনিটের গানটি  শোনাতেন । এরপর যদুনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার অবৈজ্ঞানিকতাকে আড়াল করার জন্য প্রযুক্তিগত উন্নতির ঢ়োল পেটানোর কথা দিয়ে  শুরু করেন।

তিনি বলেন, ঝাঁ-চকচকে প্রযুক্তির জৌলুস সত্ত্বেও গত ৫০ বছরে সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর কোথাও ক্যানসারের প্রকোপ বা তার মৃত্যুহার একচুল কমেনি। কেউ এই দাবি করেনি যে ক্যানসার আজকাল দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, চিকিৎসিত ক্যানসার রোগীরা মধুর জীবনযাপন করছেন। বাস্তব হল, ক্যানসারের কারণে উপসর্গ যখন অনুভূত হতে শুরু হয় তখন ক্যানসারটি তার  শিশু অবস্থা অনেক কাল আগেই পার হয়ে গেছে। সেই অনেক কালের অর্থ ৫ থেকে ১৫ বছর হয়ে থাকে। ঘটনা হল, হলিউড অভিনেত্রী জোলি স্তনে BRCA-1 জিনের উপস্থিতির খবর শুনেই তাঁর দুটি স্তন কাটাবার পর ওভারিও কাটিয়ে নিয়ে আসলে এটাই বুঝিয়েছেন যে ক্যানসার হলে চিকিৎসায় লাভ হবে না। বরং, অঙ্গ দুটি না থাকলে ক্যানসার হবে না। অর্থাৎ, ক্যানসার চিকিৎসার প্রতি ঘোর  অনাস্থার কারণেই জোলি স্তনোচ্ছেদন করিয়েছেন। সম্ভাব্য ক্যানসারের প্রতি সমাজের সব  থেকে বিত্তবানদের এই প্রতিক্রিয়া আধুনিকতম ক্যানসার  চিকিৎসার বাস্তবিকতাকে স্পষ্ট করে।

এরপর সভার মুখ্য বক্তা  ডাঃ স্থবির  দাশগুপ্ত তাঁর  দেড় ঘন্টার বক্তৃতায় সভাগৃহে উপস্থিত সুধীজনেদের সামনে ক্যানসার সম্পর্কিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণাগুলি তুলে ধরেন। মুখ্যত  মিডিয়া  বাহিত  এই ধারণাগুলির কারণে জনমনে অহেতুক ক্যানসার আতঙ্ক নতুবা তা থেকে মুক্তির মিথ্যা আশ্বাসের জন্ম হয়। অত্যন্ত সহজভাবে তিনি এই সত্যটি তুলে ধরেন যে এই রোগটি হবার জন্য কোনও বাহ্যিক কারণের দরকার পড়ে না। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচ  জনের একজন তার জীবদ্দশায় রোগটির শিকার হবেন এটা নিশ্চিত বটে কিন্তু ঐ একজনটি কে হবেন তা বলা সম্ভব নয়, সেটা অনিশ্চিতই থেকে যাবে। ডাঃ দাশগুপ্ত তাঁর  দীর্ঘ ত্রিশ বছরের অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে ক্যানসার চিকিৎসার সব থেকে করুণ সমস্যাটি তুলে ধরেন: 'আমরা  ক্যানসার চিকিৎসার পরিণতি সম্পর্কিত  কোনও ভবিষ্যৎবাণী  করতে পারি না। একই বয়সের  একইরকমের ক্যানসারের একই ধরনের চিকিৎসার ফল এতটাই ভিন্ন হয় যা ব্যাখ্যা করা যায় না।' তিনি মনে করেন প্রযুক্তিগত অবিশ্বাস্য উন্নতি এবং চিকিৎসাবিধির প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও উল্লিখিত সমস্যার কোনও সমাধান হবার নয়। অথচ উন্নত প্রযুক্তি আর দামি সব ওষুধ প্রয়োগ করে গবেষণাগারে পশুর ক্যানসার ১০০ শতাংশ ঠিক  হয়েই চলেছে, আর মিডিয়া  সেই সাফল্যের সাতকাহন শুনিয়েই চলেছে। কিন্তু সেই ওষুধ ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। কেন? কারণটা হল, আমাদের ক্যানসারটার চরিত্রগত  বৈশিষ্ট্য। পশুর শরীরে যে ক্যানসার তা গবেষকদের সৃষ্ট, যাকে আমরা transplanted cancer বলি। মানুষের ক্যানসার কিন্তু স্ব-উৎপন্ন, সহজাত।


তিনি আরও বলেন, ক্যানসার  সম্পর্কে, বিশেষভাবে সচেতনতা  অভিযান চালানোর নামে  আসলে রোগটি সম্পর্কে আতঙ্কিত করা এবং তা কীভাবে কোথায়  গেলে  ঠিক  হবে, নিরন্তর  সেই প্রচার চললেও একবারের জন্যও জনমানুষকে এই সত্যটা জানানো হয় না যে প্রায় ১৪০ প্রকারের ক্যানসার পরিবারের সব কটি এক প্রকারের নয়। এর কয়েকটির চরিত্র ভাল, চিকিৎসায় সাড়া দেয়। অধিকাংশই মন্দ প্রকৃতির, চিকিৎসায় সাময়িক লাভ হয়। কিন্তু এমন কিছু ক্যানসার আছে যাকে কুৎসিত বলা যায়। কোনও চিকিৎসাতেই তা সাড়া দেবে না।

রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই সভায় শ্রোতারা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে ক্যানসারজনিত প্রশ্নগুলি বোঝার চেষ্টা করছিলেন।

Friday, 31 March 2017

Free the Maruti Workers!



Appeal to observe 4th/5th April as All-India & International Day of Protest
 
Comrades,
You are aware of the repression on us by the nexus of Company management-Police-Government, as 13 MSWU members have been sentenced to Life Imprisonment and 4 more workers handed 5 years by the Gurgaon Sessions Court on 18 March 2017 – without a shred of evidence, and solely on the false witness accounts by the management.
The MSWU body members have been targeted because they have been the leadership of the struggle since 2011 against illegal contract worker system and for Trade Union rights and dignity of labour. It is a ‘class attack’ as in the words of Maruti CEO RC Bhargava. All workers know that this manifestly unjust verdict is to ‘teach a lesson’ to us by those in power that we should not fight for our rights and dignity on the shop-floor and beyond.
But against this repression, thousands of workers in this industrial belt and across India and world are protesting. On the evening of the Verdict on 18th May, 30000 workers in Gurgaon-Manesar did tool down strike against the injustice. The Maruti Suzuki Mazdoor Sangh (MSMS)–the joint platform of Maruti Suzuki factories–had given a call for Protest on the martyrdom day of Bhagat Singh-Rajguru-Sukhdev on 23rd March in Manesar. Despite prohibitory orders of Section 144, thousands of workers from the industrial belts in Haryana and Rajasthan rallied in protest from factory after factory in Manesar. A letter from the Jailed workers was read out, and a call given to intensify the struggle for the release of the Jailed workers. It was also decided to give economic assistance to families of the Jailed workers.
On this 23rd March Protest program, we already appealed to all to observe 4th April as an all-India Day and International of Protest. Preparations for the same have already begun in various places. Meanwhile, recognized Central Trade Unions later issued a call to organize all-India Protest in solidarity with the Maruti Suzuki workers on 5th April. So, We appeal to all workers and pro-worker forces to observe 4th/5th April 2017 as all-India and International Days of Protest and show solidarity in whatever ways possible.
The struggling workers in the Gurgaon-Manesar-Bawal-Neemrana industrial belt in the states of Haryana-Rajasthan are showing that they will not relent on their legitimate rights and strengthen their class unity against the capitalist onslaught. We have also received great courage and thank the amazing show of solidarity of workers with the struggle for Justice of Maruti workers. Since the last few days, there have been protests by lakhs of workers in this and other industrial belts and by various workers, student-youth, human rights and other democratic organizations in over 30 cities-towns in the country. We also greatly encouraged and thank the amazing show of international working class solidarity with protests, deputations and solidarity positions and actions in over 21 countries. This is a long battle, and only the growing force of the movement and wider solidarity can take the struggle forward.

Provisional Working Committee,
Maruti Suzuki Workers Union
Contact: 7011865350 (Ramniwas), 9911258717 (Khusiram) on behalf of the PWC, MSWU.
email: marutiworkerstruggle@gmail.com; blog: marutisuzukiworkersunion.wordpress.com

Monday, 27 March 2017

একক মাত্রা'র আড্ডা ২৫ মার্চ ২০১৭

আড্ডার কথা
অরুণাভ বিশ্বাস

গত ২৫ মার্চ আমার বাড়িতে 'একক মাত্রা'র বন্ধুদের নিয়ে যে আড্ডা বসেছিল তার শুরুটা সামান‍্য দেরিতে হলেও মৌতাত জমতে দেরি হয় নি।শুরুতে উপস্থিত সকলে নাতিদীর্ঘ আলাপচারিতা সেরে নেন।
প্রধান বক্তা তুষার চক্রবর্তী এরপর মার্চ'১৭ সংখ্যায় গবেষণার রাজনীতি বিষয়ে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধটিকে আর‌ও পরিবর্ধিত করে, নানান অচর্চিত তথ‍্য সহযোগে, গবেষকের চেতনার জগতে স্বরাজের কথা বলেন।
এরপর বরুণ মুখোপাধ‍্যায় উক্ত বক্তব‍্যর উপর ভিন্ন আলোকপাত করেন এবং এ ধরনের প্রবন্ধের প্রাঞ্জলতার উপর জোর দেন। উপস্থিত অন্যান‍্য কয়েকজন তাঁদের মতামত, সংশয় ও নানা কৌতূহল প্রকাশ করেন।
শেষ ভাগে Jadavpur University-র Dept. of Chemical Engineering এর গবেষণাগারে প্রথম জন্মানো, সম্পূর্ণ জৈব ও ভৌত উপায়ে তৈরি, ডাবের আইসক্রিম (ice-candy আসলে) চাখতে চাখতে সকলে অসীম চ‍্যাটার্জীর মুখ থেকে এই পণ‍্যটির ইতিহাস জানতে পারেন।এরপর সম্পাদক অনিন্দ‍্য ভট্টাচার্য পুরো আড্ডার সারসংক্ষেপ করেন।
সব শেষে আত্মদীপ প্রধান অসামান্য পশ্চিমী ধ্রুপদী গিটার বাদন পরিবেশন করেন। তার পরিবেশনা ছিল Recuerdos de la Alhambra ( composed by Fransesco Tarrega, 19th century Spain)। বাড়ি ফেরার আগে বেশ কয়েকজন পত্রিকার পুরোনো সংখ্যা ও ব‌ইপত্র সংগ্ৰহ করেন এবং গ্ৰাহক হন।

Thursday, 16 March 2017

মার্চ ২০১৭

এই তো নতুন সংখ্যা। পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন স্টলে।
ইমেলঃ ekakmatra@yahoo.com

Tuesday, 14 March 2017

উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন



সোজাসাপ্টা দু’ চার কথা
অনিন্দ্য ভট্টাচার্য 

এ এক ভারী অদ্ভুত খেলা। নির্বাচনে পছন্দের দল জিতলে (যত অল্প ব্যবধানেই জিতুক না কেন) সমস্বরে বলা হয়, জনগণ জনবিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করেছে। আর হেরে গেলে, তখন শতকরা হিসেব চলে, আসলে ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে তো জিতল ওরা, সংখ্যাগুরু মানুষই তো ওদের বিরুদ্ধে। তাই কোনও ফলেই সকলে সন্তুষ্ট নয় কখনও।

এখন প্রশ্ন হল, ধারাবাহিক ভাবে কোনও দলের পক্ষে বা বিপক্ষে আছেন এমন লোকের সংখ্যা কত? অর্থাৎ, একটি দলের প্রতি কমিটেড বা একটি দলের প্রতি বিদ্বেষী – এমন মানুষের সংখ্যা একটা সময়পর্বে (ধরুন দশ কি পনের বছরে) কতটা স্থির থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর খুব জটিল। দেখা গেছে, ১৯৫২ থেকে ১৯৬৭ অবধি সারা দেশেই কংগ্রেস একচেটিয়া ভাবে বারবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। আবার ১৯৭৭ থেকে ২০১১ ও ১৯৫২ থেকে ১৯৮২ – যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশে শাসকের বদল হয়নি। তেমনই গত ১৫ বছর ধরে গুজরাতে একই শাসক দল ক্ষমতায় রয়েছে। আবার অন্য অনেক প্রদেশে বা জাতীয় স্তরে প্রতি বছরই হয় এ দল নয় সে দল ক্ষমতায় পালাবদল ঘটিয়েছে। এখন এই ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ছিটকে যাওয়ার পিছনে অবশ্যই নির্দিষ্ট কারণ আছে। উল্লেখ্য, গত এক-দু’ দশকে এই বদলের হার আরও দ্রুতগামী হয়েছে।

‘রোটি কাপড়া অউর মকান’ – এই ছিল আশির দশক পর্যন্ত নির্বাচনের মূল মুদ্দা। নির্বাচনের ময়দানে বা মাঠেঘাটে ময়দানে দারিদ্র্য, বেকারি, সমাজতন্ত্র এই নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলি নানা লড়াইয়ে মেতেছে, বড় বড় গণ-আন্দোলন বা এমনকি সশস্ত্র লড়াইও সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন নতুন দলেরও উত্থান হয়েছে এবং নানান রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ক্ষমতায় আসা এমনই এক নতুন নজির ছিল নিঃসন্দেহে। জয়প্রকাশ নারায়ণের ‘সর্বাত্মক বিপ্লব’এর ডাকও ছিল এই গোটা অনুশীলনপর্বের একটি অনুষঙ্গ। আশির দশকের মাঝামাঝি ও শেষ থেকে এই অনুশীলনের মোড়টা ঘুরতে থাকে। রাজীব গান্ধী সরকার কর্তৃক পরিত্যক্ত বাবরি মসজিদের গর্ভগৃহের তালা খুলে দেওয়া ও শাহবানু মামলায় হেরে গিয়ে সংসদে সংখ্যার জোরে আইন বদল এবং মণ্ডল কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়া – মূলত এই তিনটি ঘটনা ভারতীয় রাজনীতির গতিপথটাকেই অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। জাতপাত ও সংখ্যালঘুদের কেন্দ্র করে এক নতুন রাজনীতির মার্গ আত্মপ্রকাশ করে। রামমন্দির-বাবরি মসজিদ ইস্যু ও জাতপাতের বিষয় হয়ে ওঠে জাতীয় রাজনীতির মূল অনুঘটক। আর একে ভর করেই রাজনীতির মূল প্রাঙ্গণে উঠে আসে বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল ধরনের দলগুলি। এর পরের ঘটনাগুলি আমরা জানি।

প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দল জাতপাত ও ধর্মীয় ইস্যুগুলিকে তাদের নিজেদের মতো করে কাজে লাগিয়েছে এবং যে যেমন যখন পেরেছে ভোটের ময়দানে তার ফায়দা তুলেছে। ২০০২ সালে গুজরাতে দাঙ্গা এরকমই এক নৃশংস ঘটনা যার ফায়দা বিজেপি ষোলআনা নিজের ঘরে তুলেছে। একইভাবে ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেস দেশের বহু জায়গায় শিখদের হত্যা করেছে ও এক নৃশংস জাত্যাভিমানকে উসকে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ফায়দা উঠিয়েছে। বিজেপি যদি হিন্দু উগ্রবাদকে নিজেদের কাজ লাগিয়ে থাকে তো অন্য দলগুলি ইসলামি উগ্রবাদ বা জাতপাতের বিভাজনকে নিজেদের কাজে লাগিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ও বিহার হয়ে ওঠে ধর্মীয় ও জাতপাত ভিত্তিক রাজনীতির জঘন্যতম উর্বর ক্ষেত্র। পরিচিত মাফিয়া ডনরা তাদের বাহুবল ও অস্ত্রের জোরে একেকটি পার্টিকে ধরে ব্যাপক হারে বিধায়ক ও সাংসদ হতে শুরু করে। অর্থ, কালো টাকা ও সরকারি কোষাগারকে লুঠ করে প্রায় সারা দেশ জুড়েই গণতন্ত্রের নামে রাহাজানি ও মোচ্ছব এক সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়ায়। এর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ও গণরোষও বাড়তে থাকে। পাশাপাশি, দুর্নীতি এক ব্যাপক ও ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। দিল্লি সহ কিছু কিছু রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পথে নেমে ব্যাপক মানুষ তাদের ক্ষোভের জানান দেয়। এই সার্বিক অবস্থায়, রাজনৈতিক দলগুলির তীব্র খেয়োখেয়ির মধ্যে, জাতপাত ও ধর্মকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাদানুবাদ ও খুন-খারাপির মধ্যে পড়ে সাধারণ মানুষ চাইছিলেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে। দৈনন্দিন রুটি-রুজির সমস্যা, সরকারি অলিন্দে তীব্র দুর্নীতির মুখে হেনস্থা  হওয়া ও প্রায় সর্বত্র ধর্ম ও জাতপাতের ভিত্তিতে গরিবদের নিজেদের মধ্যে অবিশ্বাস ও হানাহানি - এই পঙ্কিল রাজনীতির আবর্ত থেকে নিজেদের বের করে আনার এক দুর্দমনীয় বাসনা সাধারণ মানুষকে পেয়ে বসেছিল। সাম্প্রতিক কালে তাই, যেখানেই রুটি-রুজির সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোনও দল কিছু বলতে বা করতে চেয়েছে সেখানেই আমজনতা তাদের ওপর আস্থা রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গে মমতার রাজনীতিতে তেমনই ডাক ছিল, বিহারে নীতিশজীও তাই বলেছেন, দিল্লিতে কেজরিওয়ালও সেই পথ ধরেই এগিয়েছেন। মানুষ এই রাজনীতিতে সায় দিয়েছেন।

অর্থাৎ, ‘রোটি কাপড়া অউর মকান’এর রাজনীতিই চাইছে আবার মূল কেন্দ্র হতে। বিজেপি আপাতত এই রাজনীতিকেই মূল করে এগোতে চাইছে। ক্লান্ত উত্তরপ্রদেশবাসী জাতপাত ও ধর্মের ক্লিশে রাজনীতি থেকে মুক্তি চেয়েছেন। জাতপাত, লিঙ্গ, ধর্ম নির্বিশেষে তারা বিজেপিকে এবার উজাড় করে ভোট দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সক্ষমতাই যে অন্যান্য বিভেদ থেকে মুক্তির অনেকটা সহায়ক তা মানুষ জানেন। বিজেপি যদি ধর্মের জিগির তুলে এই আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিহত করতে চায় তবে তার পতন আবারও সুনিশ্চিত। কারণ, অন্যান্য দলের মতোই বিজেপিও ধর্মকে কাজে লাগাতে সিদ্ধহস্ত। মানুষের চাপ ও আকাঙ্ক্ষা এবং ভোটে বদলে দেবার সক্ষমতা মানুষকে কিছুটা হলেও পরিসর দিয়েছে নিজেদের চারপাশটাকে আংশিক পালটাতে। আর নির্বাচন যেহেতু এখন বছরওয়ারি মোচ্ছব তাই অশ্বের লাগাম কিছুটা হলেও জনতার হাতে। অবশ্য, ভারতীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় কিছুই হয় না, একে ভেঙ্গে ফেলতে হবে (ফেলে কী হবে কে জানে) - এই মত পোষণকারীরা দিনে দিনেই সংখ্যালঘুতর হচ্ছেন, তাই তাদের কথার তেমন প্রতিধ্বনি আর জনতার মধ্যে ওঠে না। নানা ভাবে শাসকের অন্তর্দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দাবি আদায়ে আগামী দিনে জনতা শাসকের লাগামটা আরও বেশি করে নিজেদের হাতে নিতে পারবে বলেই মনে হয়।        

Wednesday, 8 March 2017

তর্পণ

কালিকাপ্রসাদ
(১৯৭১ - ২০১৭)
অনিন্দ্য ভট্টাচার্য 

আমি তো গানের কিছুই জানি না, শুধু শুনি মন দিয়ে; তা দিয়ে এই পণ্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে কীই বা বলতে পারি! যেটুকু চিনতাম ওকে, যেটুকু শুনেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি, তা সবই বোধের আলোকে। কিন্তু তবুও কেন জানি অল্প কিছু বলতে ইচ্ছে হয়েছে - হয়তো মনের ভেতরে জারিত হওয়া অসহ্য কষ্টটাকে খানিক লাঘব করতে।
এতকাল লোকগান তো আমরা শুনেছি শুধু। তার ইতিহাস, তার পরম্পরা, তার আকুল বাঁচার স্পন্দনকে কখনও স্পর্শ করতে চেয়েছি কী? 'কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া' - শচীন কর্তার মর্মস্পর্শী গায়কি, নির্মলেন্দুর উদাত্ত গলা শুনে আমরা ভেতরে ভেতরে পুড়েছি, আকুল হয়েছি কিন্তু কখনও জানিনি সেইসব তুলে আনা গানের মর্মকথা, ব্যথা, বেদনা, প্রেমের ইতিকথা। কালিকা শুধু লোকগানের অফুরন্ত ভাণ্ডারকে আমাদের কাছে উজাড় করে দেননি, তার ভেতরের প্রাণভোমরাটিকেও উদ্ধার করেছেন আমাদের জন্য। আমাদের এতাবৎকালের ইতিহাসের পরিচয়টাকেই ক্ষতবিক্ষত করেছেন, নতুন ইতিহাসের আকর আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন শুধু গানে নয়, ইতিহাস বোধে, দেখার দৃষ্টিতে, জীবনের ইতিকথায়, শ্রমের মর্যাদায়। আমাদের অহং ফেলে দিয়ে শ্রদ্ধাশীল মানসিকতায় উত্তরণ ঘটিয়েছেন।
কালিকাকে দেখেছি যত না কাছ থেকে তার থেকেও বেশি দূর থেকে। প্রথম আলাপ ২০০২ সালে 'একক মাত্রা'র একটি আড্ডায়। এসেছিলেন শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সূত্রে। তখন 'দোহার' তৈরি হয়ে গেছে, গান করছেন, দৌড়ে বেড়াচ্ছেন এ পল্লী থেকে সে পল্লী। কাকা অনন্ত ভট্টাচার্যের রেখে যাওয়া লোকগানের আকরকে অমলিন তুলে আনছেন সকলের সামনে। খুব যে সাড়া পাচ্ছেন তাও নয়। আবার অনেকে শুনছেনও। নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে কখনই আপসে যাচ্ছেন না, সাবেকি বাদ্যযন্ত্র ছেড়ে আধুনিক ইলেক্ট্রনিক্স গেজেটে আরও 'আকর্ষণীয়' করার চেষ্টাও করছেন না নিজেদের। নিবিড় ভাবে লোকগানের অতল স্পর্শে পৌঁছচ্ছেন, তাকে স্বমহিমায় তার নিজের জোরেই আধুনিক গানের সমান্তরালে পেশ করে তার স্বাভাবিক অমোঘ টানেই তাকে সন্ধানী, মরমী মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে দিচ্ছেন। এইখানেই তিনি সার্থক। এখানেই তিনি প্রজ্ঞাবান। এইখানেই তিনি দোহার।
তাঁর এই মর্মান্তিক অকালপ্রয়াণে অসম্ভব বিদ্ধ হয়েছি। আরও কষ্ট পেয়েছি, তাঁর এই অর্ধেক পথে রেখে যাওয়া বাকী কাজগুলির কী হবে তা ভেবে। একটা পারিবারিক সূত্রও ছিল তাঁর সঙ্গে। সেটাও জেনেছি আলাপের বেশ পরে। সব কিছু ছাপিয়ে তিনি সাধক। তাঁকে সাধনা করার মধ্যেও জীবনের অনেক ঐশ্বর্যকে পাব, এই বিশ্বাস করি। 

Friday, 17 February 2017

A Shocking Letter!

In the Corridors of Big Media

Please read this letter how a big media self-proclaiming as 'watchdog of democracy and freedom of expression' horrifies its staff in its corridors:
https://www.pgurus.com/shocking-letter-from-a-terminated-telegraph-journalist-exposing-media-owners-journalist-leaders/