একটি নির্মোহ মূল্যায়ন
অচিন চক্রবর্তী
(পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির হাল-হকিকত নিয়ে প্রচুর তর্ক-বিতর্ক চলেছে। কিন্তু সে প্রতর্ককে কখনই এক সার্বিক প্রেক্ষাপটে দেখা হয়নি। কোথায় এ রাজ্য এগিয়েছে, কোথায় পিছিয়েছে, দেশেরই বা অবস্থা কেমন, তুলনামূলক বিচারই বা কীভাবে হবে - এই সামগ্রিক পট থেকেই এ লেখার অবতারণা। এই লেখার প্রথম অংশে থাকছে রাজ্যের কৃষি, শিল্প সহ মাথাপিছু মাপকাঠির গল্প। দ্বিতীয় অংশে থাকবে বহু চর্চিত শিক্ষা, দুর্নীতি ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের হিসেব-নিকেশ। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে এই লেখাটি হয়তো পরবর্তী দিনগুলির বিচারের ক্ষেত্রে একটি তুলাদণ্ড হিসেবে থেকে যাবে। সম্পাদক।)
প্রথম অংশ
পশ্চিমবঙ্গের আর্থনীতিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের অবস্থা নিয়ে অনেক মানুষকেই নিরন্তর উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করতে দেখা যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের কারণগুলির মধ্যে রাজ্যের অর্থনীতির অনগ্রসরতাকে অন্যতম বলে মনে করেছেন অনেকেই। জনপরিসরে আলোচনায় সাধারণত যে বিষয়গুলি প্রতিনিয়ত উঠে আসত তার তালিকাটি মোটামুটি এ রকম:
এক) শিল্প হচ্ছে না, ফলত কর্মসংস্থান হচ্ছে না, বেকারত্ব ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে, কাজের খোঁজে মানুষ বাধ্য হচ্ছে রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র যেতে;
দুই) মাত্রাতিরিক্ত দুর্নীতি অর্থনীতি ও সমাজের নিদারুণ ক্ষতি করছে;
তিন) সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রে-- একদিকে স্কুলছুট বাড়ছে অন্যদিকে যাঁদের আর্থিক ক্ষমতা আছে তাঁরা ছেলেমেয়েদের বাইরে পাঠাচ্ছেন উচ্চশিক্ষার জন্যে;
চার) অর্থনীতির সুস্থায়ী উন্নতি ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ না নিয়ে সরকার তাৎক্ষণিক ‘জনমোহিনী’ নীতির আশ্রয় নিচ্ছে।
উন্নয়নের যে আখ্যান এই ক্রমবর্ধমান তালিকা থেকে উঠে আসে তাতে ব্যর্থতা ও নৈরাশ্যের ছাপ এতটাই প্রকট যে বিস্তারিত আলোচনায় ঢোকার পথে তা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। পশ্চিমবঙ্গ যেহেতু একটি দেশের অঙ্গরাজ্য, স্বভাবতই জানতে ইচ্ছা করে আপেক্ষিক বিচারে পশ্চিমবঙ্গ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে। সেই মূল্যায়নে ঢুকতে গেলে তথ্যভিত্তিক আলোচনার বিকল্প নেই, যদিও যে কোনও বর্ণনায় বর্ণনাকারীর অল্পবিস্তর নিজস্ব চয়নের সম্ভাবনা থাকেই। ফলে, গেলাসটি অর্ধেক খালি না অর্ধেক ভর্তি সে তর্কের অবকাশ রয়ে যায় সদাই।
মাথাপিছু আয় ও কৃষির কথা
“বর্বর প্রাচুর্য বলিতে যা বুঝায়, তাহার জাজ্বল্যমান চিত্র দেখিলাম রাসবিহারীর সংসারে। যথেষ্ট দুধ, যথেষ্ট গম, যথেষ্ট ভুট্টা, যথেষ্ট বিকানীর মিছরী, যথেষ্ট মান, যথেষ্ট লাঠিসোঁটা। কিন্তু কি উদ্দেশ্যে? ঘরে একখানা ভাল ছবি নাই, ভাল বই নাই, ভাল কৌচ-কেদারা দূরের কথা, ভাল তাকিয়া-বালিস-সাজানো বিছানাও নাই। দেওয়ালে চুনের দাগ, পানের দাগ, বাড়ীর পিছনের নর্দমা অতি কদর্য নোংরা জল ও আবর্জনায় বোজানো, গৃহ-স্থাপত্য অতি কুশ্রী। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে না, নিজেদের পরিচ্ছদ ও জুতা অত্যন্ত মোটা ও আধময়লা। গত বৎসর বসন্ত রোগে বাড়ীর তিন-চারটি ছেলেমেয়ে এক মাসের মধ্যে মারা গিয়াছে। এ বর্বর প্রাচুর্য তবে কোন্ কাজে লাগে? নিরীহ গাঙ্গোতা প্রজা ঠেঙাইয়া এ প্রাচুর্য অর্জন করার ফলে কাহার কি সুবিধা হইতেছে? অবশ্য রাসবিহারী সিং-এর মান বাড়িতেছে।" (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আরণ্যক, বানান অপরিবর্তিত)।
প্রাচুর্য নয়, তা ‘কোন্ কাজে লাগে’ সেটি গুরুত্বপূর্ণ। জীবনযাত্রার মান নিয়ে এই যে প্রশ্ন তুলেছেন বিভূতিভূষণ, অমর্ত্য সেনের প্রশ্নটিও অনেকটা সে রকমই। একজন মানুষ কেমন আছেন তা কোন কোন সূচকে বিচার করতে হবে, সে বাবদে সহমত হওয়া মুশকিল। এখানে দেখছি লেখক বিভূতিভূষণের মাপকাঠিটি রাসবিহারী সিং-এর মাপকাঠি থেকে একেবারেই আলাদা। শুধু তাই নয়, লেখকের মূল্যায়নে প্রচ্ছন্ন যে ইঙ্গিতটি পাচ্ছি তা হল, নিরপেক্ষ বিচারে তাঁর অবস্থানটিই উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। কিন্তু দুজন ব্যক্তির মূল্যায়নের মাপকাঠি যদি এতটাই আলাদা হয়, তাহলে কার বিচারটি নেব? রাসবিহারী সিং-এর বিচারে সবার উপরে ‘মান’, অর্থাৎ স্টেটাস। দুধ, গম, ভুট্টা, বিকানীর মিছরীর প্রাচুর্যর নিরিখে যে মান তাকে আবার বিভূতিভূষণ বলছেন ‘বর্বর’। আধুনিক কালে দেশের ধনীতম ব্যক্তির সীমাহীন প্রাচুর্যকে কেউ বর্বর বলছেন শুনি নি। পার্থক্যটি বোধহয় ওই একদিকে ‘নিরীহ-প্রজা-ঠেঙ্গানো’ আর অন্যদিকে শিল্পের কাণ্ডারি বিশেষণে, যদিও শিল্পের তথা উন্নয়নের ‘প্রয়োজনে’ মানুষকে উৎখাত করে জমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের দখল নেওয়ার সঙ্গে নিরীহ-প্রজা-ঠেঙ্গানো রাসবিহারী সিং-এর পার্থক্য সামান্যই। দার্শনিক অরিন্দম চক্রবর্তী মনে করিয়ে দেন মহাভারতে ভীষ্ম প্রাচুর্যের প্রদর্শনকে ‘নৃশংস’ বলেছেন, যা তিনি প্রয়োগ করতে চান মুকেশ আম্বানির ২৭ তলা বাড়ি এবং বেড়ে চলা বস্তিবাসীর সংখ্যা প্রসঙ্গে। যুধিষ্ঠির ভীষ্মের কাছে জানতে চান, নৃশংস কাকে বলব? ভীষ্মের উত্তর, “যে উত্তম ভোজ্য, পেয়, লেহ্য আরও দামি দামি ভোগ্যদ্রব্য (না খেয়ে) চেয়ে থাকা মানুষদের মধ্যে বসে উপভোগ করে খায়, তাকেই নৃশংস বলা উচিত।" বিত্তের কুৎসিত প্রদর্শনকে ভীষ্ম বলছেন নৃশংস (ভাত কাপড়ের ভাবনা এবং কয়েকটি আটপৌরে দার্শনিক প্রয়াস)।
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার আর্থনীতিক প্রগতির প্রাথমিক সূচক। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, ভারত সরকারের ভাষ্যে কিন্তু বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয় আমরা পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে চলেছি, যা আসলে কিছুই বোঝায় না, যতক্ষণ না তাকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করছি। দেখা যাক নিকট অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার কী রকম হয়েছে। মৈত্রীশ ঘটক এবং তাঁর সহযোগীরা বেশ কিছুকাল ধরে এই পরিসংখ্যানের গভীরে ডুব দিয়ে সত্যিটা তুলে এনেছেন। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হারের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে মোটামুটি ২০০৫ থেকে। ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিমবঙ্গের বৃদ্ধির হার ভারতের তুলনায় বেশি ছিল। বর্তমান শতকের প্রথম দশকের সঙ্গে দ্বিতীয় দশকের তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আপেক্ষিক দূরত্ব কিছুটা বেড়েছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে দেখছি, ২০২২-২৩-এ পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু বার্ষিক আয় হয়েছে ১,৪১,৩৭৩ টাকা, যেখানে মাঝারি ও বড় মিলিয়ে অন্তত দশটি রাজ্যে মাথাপিছু আয় দু লক্ষ টাকার বেশি। এখান থেকে অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়ার কিছুটা আন্দাজ পাওয়া যায়।
যদি তিনটি মূল ক্ষেত্রের বৃদ্ধির দিকে আলাদাভাবে নজর দিই, দেখব, পশ্চিমবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধি ভারতের তুলনায় গত তিন দশকেই বেশি হয়েছে, কিন্তু শিল্প ও সেবা সম্পর্কে তা বলা যায় না। যেমন, ১৯৯০-এর দশকে তিন ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গের বৃদ্ধির হার ভারতের তুলনায় বেশি হয়েছিল। তারপর এই শতকের প্রথম দশকে শিল্পক্ষেত্রের বৃদ্ধির হার আপেক্ষিকভাবে কম হল, কিন্তু সাম্প্রতিকতম দশকে শিল্প ও সেবা উভয় ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ বৃদ্ধির হারে পিছিয়ে পড়েছে।
একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির হারে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে আছে, অন্যদিকে সাম্প্রতিকতম দশকে (বলা ভাল, ২০১১-১২ থেকে ২০১৭-১৮-র মধ্যে) আবার দেখা যাচ্ছে, গ্রামাঞ্চলে মাথাপিছু ভোগব্যয়ের বৃদ্ধির হারে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের থেকে এগিয়ে আছে। বস্তুত এই সময়কালে সারা ভারতে মাথাপিছু ভোগব্যয় কিছুটা কমেছে, যা অভূতপূর্ব! সাড়ে চার দশকের মধ্যে সেই প্রথম গড়পড়তা ভারতীয় পরিবারে মাথাপিছু ব্যয় কমল, আর পশ্চিমবঙ্গে বাড়ল। এই মাথাপিছু ভোগব্যয়কে জীবনযাত্রার গড়পড়তা মান হিসাবে দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গে কৃষি উৎপাদন ভাল হওয়ার সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার মধ্যে এখানে একটি আপাত সম্পর্কের ইঙ্গিত থাকলেও মনে হয় প্রকৃত সম্পর্কটি ক্ষীণ। কারণ, জাতীয় নমুনা সমীক্ষা থেকে আবার এও দেখা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গে একটি ‘কৃষক’ পরিবারের আয়ের অনেকটাই আসে কৃষির বাইরে থেকে। তাই বলা যায়, এ রাজ্যে কৃষি আপেক্ষিকভাবে উৎপাদনশীল হলেও কৃষকদের তা থেকে পর্যাপ্ত আয় হয় না। তাহলে ধরে নিতে হবে কৃষির বাইরে বিবিধ কাজ থেকে আয়ের সংস্থান হচ্ছে। যদিও গড় ভোগব্যয় বেশি হারে বৃদ্ধি থেকে সরাসরি বলা যায় না দারিদ্র বেশি হারে কমেছে, দুইয়ের মধ্যে খানিক সম্পর্ক পাওয়া যায়। আবার পরিবারে অর্থাগম এবং ভোগ্যদ্রব্যের উপরে তার ব্যয়ের পরিমাণ জানা থাকলেই বলে দেওয়া যাবে না পরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রার মান কেমন। ন্যূনতম প্রয়োজনগুলি মিটছে কি না তা আলাদা করে জানা দরকার। কারণ, কেনার ক্ষমতা ছাড়া অন্যভাবেও মিটতে পারে সেগুলি। যেমন, পানীয় জল, শিক্ষা, বা স্বাস্থ্যসেবা। দুটি পরিবারের মাথা পিছু ব্যয় সমান হলেও স্বাস্থ্যসেবা উপলব্ধের সুযোগ তাদের সমান নাও হতে পারে। তাই দারিদ্রের মাপজোক নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন তাঁদের একদল অর্থাভাবজনিত দারিদ্রের পরিবর্তে বহুমাত্রিক দারিদ্র সূচকের পক্ষে সওয়াল করেন। মাত্রাগুলি হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়। সম্প্রতি নীতি আয়োগ একটি বহুমাত্রিক দারিদ্র সূচক ব্যবহার করে দেখিয়েছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২১-এর মধ্যে ভারতবর্ষে দারিদ্রমুক্তি হয়েছে সাড়ে তেরো কোটি মানুষের। আবার সেই একই সূচক অনুসারে দেখছি, ২০১৯-২১-এ গুজরাত আর পশ্চিমবঙ্গের বহুমাত্রিক দারিদ্র প্রায় সমান – যথাক্রমে ১১.৬৬ শতাংশ আর ১১.৮৯ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ২০১৫-১৬ থেকে বহুমাত্রিক দারিদ্র কমেছেও বেশি পশ্চিমবঙ্গে, যদিও গুজরাতের মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিগুণেরও বেশি! এই চমকপ্রদ বৈপরীত্যকে উল্লেখ করতেই হয়।
শিল্পের ভূত ভবিষ্যৎ
পশ্চিমবঙ্গে শিল্প যে একেবারেই হয় নি তা কিন্তু নয়। তবে আপেক্ষিক বিচারে সেই পিছিয়ে পড়ার গল্প। কেন্দ্রীয় শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০২০-র মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১৩৮টি বড় শিল্প স্থাপিত হয়েছে। একই সময়কালে গুজরাত, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা – এই আটটি রাজ্যের প্রত্যেকটিতে এর থেকে বেশি শিল্প হয়েছে। এই তথ্য দেখলে উদ্বেগ স্বাভাবিক। শিল্পে বড় বিনিয়োগের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ অনেক রাজ্য থেকে পিছিয়ে আছে। কিন্তু ভুললে চলবে না, ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগের হিসেব এর মধ্যে নেই। সে হিসেব সহজে পাওয়াও যায় না। আর সে জন্যেই হয়তো যাবতীয় আলোচনা সমালোচনা টাটা থেকে তেলেভাজার আখ্যান-এ আটকে থাকে। সর্বশেষ যে তথ্য পাচ্ছি তা ২০১৫-১৬-র জাতীয় নমুনা সমীক্ষা থেকে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংখ্যা সে সময়ে ছিল প্রায় ৮৯ লক্ষ, যা সর্বোচ্চে থাকা উত্তরপ্রদেশের থেকে মাত্র এক লক্ষ কম। দেশের মোট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১৪ শতাংশই পশ্চিমবঙ্গে। ২০১২ থেকে ২০২০-র মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে যে ৬.৬ শতাংশ বৃদ্ধি হতে দেখা যাচ্ছে তার অনেকটাই যে এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে এসেছে তা আন্দাজ করা যায়। আর যে শিল্পক্ষেত্রে প্রায় এক কোটি পঁয়ত্রিশ লক্ষ মানুষ নিযুক্ত তাকে উড়িয়েই বা দিই কী করে!
কিন্তু সমস্যাটি কর্মে নিযুক্তির সংখ্যা থেকেও তার মর্মবস্তু নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প উৎপাদনের একটি প্রধান সমস্যা শ্রমের উৎপাদনশীলতা কম, যার কারণ পুঁজির নিযুক্তি কম। একজন গড়পড়তা কর্মী যতটা মূল্য যোগ করে মোট উৎপাদনমূল্যে, যাকে বলে ‘ভ্যালু অ্যাডেড পার ওয়ার্কার’, সেই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সর্বভারতীয় গড় থেকে পিছিয়ে আছে। এই ভ্যালু অ্যাডেড পার ওয়ার্কারের হিসেবটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কম হলে শ্রমিকদের আয় তেমন বাড়তে পারে না। যদিও এটি বেশি হলে যে শ্রমিকের মজুরি বেশি হবেই তার নিশ্চয়তা নেই; শেষমেশ তা নির্ভর করে পুঁজির মালিকের সঙ্গে দর কষাকষিতে শ্রমিকরা কতটা সফল হচ্ছে তার উপর, আর তাকে সীমায়িত করে রাখে ওই ভ্যালু অ্যাডেড পার ওয়ার্কার। অর্থাৎ এক কথায় বলতে গেলে, পশ্চিমবঙ্গে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা যে অন্য রাজ্যের তুলনায় বেশি তা নয়, এ রাজ্যে শ্রমিকের আয় অপেক্ষাকৃত কম।
ক্রমশ...

Osadharon sundor
ReplyDeleteস্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ বাস্তবচিত্রকে এতো সহজে ব্যাখ্যা করার জন্য। পরের অংশ পড়ার অপেক্ষায় আছি
ReplyDelete