Wednesday, 4 March 2026

ইরান যুদ্ধ: ভারতের অর্থনীতি কি বিপন্ন?

কতটা পারবে ভারত? 

কৌশিকী ব্যানার্জী 


 

ইরানের সঙ্গে চলা মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাতের ভূ-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া বিশ্বের উপর অবশ্যম্ভাবী। যদি তা অব্যাহত থাকে তবে ভারতেও বহুল ক্ষেত্রে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা।

উপসাগরীয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি তেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ভাবে তুলনামূলক সুবিধায় রয়েছে, যেহেতু তারা প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) ও মূলধনে সমৃদ্ধ। হেকশার-ওহলিন (এইচ-ও) মডেল অনুসারে, কোনও দেশ এমন পণ্যই রফতানি করে যা তৈরি করতে তাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে থাকা উপাদানের প্রয়োজন। এই তত্ত্ব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির তেল রফতানির পিছনে একটি মৌলিক ব্যাখ্যা। ইরান যুদ্ধের জেরে তেল-উৎপাদন হ্রাসে বিশ্বের বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে দ্রুত তেলের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ থেকে ১৩ শতাংশ মতো বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় এবং Bloomberg-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৮ ডলার পর্যন্ত ছুঁতে পারে। অপরদিকে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পর জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমিয়ে আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে আমদানি বৃদ্ধি করেছে। ভারতে প্রতিদিন ২.৫ থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি হয়, যা মূলত ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং কুয়েত থেকে আসে। যেহেতু তেল, উৎপাদনের একটি প্রধান উপাদান, এর বহিরাগত সরবরাহে ধাক্কার (exogenous supply shock) ফলে এটি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেবে যার দরুণ ব্যয়-বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি ভারতে প্রকট হবে; এর তাৎক্ষণিক পরিণতি মূল্যবৃদ্ধি ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস। সমীক্ষা অনুযায়ী, তেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে ভারতের ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ৩০-৩৫ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যদিও কমপক্ষে ১০ দিনের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত এবং আরও ৫-৭ দিন ধরে জ্বালানি মজুত থাকায়, হরমুজ প্রণালীর মূল সরবরাহ পথ বন্ধ হলেও ভারতের তেল সরবরাহে তাৎক্ষণিক ব্যাঘাতের সম্ভাবনা কম। তবে ইরান যেভাবে প্রত্যাঘাত করছে তাতে খুব সহজে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার নয়। 

এদিকে চার রাজ্যে ভোটের আবহে ভারতের অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধি রুখতে, অভ্যন্তরীণ কর ও আমদানি শুল্ক কমানোর পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার; তবে তা রাজস্ব ঘাটতি বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। রাশিয়া থেকে সুলভে তেল কেনার রাস্তা বন্ধ হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিম আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ভারত জ্বালানি তেলের উৎস সম্প্রসারণ করতে পারে। পক্ষান্তরে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার পথে হাঁটলে ফের মার্কিন প্রেসিডেন্টের রোষের মুখে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। হরমুজ বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় লোহিত সাগরের বিকল্প পথে পরিবহন-সময় ও ব্যয় দুটিই বৃদ্ধি পাবে। কেবল অপরিশোধিত তেলই নয়, পেট্রোপণ্য, এলপিজি ও এলএনজির সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এ থেকে স্পষ্ট, যে কোনও বিকল্প পথই ভারতের জন্য সুবিধের নয়, বরং, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। হিসেব অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলার বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যেহেতু একই পরিমাণ তেল কিনতে ডলার সাপেক্ষে আরও বেশি টাকা বিনিময় করতে হবে যা বাণিজ্যের শর্তাবলীকে (terms of trade) ভারতের বিরুদ্ধে নিয়ে যাবে। ফলত, বৈদেশিক মুদ্রা-ভাণ্ডার হ্রাস, বিপুল বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতির সম্ভাবনা ও জাতীয় প্রকৃত আয় হ্রাস অনুমেয়। অন্যদিকে, ভারতের সার আমদানির জন্যও (ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, রক ফসফেট এবং ফসফরিক অ্যাসিড) হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রণালী বন্ধের ফলে খারিফ ঋতুর আগে সার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে যা খাদ্যশস্যের মুদ্রাস্ফীতি ঘটাবে। এ ক্ষেত্রে হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করতে বাধ্য হবে (যেমন, সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা) যা অপরদিকে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে আঘাত করতে পারে। 

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরাক, ইরান, সৌদি আরবে ভারতের যে বিপুল বাসমতি চালের বাজার রয়েছে তাও এখন ক্ষতির সম্মুখীন। বর্তমান উত্তেজনার কারণে দুবাইয়ের বন্দর এবং বিমানবন্দরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, যে বন্দর ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ভারতের রফতানির প্রধান ট্রানজিট হাব। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জাহাজগুলি ক্রমবর্ধমানে ‘কেপ অফ গুড হোপ’-এর মধ্য দিয়ে চলাচলে বাধ্য হতে পারে, ফলে ইউরোপ ও মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্রে (ভারতের ৫৬ শতাংশ পণ্য রফতানি) পরিবহনের চলাচলের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, কন্টেনার ও জাহাজের দুর্লভতা পরিবহন ব্যয় বাড়াবে। সংক্ষিপ্ততম রুটগুলির মাধ্যমে ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পরিবহনের যাতায়াতের সময় যথাক্রমে কমপক্ষে আরও ৪৫ ও ৩০ দিন বাড়িয়ে তুলবে এবং এর সঙ্গে মালবাহী বীমা খরচ বৃদ্ধিও প্রশ্নাতীত। যদিও ট্রেড তত্ত্ব অনুসারে, ভারতীয় মুদ্রার নিম্নগামিতায় রফতানি-আয় বৃদ্ধির পথ সুগম হওয়া উচিত কিন্তু ঘুরপথে রফতানিতে বাণিজ্যের পরিমাণ হ্রাস পাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাভিটি মডেল তত্ত্বটি অধিক প্রযোজ্য, যেখানে দেখানো হয়েছে যে দুটি দেশের মধ্যে দূরত্ব বাড়লে বাণিজ্যের পরিমাণ কমতে বাধ্য। গত অর্থ বর্ষে ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইলেকট্রনিক দ্রব্যসামগ্রী (৪.১ বিলিয়ন ডলার) ও স্মার্টফোন (৩.১ বিলিয়ন ডলার) UAE এবং সৌদি আরবে (৩৮৭ বিলিয়ন ডলার) রফতানি করেছে, কিন্তু এই বিপুল বাণিজ্য এখন অনিশ্চয়তায়। 

অন্যদিকে, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পর কিছুটা থিতু হলেও, পশ্চিম এশীয় দেশগুলির মধ্যে অস্থিরতা পুনরায় টাকার অবমূল্যায়ন ঘটাচ্ছে। এই মুহূর্তে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম ৯১.৪৯'এ দাঁড়িয়েছে যা ফেব্রুয়ারির শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অথনীতিবিদ রাজেন্দ্র প্রামাণিকের আশঙ্কা, তা ডলার প্রতি ৯৫ টাকাও হতে পারে। তেলের দর উর্ধ্বমুখি, ফলে, আমদানিতে ভারতকে আগের থেকে বেশি ডলার গুনতে হচ্ছে যা চলতি খাতে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়াচ্ছে এবং বৈদেশিক কোষাগারে চাপ সৃষ্টি করছে-- এই দুয়ের প্রভাবে টাকায় ধস নামছে। অশান্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে টাকার আরও পতন অনিবার্য। নিফটি, সেনসেক্স-এর সূচকও নিম্নগামী। বিভিন্ন তেল কোম্পানির শেয়ার দরে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ করা গিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের বাজার থেকে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে (মূলধনের বহির্গমন) নেওয়ায় শেয়ার মার্কেটে এই পতন। বরং, তাঁরা সোনা, রূপোর মতো মূল্যবান ও নিরাপদ ধাতবে কিংবা তুলনামূলক নিরাপদ মুদ্রা, ডলারে বিনিয়োগে আস্থা রাখছেন। ফলে, সোনা, রূপো ক্রমশ মহার্ঘ্য হচ্ছে। এমনকি, ভারতীয় বাজারে সোনা বা রূপোর ইটিএফ-এর (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড- যেখানে প্রকৃত সোনার বদলে এনএসই/ বিএসই থেকে ইলেক্ট্রনিক্যালি কেনা যায়) ৬-৯ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেউ কেউ এখনও আশাবাদী যে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীল ভূমিকা পালন করবে, যেমন অতীতে বিভিন্ন সময়ে করেছে (গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস ২০০৮, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ২০২২ ইত্যাদি)। হতে পারে, RBI প্রয়োজনে লিক্যুইডিটি ম্যানেজমেন্ট-এর মাধ্যমে অস্থিরতা মসৃণ করতে এবং ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পদক্ষেপ নেবে যার মূল লক্ষ্য মুদ্রাস্ফীতি শিথিল করা এবং  দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির স্থায়িত্ব।

কর্মসংস্থানের দিক থেকে ১ কোটির অধিক ভারতীয়ের পশ্চিম এশীয় দেশগুলিতে বসবাস, যারা মূলত নির্মাণ, সেবা, সরবরাহ, রিটেল ক্ষেত্রে কর্মরত এবং বেশিরভাগই মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তরপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা। আরবিআই-এর ২০২৫ সালের রেমিট্যান্স জরিপ অনুসারে, গালফ দেশগুলি এখনও ভারতের মোট রেমিট্যান্সের ৩৮-৪০ শতাংশ প্রদান করে। এই তহবিল ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকেও শক্তিশালী করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সহায়তা জোগায়। উল্লেখযোগ্য ভাবে, উপসাগরীয় শ্রমিকরা তাঁদের আয়ের ৭০-৯০ শতাংশ দেশে পাঠান, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ার ভারতীয় পেশাদারদের তুলনায় অনেক বেশি এবং তা পরিবাবের ভরণপোষণে ব্যয় হয়। তাই সংকট আরও ঘনীভূত হলে এই শ্রমিকদের দেশে প্রত্যার্পণ অনিবার্য হয়ে উঠবে; সে ক্ষেত্রে এদের কর্মচ্যুতির ফলে আয় হ্রাসের কারণে খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমবে, ফলে পরিবারগুলি ঋণগ্রস্ততা ও দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে কেবল জরুরি পরিস্থিতিতে নয়, দীর্ঘমেয়াদী নীতির মাধ্যমে তাদের স্থায়ী কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, অনেক ভারতীয় পড়ুয়া এসব দেশে ফি-বছর পড়তে যায়, তাদের ভবিষ্যৎ'ও যাতে ক্ষতির মুখে না পড়ে সেটাও সরকারের বিবেচনাধীন থাকা জরুরি।  

জাতীয় সবুজ হাইড্রোজেন মিশনের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ৫ এমএমটি সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের লক্ষ্য, যা  ২০৪০ সালের মধ্যে অপরিশোধিত তেল আমদানি ৩০ শতাংশ কমাতে পারে, তা কি আদৌ রূপ পাবে? রূপ পেলে ভারতের জীবাশ্ম-জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে। তাছাড়া, আমেরিকা বা অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধে না জড়িয়ে বা অহেতুক তাদের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে (প্রিজনার্স ডাইলেমা/ বন্দীদের দ্বিধা-র মতো সাব-অপ্টিমাল সমাধানে বাধ্য না হয়ে) পারস্পরিক সহযোগিতা (দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক/ অবাণিজ্যিক বাধা হ্রাস) দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য লাভের জন্য ভালো, যা পুনরাবৃত্ত গেম মডেলের সারমর্ম। কিন্তু তা করার সদিচ্ছা ও সাহস কি আজকের ভারত সরকারের আছে?

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে স্বল্পকালে ভারতের উপর বিরূপ প্রভাব না পড়লেও তা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রতিক্রিয়া বহুমাত্রিক হবে যা অর্থনীতির সমষ্টিগত ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করতে পারে। বিশেষত বহিরাগত সরবরাহে ধাক্কা, বাণিজ্যের শর্তাবলীর অবনতি এবং মূলধনের বহির্গমন একত্রে বৃদ্ধি ও মূল্যস্থিতিশীলতার মধ্যে নীতিগত দ্বন্দ্ব তৈরি করবে। তবে শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার, নীতিগত সতর্কতা, বাজার বৈচিত্র্যকরণ ও কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে ভারত এই বহিঃআঘাত শোষণ করে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে অগ্রসর হতে পারবে কিনা তা অবশ্য কোটি টাকার প্রশ্ন!


2 comments:

  1. Maam, darun likhechen.

    ReplyDelete
  2. জোলো বাজে লেখা

    ReplyDelete