ইতিহাস নিয়ে চূড়ান্ত কদাচার
প্রবুদ্ধ বাগচী
নিজের মাত্র পনেরো বছর বয়সে (১৮৫৩) বঙ্কিমচন্দ্র ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় কবিতা লিখে কুড়ি টাকা মূল্যের একটি পুরস্কার পান। এর বছর তিনেক পরে প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’ (১৮৫৬)। সেখানে কিশোর বঙ্কিম তার বয়সোচিত আবেগে অদেখা প্রেয়সীর উদ্দেশে লেখেন ‘অঙ্গের চন্দন তুমি, পাখার ব্যজন,/ কুসুমের বাস।/ নয়নের তারা তুমি, শ্রবণেতে শ্রুতি,/ দেহের নিশ্বাস।’ — ওই বয়সের পক্ষে এমন লিবিডো-প্রবণতা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে এর পরে ভদ্রলোক আর কবিতা নিয়ে তেমন উৎসাহী থাকেননি।
তাঁকে আবার কবিতায় পেল চল্লিশ ছুঁইছুঁই বয়সে। তখন তিনি নামী লেখক, উঁচুস্তরের সরকারি আধিকারিক। সেই সময়েই হাত মক্সো করতে করতে টেবিলের ওপর পড়ে থাকা একটি অলস পৃষ্ঠায় লিখলেন ‘বন্দেমাতরম’ কবিতাটি (১৮৭৫) এবং পছন্দ না হওয়ায় সেটিকে ফেলে রাখলেন বাতিল লেখার ঝুড়িতে। ওই লেখা বিদগ্ধ পড়ুয়া ও সাহিত্যমনস্ক বঙ্কিমের পছন্দ হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ, ততদিনে বাংলা কবিতায় এসে গেছেন মধুসূদন দত্ত নামের এক প্রবল প্রতিভাধর কবি, ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ লেখা হয়ে গেছে এর চোদ্দ বছর আগে, প্রকাশিত হয়েছে মাইকেলের একের পর এক বিদ্যুৎবহ্নি। আনুমানিক ১৮৭৫ সালে নিছক দেশমাতৃকাকে ‘মা’ হিসেবে সম্বোধন করে মূলত তাঁর বন্দনাভাষ্য, বিষয় হিসেবে একেবারেই খেলো। তাও ‘দেশমাতা’ শব্দটি এখানে ব্যবহার করা যাবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে, কারণ, উনিশ শতকের শেষ পাদে বাংলায় জাতীয়তাবোধের চেতনা ঠিক কতখানি পেকে উঠেছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের যথেষ্ট সংশয়। বঙ্কিম তখন ‘বঙ্গদর্শন’-এর খ্যাত সম্পাদক, যে পত্রিকার গুণেমানে বাংলার মনীষা মুগ্ধ। ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার ‘ছাপাখানার পণ্ডিত’ বঙ্কিমকে বলেছিলেন, ওই এলেবেলে লেখাটি পত্রিকার ফাঁকা জায়গা ভরানোর পক্ষে ‘মন্দ নয়’। কার্যত তাও করা হয়ে ওঠেনি বঙ্কিমের। পরিবর্তে তিনি এর বছর কয়েক পরে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস প্রকাশের সময় তার দশ নম্বর পরিচ্ছেদে এই কবিতাটা জুড়ে দিলেন (১৮৮২) — যদিও ভবানন্দ ও মহেন্দ্রর কথোপকথনে সেটাকে ‘গান’ বলা হয়েছে। কবিতা ও গান দুটি আলাদা শিল্পমাধ্যম, যে কোনও কবিতাকে গানের সুরে ধরা যায় না। তাছাড়া বঙ্কিম মাঝারি মাপের কবি হলেও সুরকার নন, ওই লেখা সমকালে সুরারোপিত হয়েছে এমন প্রমাণও তো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলা উপন্যাসের জনক উপন্যাসের মধ্যে কবিতা জুড়ে দিয়ে কিছুটা চমক তৈরি করতেই পারেন। সচরাচর আখ্যানের মধ্যে গান বা কবিতা থাকে না।
এইসব আলোচনা থেকে একটা সত্যি উঠে আসে যে, এই বছরটি ‘বন্দেমাতরম’ গানের ১৭৫ বর্ষ আদপেই নয়। কারণ, গান হিসেবে এটিতে প্রথম সুর দেন রবীন্দ্রনাথ (১৮৯৬) ও সেই বছরেই জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এটি গাওয়া হয়, তখন বঙ্কিমচন্দ্র আর জীবিত নেই। তার মানে ‘গান’ হিসেবে এই লেখার বয়স অন্তত আরও একুশ বছর কম।
‘বন্দেমাতরম’এর বাধ্যতামূলক গায়ন নিয়ে সাম্প্রতিক যে সরকারি ফরমান, মৌলিকভাবেই তা ইতিহাসের তথ্যের সঙ্গে মেলে না। আর সেই সূত্রেই গানের প্রতি বাড়তি ‘শ্রদ্ধা ও সহবত’ দেখানোর কথা বলা হলে সেখানেও গোড়ায় গলদ ও অভিসন্ধি। গলদ এই কারণে যে, দেশের ইতিহাস নিয়ে চূড়ান্ত কদাচার করতে কেন্দ্রের শাসক দলটির জুড়ি মেলা ভার। আর অভিসন্ধি এই কারণে, প্রতিটি ইতিহাস-বিকৃতিকেই তারা তাদের ভেদবুদ্ধির রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে। বিগত রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের (২০২১) কাছাকাছি সময়ে তাঁর ‘মন কি বাত’ আসরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি নাকি ছেলেবেলায় ভোর চারটে থেকে রেডিওয় গুরুদেবের গান শুনতেন। আকাশবাণীর সঙ্গে যারা আশৈশব যুক্ত তাঁরা জানেন, কোনওকালে ভোর চারটেয় আকাশবাণীতে রবীন্দ্রনাথের গান বাজানো হত না, কার্যত তাদের প্রভাতী অধিবেশন শুরুই হত সকাল ছটায়। প্রাকৃত বাংলায় একে বলে 'কাঁচা ঢপ'।
বাঙালি হিসেবে এটা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আগে আমরা খেয়াল করছি, বসন্ত-সমাগমে এই প্রদেশে সর্বস্তরের ভাজপা নেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায় শুধু নয়, নানান বাঙালি মনীষা সম্বন্ধে তাঁদের আবেগ ও উৎসাহ উথলে ওঠে। এটা আসলে তাঁদের একরকম নার্ভাসনেস। বাংলার ঘরে ঘরে যতই তাঁরা ভ্রমরের মতো গুনগুনিয়ে ঘুরে বেড়ান, তাঁদের ডিএনএ'তে বাংলা বিদ্বেষের ডাবল হেলিক্স, ফলে, বাংলার নবজাগৃতির মনীষাদের তাঁরা রীতিমতো সন্দেহের চোখেই দেখেন। স্বাভাবিক, কারণ সঙ্ঘমনস্ক কালো পাথরে উদার চেতনার কোনও খোদিত বর্ণমালা নেই। তাঁদের এক মুখ রাজা রামমোহনকে ‘ব্রিটিশের দালাল’ বলে আর অন্য মুখ বিদ্যাসাগরকে অতিভক্তি দেখাতে গিয়ে তাঁর প্রস্তরমূর্তি ভেঙে ফেলে। অধুনা মার্কিন দেশবাসী এক কলকাত্তাইয়া সঙ্ঘ-সদস্য বছর কয়েক আগে তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, সত্যি সত্যি আরএসএস বাংলার উন্নত অসাম্প্রদায়িক চেতনাবহ হিসেবে বন্দিত মানুষগুলিকে কোন চোখে দেখে থাকেন। কিন্তু ভোট বড় বালাই। তাই তাঁদের এবারের কর্মসূচি একটি গানকে ঘিরে, যে গান বাঙালির দৃপ্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজমন্ত্র হিসেবেই নির্মিত। যে আজাদির লড়াইয়ে তাঁরা কুটো ভেঙে দুটো করেননি, এই গান নিয়ে কথা বলার কোনও নৈতিক অধিকার আরএসএস'এর থাকতেই পারে না। কিন্তু কবে আর তাঁরা নৈতিকতার পাদ্যর্ঘ নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন! বরং বাংলার মন জয় করতে বাংলার মহাপুরুষদের জ্যোতির্বলয় নিজেদের শরীরে টেনে ভেক ধরেছেন মহাত্মার।
‘বন্দেমাতরম’ গানটি নিয়ে তাঁদের এত সক্রিয়তার কারণ কী? কারণ দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। গানটির অ-গীত অংশটি নিয়ে একটা পুরনো বিতর্ক ছিল, আজ আর যার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। কাহিনিটা আমরা সবাই জানি। স্বাধীনতার সুদীর্ঘ লড়াইয়ে এই গানের (মূলত প্রথম স্তবক) একটা আবেদন ছিল এবং ‘বন্দেমাতরম’ শব্দটি উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাভাগ-বিরোধী আন্দোলনের সমকালে বিপিনচন্দ্র পাল ‘বন্দেমাতরম’ শিরোনামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক (১৯০৫) ও পরে দৈনিকপত্র (১৯০৬) প্রকাশ করেন, পরে যার সম্পাদনার দায়িত্বে আসেন অরবিন্দ ঘোষ। সেই কাগজ এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে অত্যন্ত অল্প সময়ে তার সব কপি নিঃশেষ হয়ে যেত। এইসব গুরুত্ব মাথায় রেখে গানটিকে ‘জাতীয় গীতি’ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে তার প্রথম দুটি স্তবক যে গাওয়া হবে এটা অনুমোদন করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। কারণ, এর পরের স্তবকগুলিতে গানের মূল আবেদন সরে গেছে স্পষ্ট হিন্দু পৌত্তলিকতার দিকে। শিল্পগত বিচারে যেমনই হোক, এটা ঠিক, আধা-বাংলা আধা-সংস্কৃতে লেখা গানের প্রথম দুটি স্তবক উচ্চারণ করতে হিন্দু-মুসলমান কারওরই আপত্তি থাকতে পারে না। কেউ আপত্তি করেছিলেন এমনও নয়। পরাধীন ভারতের শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক মনীষা রবীন্দ্রনাথ তাঁর শৈল্পিক বোধে এটকু বুঝেছিলেন। কিন্তু আজকের ফরমানটি ঠিক এইখানেই কটু গন্ধের উদ্রেক করে।
গত দেড় দশকে ইতিহাসের যা-কিছু বিতর্ক সবকিছুকে জড়িয়ে নেওয়া হয়েছে ভাজপার রাজনৈতিক ভাষ্যে, কার্যত যার কোনও প্রাসঙ্গিকতা আর নেই। ঔরঙজেব কটা মন্দির ভেঙ্গেছেন, শিবাজি কীভাবে মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, অমুকে কী বলেছিলেন, তমুকে কী করেছিলেন, এগুলো অ্যাকাডেমিক চর্চার বিষয় হতেই পারে, আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক চর্চার নয়। এটা আসলে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির এক চেনা কাঠামো। উত্তর-দক্ষিণ-পুবে-পশ্চিমে তাঁদের একটা ‘অন্য সত্তা’র নির্মাণ না-করলে চলে না। তাই দেশজোড়া বেকারি, মার্কিনীদের অর্থনৈতিক চোখ রাঙানি, প্রতিটি প্রান্তীয় মানুষের জীবিকার অনিশ্চয়তা, কৃষিক্ষেত্রে সংকট, দানবিক শ্রম কোডের তলায় চাপাপড়া শ্রমিক এবং এই রাজ্যে এসআইআর'এর মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের বেনাগরিক করার সমবায়ী প্রয়াসের ভিতর আচমকা তাঁরা খুঁড়ে বের করেছেন ‘বন্দেমাতরম’ গানের অবশিষ্ট তিনটি স্তবক। ঠিক যেভাবে পাঁচশো বছরের মসজিদের নীচে পাওয়া গিয়েছিল বালক রামকে। এটা একটা পরিচিত নকশা। কারণ, এতদিন বাদে একটা মাঝারি মানের লেখার স্মরণিকা হিসেবে বলা হচ্ছে গোটা গানটাই নাকি সবাইকে গাইতে হবে। হলফ করেই বলা যায়, এই নির্দেশে যারা সীলমোহর দিচ্ছেন তাঁরা নিজেরা পুরোটা পড়েননি ও গাইতেও পারবেন না। কিন্তু একটা দেশজোড়া বিতর্ক ও তক্কাতক্কি তো হবে আর সেই সুযোগে বলা হবে, দেখুন দেশ বিরোধীরা কেমন হল্লা বাঁধিয়েছেন!
দেশপ্রেম বিষয়টা প্রতিটা নাগরিকের কাছে আলাদা আলাদা আর বাইরে থেকে গান শুনিয়ে বা গানের প্রেসক্রিপশন দিয়ে তাকে জাগানো যায় না। সরকারি নির্দেশে যাই লেখা থাকুক, আমরা কেউই নিজেদের দেশপ্রেম পরখ করে নেওয়ার জন্য অবসর সময়ে ‘বন্দেমাতরম’ গাই না। সরকারি অনুষ্ঠানে বিধি মেনে জাতীয় গীতি বা ইদানিং রাজ্য-সঙ্গীত ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হলে তাকে উপযুক্ত সম্মান জানাই। বৃটিশ-বিরোধী সংগ্রামে এই একটি নয় আরও অনেক গানেরই উদ্দীপক ভূমিকা ছিল। তার মানে এই নয় যে বিপ্লবীরা সদা-সর্বদাই গান গাইতেন। পুলিশি চোখকে ফাঁকি দিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম সুগঠিত করার জন্য বরং তাঁদের নিঃশব্দেই চলাফেরা করতে হত। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরে তাঁদের তুলনাহীন আত্মত্যাগ, বীর্যবান সাহস ও দীপ্ত প্রতিবাদ এখনও আমাদের মতো সাধারণ নাগরিকদের যতটা উদ্দীপ্ত করে রাজনীতির কারবারিদের নয়। গত কয়েক দশকে তাঁরা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন এঁদেরই সামনে রেখে। স্বাধীনতা আন্দোলনে মূলগতভাবে যারা সাম্রাজ্যবাদের শিবিরে ছিলেন এবং স্বাধীন দেশকে ‘উপহার’ দিয়েছেন প্রথম সন্ত্রাসবাদী (নাথুরাম গড্সে), তাঁদের কলমের খোঁচায় ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে অতিভক্তি আসলে আমাদের চেনা প্রবাদবাক্যটিকেই স্মরণ করায়।
গান হিসেবে আমরা যারা রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকার বহন করি, তাঁরা জানি ‘বন্দেমাতরম’ গানটির ব্যঞ্জনা যত প্রবলই হোক বাংলার মুক্তিসংগ্রামে রবীন্দ্রনাথ ও আরও অনেকের লেখা গানও কী সুতীব্র ও অন্তর্ভেদী ভূমিকা পালন করেছে যার চেহারা আরও শাণিত ও আধুনিক। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গান ও রাষ্ট্রনৈতিক ভাবনা নিয়ে সঙ্ঘীরা আড়ষ্ট থাকেন, কারণ, তাঁর প্রকাশিত বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি এতটাই ভেদবুদ্ধির ঊর্ধে যে তাঁকে নিয়ে জল ঘোলা করা অসম্ভব। এইখানেই একটি টীকা যোগ করে বলতে চাইব, এই বিষয়ে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকাকে শিথিল করে রেখেছেন। তিনি বাংলা উপন্যাসের পথপ্রদর্শক, তিনি বাংলা গদ্যকে ঈর্ষণীয় উচ্চতায় তুলে এনেছেন, তাঁর সম্পাদিত সাময়িক পত্রে তিনি বেঁধে দিয়েছেন সাহিত্যের সূক্ষ্মতম মীড় আর গমক। কিন্তু তাঁর প্রয়াণের পর সাহিত্যিক থেকে ঋষিতে উত্তরণ আসলে একটি প্রক্রিয়ার অধঃপাত। নিজের কিছু লেখায় তিনি এত বেশি দর্শন-প্রচারক হিসেবে সক্রিয় থেকেছেন যা পরের প্রজন্মের পাঠকের পক্ষে অসোয়াস্তিকর। আজকের এই ‘বন্দেমাতরম’ বিষয়ক বিতর্ক ঘনিয়ে উঠতেই পারে না যদি বঙ্কিম তাঁর লেখায় এই পরিসরটুকু না রাখতেন। ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের বাকি অংশ ছেড়ে যদি এই ‘বন্দেমাতরম’ বিষয়ক অধ্যায়টুকুও আমরা পড়ে দেখি, খেয়াল করব, সেখানে গানটিকে সামনে রেখে ভবানন্দ চরিত্রটির মুখে মুসলমানদের সম্পর্কে এমন সব অবমাননাকর মন্তব্য তিনি বসিয়েছেন যা কালের বিচারেও সমীচীন নয় — এই উপন্যাসের সমকালে বাংলায় অর্ধেক জনসংখ্যা মুসলমান ছিলেন।
দুরাত্মাদের ছলের অভাব হয় না। ইতিহাসের মহানায়করা যদি নিজেদের অবস্থানে বিপজ্জনক ফাঁক রেখে দেন তাহলে সভ্যতার সংকটে তাঁরা যে ভুল ভাবে ব্যবহৃত হতে পারেন, এটা তারই একটা উদাহরণ। মহাপুরুষের উক্তিগুলি কেবল কোলাহল করে না, কখনও কখনও বিষবৃক্ষেরও লালন করে।








