Saturday, 10 January 2026

অস্তগামী ডলার

তাই, মরীয়া আমেরিকা

মালবিকা মিত্র



পুরা কাহিনীর ট্রয় নগরী যা ইলিয়ান নগরী নামে পরিচিত, ছিল দুর্ভেদ্য। গ্রিকরা কোনও মতেই ট্রয় নগরীর ভেতরে প্রবেশ করা তো দূরে থাক, নগরীর প্রধান ফটকই পার হতে পারেনি। অতঃপর গ্রিকরা এক বিরাট আকারের সুদৃশ্য কাঠের ঘোড়া বানালো। সেই ঘোড়ার পেটের ভেতর কিছু গ্রিক সৈন্য অস্ত্র নিয়ে ঢুকে গেল ও সেই ঘোড়াকে ট্রয় নগরীর নিকটে রেখে এল। নগরবাসী এমন সুন্দর ঘোড়া দেখে তাকে টানতে টানতে নগরীর ভেতর নিয়ে গেল। তারপর যেই না গভীর অন্ধকার রাত্রি হল, ঘোড়ার পেট থেকে গ্রিক সৈন্যরা বেরিয়ে এসে নগরীর সিংহ দুয়ার খুলে দিল। আর বিশাল গ্রিক সৈন্যবাহিনী ফটক দিয়ে রাতের অন্ধকারে নগরীতে ঢুকে পড়ল। 

প্রায় এমনই গল্প শোনাচ্ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। কীভাবে জেমস বন্ডের কায়দায় ভেনেজুয়েলা থেকে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে আনা হল আমেরিকায়। ঠিক যেন গুপি বাঘা হাল্লার রাজাকে শুন্ডিতে তুলে আনল। 

বিবরণটা একটু শোনাই যাক। যে প্রাসাদে মাদুরো থাকতেন, তার অবিকল প্রতিকৃতি বানিয়ে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা দিনের পর দিন নাকি অকস্মাৎ আক্রমণের মহড়া দিতেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ চারজনের নজরদারিতে এই কোর কমিটি ছিল। তারাই অপারেশনের চাবিকাঠি। গভীর রাতে দেড়শোটির বেশি যুদ্ধবিমান একসাথে আকাশে উড়ল। এলোমেলো বোমাবর্ষণে সব তছনছ। তারপর সাইবার ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারাকাস শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হল। সেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মার্কিন কমান্ডোরা হেলিকপ্টার থেকে মাদুরোর ডেরায় প্রবেশ করল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা মাদুরোর বাড়ির মজবুত ইস্পাতের দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে গেল। চলল গুলি বিনিময়। এরপর কমান্ডোরা মাদুরো'র বেডরুমে ঢুকে স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস সহ মাদুরোকে টেনে হিঁচড়ে, চোখ বেঁধে, হাতকরা পরিয়ে, প্রথমে যুদ্ধ জাহাজে তারপর বিমানে চাপিয়ে সোজা আমেরিকা পাড়ি দিল। 

মধ্যযুগেও কোনও শাসক নিজের যুদ্ধ বিজয়কে এভাবে বিনোদনের মতো পরিবেশন করত না। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাসক বোঝাতে চায় সে আক্রান্ত, আক্রমণকারী নয়। সেই নেকড়ে যেমন মেষ শাবককে বলেছিল, 'তোর বাবা জলঘোলা করেছিল।' এরকম একটা অজুহাত দেখিয়ে নিতান্ত বাধ্য হয়ে যুদ্ধ করেছি এটা বোঝাতে চাইত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাবার্তায় কোনও আবরণ নেই, যেন কসাইয়ের দোকানে ছাল ছাড়ানো মুন্ডু কাটা ঝুলিয়ে রাখা সারি সারি খাসি। মানুষও এইরকম ফিল্মি বিবরণ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে। বোধ করি বিশ্ব রাজনীতিতে কূটনীতির ক্ষেত্রটা কমে যাচ্ছে। অনেক মোটা দাগে গায়ের জোরের ক্ষেত্রটা বেড়ে যাচ্ছে। মনে আছে, প্রথম জর্জ বুশের সময় যে উপসাগরীয় যুদ্ধ চলল, তখন সমগ্র যুদ্ধটাকে লাইভ টেলিকাস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এককভাবে সিএনএন টিভিকে। তারা কত নিখুঁত যুদ্ধ পরিচালনা হচ্ছে, শুধু শত্রু সৈন্য বেছে বেছে মারা হচ্ছে, তার মিথ্যা বিবরণ দিয়েছিল। অথচ বাস্তবে হাসপাতাল খাদ্য গুদাম রেড ক্রস মসজিদ সর্বত্র মিসাইল হামলা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে ও আশ্রয় হারিয়েছে। কিন্তু টিভির পর্দায় যুদ্ধের টানটান উত্তেজনাকর টেলিকাস্ট এবং পরদিন ট্রেনে বসে তার সোৎসাহে আলোচনা। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য 'তোর বাবা জল ঘোলা করেছিল' তেমন যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেটা একেবারেই অচল, খোঁড়া। বলেছে আমেরিকায় ড্রাগ-ট্রাফিকিং'এর কথা। কিন্তু বাস্তব সত্য হল, আমেরিকায় সমগ্র ড্রাগ ব্যবসার মাত্র এক শতাংশ ভেনেজুয়েলার অংশীদারিত্ব। বলা হয়েছে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এই আক্রমণের লক্ষ্য। প্রশ্ন আসে, তাহলে সৌদি আরবে তো কোনও নির্বাচনী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই নেই। সে দেশের সঙ্গে আমেরিকার মিত্রতা হয় কী করে? মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রধান মিত্র সৌদি আরব। এসবই আসলে খোঁড়া যুক্তি। 

ঘটনার উৎস লুকিয়ে আছে ১৯৭৪ সালে হেনরি কিসিঞ্জার ও সৌদি আরবের সঙ্গে করা একটি চুক্তিতে। এটি আসলে মার্কিন ডলারের বেঁচে থাকার বিষয়ে। ড্রাগ নয়, সন্ত্রাসবাদ নয়, 'গণতন্ত্র' নয়। এটি পেট্রোডলার সিস্টেম যা আমেরিকাকে ৫০ বছর ধরে প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে রেখেছে। আর ভেনেজুয়েলা তা শেষ করার হুমকি দিয়েছে। সমগ্র আমেরিকান আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে পেট্রোডলার। হেনরি কিসিঞ্জার সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি করেন-- বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া সমস্ত তেলের মূল্য মার্কিন ডলারে স্থির করতে হবে। বিনিময়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে সামরিক সুরক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রদান করবে। এই একক চুক্তি বিশ্ব জুড়ে ডলারের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে। তাহলে পৃথিবীর প্রতিটি দেশের তেল কেনার জন্য ডলার প্রয়োজন। ডলার পেতে গেলে সারা পৃথিবীর বাণিজ্য হবে আমেরিকা মুখী। এটি আমেরিকাকে অনিয়ন্ত্রিত নোট ছাপতে সুযোগ করে দেয়। এটি আমেরিকার সামরিক ব্যয়, জনকল্যাণ রাষ্ট্র ও ঘাটতি ব্যয়কে অর্থায়ন করে। পেট্রোডলার মার্কিন আধিপত্যের জন্য বিমান বাহিনীর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।

ভেনেজুয়েলার তেলের মজুত ভাণ্ডার ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়। সৌদি আরবের থেকেও বেশি। বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, ভেনেজুয়েলা সেই তেল চিনা ইউয়ানে বিক্রি করছিল, ডলারে নয়। ২০১৮ সালে ভেনেজুয়েলা ঘোষণা করে যে সে 'ডলার থেকে মুক্ত হবে'। তারা ডলার ছাড়া অন্য সব মুদ্রা ইউয়ান, ইউরো, রুবেল গ্রহণ করতে শুরু করে। তারা BRICS (Brazil, Russia, India, China, South Africa)'এ যোগদানের আবেদন করেছিল, চিনের সাথে সরাসরি পেমেন্ট চ্যানেল CIPS তৈরি করেছিল, যা সম্পূর্ণভাবে আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত পেমেন্ট চ্যানেল SWIFT'কে অস্বীকার করে; আর কয়েক দশক ধরে এই ডি-ডলারাইজেশন চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট তেলের অধিকারী ছিল। ঠিক এখানেই আমেরিকার সমস্যা ও দুশ্চিন্তা। পেট্রো ডলার না বাঁচলে বিশ্ব বাণিজ্য আমেরিকা মুখী হবে না। সে ক্ষেত্রে আমেরিকায় অর্থনীতি ও পরিষেবা ভেঙে পড়বে। এমনকি অনিয়ন্ত্রিত নোট ছাপার ফলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেবে।

পেট্রো ডলারের বিরোধিতা করলে কী হয়, তার একটি প্যাটার্ন আছে। 

সাল ২০০০: সাদ্দাম হুসেন ঘোষণা করেন ইরাক ইউরোতে তেল বিক্রি করবে ডলারে নয়। ২০০৩'এ ইরাক আক্রমণ। শাসন পরিবর্তন। সাদ্দামকে ফাঁসি দেওয়া হয়। 

সাল ২০০৯: গাদ্দাফি তেল বাণিজ্যের জন্য 'গোল্ড দিনার' নামে একটি সোনা-ভিত্তিক আফ্রিকান মুদ্রা প্রস্তাব করেন। হিলারি ক্লিন্টনের ফাঁস হওয়া ইমেলগুলি থেকে জানা যায়, এটি ছিল হস্তক্ষেপের প্রধান কারণ, 'এই সোনা লিবিয়ান গোল্ডেন দিনারের ভিত্তিতে একটি প্যান-আফ্রিকান মুদ্রা প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল।' 

২০১১: NATO লিবিয়ায় বোমা মারে। লিবিয়া এখন খোলা দাস বাজার। 

এবার মাদুরোর পালা। কারণ, ভেনেজুয়েলা সাদ্দাম ও গাদ্দাফির সম্মিলিত তেলের পাঁচ গুন বেশি তেল নিয়ে হাজির হয়ে খোলামেলা ভাবে ইউয়ানে বিক্রি করছে। ডলার নিয়ন্ত্রণের বাইরে পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করছে। BRICS-এ যোগদানের আবেদন করছে। চীন, রাশিয়া, ইরানের সাথে অংশীদারিত্ব করছে— এই তিন দেশই বিশ্বব্যাপী ডি-ডলারাইজেশনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। পেট্রোডলারকে চ্যালেঞ্জ করলে শাসন পরিবর্তন হয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে এটাই সত্য। 

কতটা নির্লজ্জের মতো স্টিফেন মিলার (US Homeland Security Advisor) মাত্র দু' সপ্তাহ আগে মন্তব্য করেছেন, 'American sweat, ingenuity and toil created the oil industry in Venezuela. Its tyrannical expropriation was the largest recorded theft of American wealth and property.'। ভেনেজুয়েলার তেলের ভাণ্ডার যেহেতু মার্কিন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে আবিষ্কৃত হয়েছে, অতএব সেটার মালিকানা আমেরিকার। বলে কিনা ভেনেজুয়েলা আমেরিকার সম্পদ চুরি করছে। আমার দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, আর আমি হলাম চোর। একেই বলে যুক্তি। এই যুক্তিতে ভারতের রেল ব্যবস্থা, আধুনিক শিল্প জ্ঞান-বিজ্ঞান, সবকিছুর উপরেই ব্রিটিশের অধিকার। কারণ, তা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে চালু হয়েছিল। এরপর হয়তো বলা হবে, বিশ্বের সমস্ত আপেল বাগানের মালিক শ্বেতাঙ্গ প্রভু। কারণ, গাছ থেকে আপেল পড়ার বিজ্ঞানটি (মাধ্যাকর্ষণ) তাদের সূত্রায়িত। 

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তনীয় গুতেরেজ ট্রাম্পের এই ভূমিকাকে 'বিপদজনক পদক্ষেপ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাশিয়া চীন ইরান সরাসরি আমেরিকাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডেকেছে। খোদ মার্কিন মুলুকে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠরা ছাড়া সকলেই ভেনেজুয়েলা আক্রমণের বিরুদ্ধে সরব। মার্কিন কংগ্রেসকে এড়িয়ে এই অভিযান চালানোর জন্য সে দেশের আইনসভাও সমালোচনায় মুখর। তবে এই মুখরতায় বিশেষ আশাবাদী হই না। মনে পড়ে ২০১৬ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ইমপিচমেন্ট হয়েছিল, ২০০৩ সালের ব্রিটিশ ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী জন প্রেসকটের বিবৃতি এবং চিলকট তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে। টনি ব্লেয়ার মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছ থেকে ২০০২ সালে গালফ যুদ্ধের অনুমোদন আদায় করেছিল। আরও উল্লেখযোগ্য, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব কোফি আন্নান তখন মন্তব্য করেছিলেন, ইরাকে শাসক পরিবর্তন করাই ছিল আক্রমণের লক্ষ্য। তখন আমি সেটা মানতে চাইনি। গভীর দুঃখ ও ক্রোধের সাথে আমি এই ভুল স্বীকার করছি। আর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রধান অভিযোগটা ছিল পার্লামেন্টকে ভুল তথ্য পরিবেশন করা। মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে ইরাকের লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা ও আশ্রয়হীন করাটা অপরাধ নয়। সংসদকে মিথ্যা তথ্য পরিবেশনটা অপরাধ। টনি ব্লেয়ার একটি মৌখিক ক্ষমা প্রার্থনা ও ভুল স্বীকার করে রেহাই পেলেন। আহারে গণতন্ত্র।

কিন্তু কথা হল, পেট্রোডলার ইতিমধ্যেই মারা যাচ্ছে। ইউক্রেনের যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়া রুবেল ও ইউয়ানে তেল বিক্রি করছে। সৌদি আরব প্রকাশ্যে ইউয়ান সেটেলমেন্ট নিয়ে আলোচনা করছে। ইরান বছরের পর বছর ধরে নন-ডলার মুদ্রায় বাণিজ্য করছে। চীন CIPS তৈরি করেছে, যা SWIFT-এর বিকল্প, ১৮৫টি দেশে ৪,৮০০টি ব্যাঙ্ক রয়েছে। BRICS সম্পূর্ণভাবে ডলার এড়িয়ে পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করছে। ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে ভেনেজুয়েলা BRICS-এ যোগ দিলে এই প্রক্রিয়া দ্রুত ত্বরান্বিত হবে। এই আক্রমণের আসল উদ্দেশ্য এটাই। চীন ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। ফলে, আমেরিকা বিলিয়ন ডলার হারাচ্ছে। ডি-ডলারাইজেশনে আগ্রহী প্রতিটি জাতিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে-- ডলারকে চ্যালেঞ্জ করলে আমরা বোমা ফেলব। 

এর সম্ভাব্য ফল কী হতে পারে? 

প্রথম সম্ভাবনা, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। তাদের 'ভেনেজুয়েলায় যাওয়া' সম্পর্কে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিরোধী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তেল আবার ডলারে প্রবাহিত হবে। ভেনেজুয়েলা আরেকটি ইরাক, আরেকটি লিবিয়া হয়ে উঠবে। 

দ্বিতীয় সম্ভাবনা, যখন চীনের প্রতিশোধ নেওয়ার্ মতো যথেষ্ট অর্থনৈতিক লিভারেজ থাকবে, যখন BRICS বিশ্বের ৪০ শতাংশ জিডিপি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং বলবে 'আর ডলার নয়', যখন বিশ্ব বুঝবে যে পেট্রোডলার বজায় থাকে সহিংসতার জোরে। কারণ, এই আক্রমণ প্রমাণ করে যে, ডলার নিজের যোগ্যতায় আর টিঁকে থাকতে পারছে না। যখন আমেরিকাকে মুদ্রা বজায় রাখতে গেলে দেশগুলিকে বোমা মারতে হয়, তখন সেই মুদ্রা মৃত্যুপথযাত্রী। নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। 

তৃতীয় সম্ভাবনা, ট্রাম্পের এই বার্তা ডি-ডলারাইজেশনকে থামানোর পরিবর্তে ত্বরান্বিত করতে পারে। কারণ এখন গ্লোবাল সাউথের প্রতিটি দেশ জানে, ডলারের আধিপত্যকে হুমকি দিলে কী হয়। এবং তারা বুঝতে পারছে যে একমাত্র রক্ষা হল দ্রুত এগিয়ে যাওয়া। কারণ, পরিস্থিতিটা যখন 'এগোলে মরতে হবে, পিছোলে মারা পড়বে', তখন এগিয়ে মরাই বাঞ্ছনীয়। 


ঋণ স্বীকার: পার্থ সারথি। 

#Venezuela twitter handle Ricardo @RIC_rtp


1 comment:

  1. 🛢️ পেট্রোলের ডি-ডলারাইজেশন
    • সংজ্ঞা: ডি-ডলারাইজেশন মানে হলো তেল বাণিজ্যকে মার্কিন ডলার থেকে সরিয়ে চীনা ইউয়ান, রাশিয়ান রুবল বা ভারতীয় রুপির মতো অন্যান্য মুদ্রায় স্থানান্তর করা।
    • পটভূমি: ১৯৭০-এর দশক থেকে পেট্রোডলার সিস্টেম নিশ্চিত করেছে যে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ও বাণিজ্য ডলারে নির্ধারিত ও পরিচালিত হবে, যা মার্কিন অর্থনৈতিক আধিপত্যকে শক্তিশালী করেছে।
    • সাম্প্রতিক প্রবণতা:
    • কিছু তেল বাণিজ্য ইউয়ান ও রুবলে নিষ্পত্তি হয়েছে।
    • ব্রিকস দেশগুলো বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ডলারের আধিপত্য এখনও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।
    • চ্যালেঞ্জ:
    • বৈশ্বিক পেমেন্ট সিস্টেমগুলো ডলার-কেন্দ্রিক।
    • তেল উৎপাদক ও ক্রেতারা স্থিতিশীলতা ও তরলতার কারণে এখনও ডলারকেই পছন্দ করেন।
    • কৌশলগত প্রভাব:
    • ডলার থেকে গুরুতরভাবে সরে আসা মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে হুমকির মুখে ফেলে।
    • রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে পেট্রোডলারকে রক্ষা করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়।

    ভেনেজুয়েলা দখল
    • ঘটনা: জানুয়ারি ২০২৬-এ মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। অভিযানটি গ্যাং ও মাদক-চক্রকে লক্ষ্যবস্তু করার নামে পরিচালিত হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন আসল লক্ষ্য ছিল তেল।
    • তেলের প্রেক্ষাপট:
    • ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে।
    • রাষ্ট্রায়ত্ত PDVSA পূর্বে বিদেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল, যা মার্কিন ও ইউরোপীয় প্রবেশাধিকার সীমিত করেছিল।
    • মার্কিন কৌশল:
    • প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযানের কয়েক সপ্তাহ আগে তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার জন্য প্রস্তুত হতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
    • এই দখল মার্কিন কোম্পানি যেমন শেভরনকে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
    • বিশ্বব্যাপী প্রভাব:
    • বিদেশি কোম্পানিগুলোকে এখন ভেনেজুয়েলায় কাজ করতে মার্কিন অনুমোদন নিতে হবে।
    • তেল রপ্তানি স্থবির হয়ে আছে, তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।
    • এই পদক্ষেপকে ব্যাপকভাবে পেট্রোডলার সিস্টেম রক্ষার জন্য ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ন্ত্রণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
    ঝুঁকি ও সমঝোতা
    - ডি-ডলারাইজেশন: প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার কারণে বাস্তবায়ন কঠিন; মুদ্রার অস্থিরতার ঝুঁকি রয়েছে।
    - ভেনেজুয়েলা দখল: সার্বভৌমত্ব ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তেল শোষণ স্থিতিশীলতা আনবে নাকি আরও অস্থিরতা তৈরি করবে তা অনিশ্চিত।
    - বিশ্ব তেল বাজার: উভয় প্রবণতাই দেখায় যে তেল ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রে রয়ে গেছে—মুদ্রার আধিপত্য ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ গভীরভাবে জড়িত।
    (Analised by AI)

    ReplyDelete